পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে নিরাপত্তাহীনতা

পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে নিরাপত্তাহীনতা
আমার দেশ গ্রাফিক্স

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে দেশের আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। কমেছে খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, মব সহিংসতা এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বেড়েছে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, চুরি ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের প্রতিবেদন ও পরিসংখ্যানে যাই থাকুক, সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপদ বোধ করছে না। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ে জনমনে স্বস্তি নেই। সব সময় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কাটছে তাদের সময়। এমনকি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-রংপুর লংমার্চ কর্মসূচিতে অন্যান্য দাবি-দাওয়ার মধ্যে ‘চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন’ গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশনস শাখা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এতে দেশের আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলা হয়েছে, ভঙ্গুর রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। মব সন্ত্রাস, নারী ও শিশু নির্যাতন, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও হত্যার মতো অপরাধে রাষ্ট্র যখন বিপর্যস্ত, ঠিক ওই মুহূর্তে দায়িত্ব গ্রহণ করে সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেয়।

এর মধ্যে পুলিশের হারানো মনোবল পুনরুদ্ধার, বিশেষ অভিযান চালানো, চাঁদাবাজ ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, অবৈধ অস্ত্র ও পুলিশের খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার উল্লেখযোগ্য। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব পরিকল্পনা কার্যকর করার ফলে ছয় মাসের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সময়ের তুলনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে খুন হয়েছে ২৬০৭টি। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত খুন হয়েছে ২৩৩২টি।

অর্থাৎ খুনের ঘটনা আগের বছরের তুলনায় ২৭৫টি কম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নির্দেশ করে।

গত বছরের জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে নারী শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ১১ হাজার ২৬৯টি আর চলতি বছরের একই সময়ে ঘটে ৯৩৪৭টি। আগের বছরের তুলনায় নারী শিশু নির্যাতনের ঘটনা ১৯২২টি কমেছে।

ধর্ষণের তুলনামূলক চিত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আট মাসে রেকর্ড হয়েছে ৪৬৬৬টি, আর চলতি বছরে রেকর্ড হয়েছে ৪৪৭২টি। এ বছরের প্রথম আট মাসে ধর্ষণের ঘটনা ১৯৪টি কম রেকর্ড হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে মবের ঘটনা ছিল ৮৯টি আর ২০২৬ সালে সেটা রেকর্ড হয়েছে ৫৬টি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সহিংসতার ঘটনা ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে ছিল ৯৯৯টি আর ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে রেকর্ড হয়েছে ১৬৩টি। প্রতিবেদনে মাসভিত্তিক তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্লেষক মহল বলছেন, চলতি বছরে খুনের ঘটনা পুলিশের পরিসংখ্যানে কম দেখানো হলেও ঘটনার বর্বরতা ও ভয়াবহতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের কারণে সেগুলো জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে মানুষ নিজেকে নিরাপত্তাহীন ভাবছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনোভাবেই জনমনে স্বস্তি ফিরছে না।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা (৭) হত্যাকাণ্ড এবং ২১ মে চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ফারিয়া (৪) ধর্ষণের ঘটনা দেশের মানুষকে নাড়া দেয়। এছাড়া রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের হত্যাকাণ্ড নাগরিকদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি করে।

গত ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা, ২৫ জুলাই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় স্বপন দাশগুপ্ত ও তার স্ত্রী কল্পনা দাশগুপ্ত হত্যার ঘটনাও নাড়া দেয় মানুষকে। এছাড়া গত ১২ আগস্ট সিলেটের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার, স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা খুন হন। গত ৮ মে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক পরিবারের পাঁচজন খুনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায়।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আদাবরে হাত ও গলাকাটা অবস্থায় এক ব্যক্তির ১০ টুকরা লাশ উদ্ধার করা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের মধুখালীর বোয়ালিয়ায় এক ব্যক্তির ছয় টুকরা লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যা করা হয়। এই ঘটনাটি দেশের মানুষকে নাড়া দেয় এবং শিশুদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ করে। একই দিন মেসে ‘ভাত চুরি করে খাওয়া’র মতো ঠুনকো অভিযোগ এনে খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি প্রথম বর্ষের ছাত্র আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

এছাড়া গত ২ আগস্ট ময়মনসিংহে কাস্টমস কর্মী রাকিব রায়হান তালুকদারের টুকরো টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ১১ এপ্রিল কুমিল্লায় সহকারী কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ড, ১৬ সেপ্টেম্বর পাবনায় শিশু কামরুন্নাহার কলি (১০) হত্যাকাণ্ডসহ বেশকিছু লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড দেশবাসীকে আতঙ্কিত করে তোলে।

