গাজায় ইসরাইলের অবরোধ চ্যালেঞ্জ করতে নতুন আন্তর্জাতিক মিশন শুরু করেছে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) । অক্টোবর মাসে গাজার উপকূলে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে থামছে বহরের জাহাজগুলো।
এফএফসি জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর হাতে অতীতে ফ্লোটিলার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মারধর, টেজার ব্যবহার ও যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনার পরও এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। সংগঠনটির দাবি, গাজায় মানবিক সংকট অব্যাহত থাকায় এখনই আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে যাত্রা শুরু করেছে। হানজালা-২ জুন-জুলাইয়ে নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্কের বিভিন্ন বন্দরে যায়। অন্যদিকে কেট জাহাজটি চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল থেকে যাত্রা করে আয়ারল্যান্ড, জার্মানি ও ফ্রান্সে পৌঁছেছে। সামনে স্পেন, পর্তুগাল ও ইতালিতে থামার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্লোটিলায় মানবাধিকারকর্মী, শান্তিকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও ফিলিস্তিনপন্থি অধিকারকর্মীরা অংশ নিয়েছেন। সংগঠনটি ফ্লোটিলার নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা, গাজায় খাদ্য-পানি-ওষুধ প্রবেশে বাধা বন্ধে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং জাহাজে হামলা বা জব্দের ঘটনায় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
এফএফসি বলছে, ২০১০ সালের মাভি মারমারা ঘটনার পরও ফ্লোটিলার ওপর ইসরাইলি বাধা ও আটক অব্যাহত রয়েছে। গত এক বছরে গাজামুখী নৌযাত্রায় শত শত কর্মীকে আটক করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অভিযোগ, আটক কর্মীদের ঘুম থেকে বঞ্চিত করা, পানি ও চিকিৎসা না দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজার ৮২ শতাংশের বেশি পরিবার এখনো নিরাপদ পানির সংকটে রয়েছে এবং পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সূত্র: আল জাজিরা
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