গত ২৯ আগস্ট ঢাকায় চিকিৎসা নিতে আসা বগুড়ার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে মারা যান। গত ৫ সেপ্টেম্বর সাভারে পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একই দিন রাজধানীর শনিরআখড়ায় আসমান খান নামে এক ব্যবসায়ীকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

গত ৪ সেপ্টেম্বর টাকা ছিনতাইয়ের পর ইসমাইল নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করে লাশ এক্সপ্রেস ওয়েতে ফেলে যাওয়া হয়। গত ৯ আগস্ট উত্তরায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি ছিনতাই হয়। ৩১ আগস্ট ধানমন্ডিতে ব্যাংক থেকে ৩৯ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার সময় মোটরসাইকেলে এসে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এছাড়া মোবাইল ফোন ছিনতাই, মানিব্যাগ ছিনতাই, মহিলাদের ভ্যানিটি ব্যাগসহ দামি সরঞ্জাম ছিনতাইয়ের ঘটনা তো রেকর্ড বেড়েছে। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ থানায় গিয়ে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জিডি করছে। বেড়েছে চুরি, সিঁধেল চুরি ও ছিঁচকে চুরিও। জানুয়ারি থেকে জুন ছয় মাসে ২৬৪টি ডাকাতির মামলা হয়েছে বিভিন্ন থানায়। একই সময়ে দস্যুতার মামলা হয়েছে ৯০৭টি। পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, চাঁদাবাজি ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে চাঁদাবাজির ঘটনাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে। সব মিলিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাধারণ মানুষ।

অপরদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নানামুখী অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ঝটিকা মিছিল, বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো, বাস ও ট্রেনে আগুন দেওয়াসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েও জননিরাপত্তাকে হুমকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও কোনো এলাকায় মিছিল, বোমা বর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের পর পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি থাকায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েক কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে শাস্তিমূলক বদলিও করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা আমার দেশ-এর সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘আমার বাসা মগবাজার এলাকায়। আগে সন্ধ্যায় রমনা পার্কে হাঁটতে যেতাম, এখন ছিনতাইকারীর ভয়ে যাই না। ভোরের ঢাকায় এখন ছিনতাই হয় বেশি, সে কারণে সকালেও যাওয়ার সাহস পাই না।’

তিনি আরো বলেন, শিশু বাচ্চারা বাসার নিচে একাকী খেলতে যাবে, সেটাও এখন নিরাপদ নয়। সারাক্ষণ ভয়ভীতি আর নিরাপত্তাহীনতা তাড়া করছে।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা মারাত্মক সব অপরাধের ঘটনার রহস্য দ্রুততম সময়ে উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পেরেছি। আর যেগুলো সময়সাপেক্ষ, সেগুলো তদন্তের পরে দেখা যাবে যে, কতটুকু অগ্রগতি করতে পেরেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ জঘন্য যেসব অপরাধ ঘটছে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণে সমাজের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশের মুখপাত্র এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন আমার দেশকে বলেন, ‘পরিসংখ্যানগত দিক হলো বাস্তবতা। আর ‘নিরাপত্তাহীন’ থাকার বিষয়টি ধারণা বা দৃষ্টিভঙ্গি। তুলনামূলক পরিসংখ্যান বলছে—বাস্তবেই আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। কিন্তু যখনই দেশে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে, তখন সেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপকহারে প্রচার হচ্ছে। এর থেকে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয় ছড়াচ্ছে। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে দিচ্ছে। মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবতা দুটো ভিন্ন জিনিস। আমরা পরিষ্কারভাবেই বলতে পারি, আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।’

পুলিশের প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে, বাস্তবে মানুষ নিরাপত্তাহীন। এই অবস্থা কেনÑজানতে চাইলে সামাজিক অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফাতেমা রেজিনা ইকবাল আমার দেশকে বলেন, ‘পুলিশের পরিসংখ্যানে অপরাধের সূচক কম হলেও মানুষের নিজেকে নিরাপত্তাহীন ভাবার অনেক কারণ আছে। তারা মনে করছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। দেশে জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। তার তুলনায় পুলিশ অনেক কম। নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে খুব বেশিদিন হয়নি। তারা চেষ্টা করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ চেষ্টা করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার। কিছুটা পরিবর্তনও এসেছে।

তিনি আরো বলেন, শুধু পুলিশ দিয়ে আইনশৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। জনসাধারণকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আইন মেনে চলার সংস্কৃতি মানতে হবে। এতে ধীরে ধীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। যেসব লোমহর্ষক অপরাধ ঘটছে, সেগুলোর সঠিক ও দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা গেলেই মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে। এতে লোমহর্ষক অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি ফিরবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন