ডিএমপি কমিশনার নিয়োগ

‘মাই ম্যান’ পদায়ন নিয়ে তিন গ্রুপের শীতল যুদ্ধ

আল-আমিন

‘মাই ম্যান’ পদায়ন নিয়ে তিন গ্রুপের শীতল যুদ্ধ

নতুন আইজিপি ও র‌্যাবের ডিজি পদায়ন হওয়ার পর পুলিশের হেভিওয়েট বিভাগ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন অভিভাবক কে হবেন, তা নিয়ে পুলিশ বাহিনীতে চলছে বিস্তর আলোচনা। সবাই নিজস্ব বলয়ের কর্মকর্তাকে পুলিশের অন্যতম প্রভাবশালী এ পদে দেখতে চাইছেন। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিগগির নতুন মুখ দেখা যাবে এ বিভাগে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পান আলী হোসেন ফকির, পরদিন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত কমিশনার (সুপার নিউমারারি অতিরিক্ত আইজিপি) মো. সরওয়ার। তিনি এর আগে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এক মাস ছয় দিন ধরে তিনি ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেড় মাস পর তিনি নিয়মিত অবসরে যাবেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সাজ্জাত আলীর অবসর যাওয়ার পর নতুন কমিশনারের পদায়ন পেতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ লক্ষ করা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে তাদের আনাগোনা বেড়েছে। এসব কর্মকর্তা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রত্যাশিত পদায়ন ও পদোন্নতি না পাওয়াসহ আরো অনেক বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করছেন।

নতুন ডিএমপি কমিশনার পদে এখন পর্যন্ত দুজন এগিয়ে আছেন। তারা হলেন, পুলিশ কাডারের ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ও রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান এবং পুলিশ ক্যাডারের ১৭ ব্যাচের কর্মকর্তা র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মো. ফারুক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের এক অতিরিক্ত ডিআইজি গতকাল মঙ্গলবার জানান, ডিএমপি কমিশনার পদায়ন প্রায় চূড়ান্ত। খুব শিগগিরই ডিএমপি কমিশনার পদে পদায়ন হবে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান আইজিপি ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা। খোদ পুলিশের ভেতরেই আলোচনা রয়েছে, তিনি ডিএমপি কমিশনার হিসেবে তার জুনিয়র ব্যাচের একজন কর্মকর্তাকে চান। আবার ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তারা চাচ্ছেন পুলিশের সবচেয়ে হাইপ্রোফাইল বিভাগের প্রধান তাদের ব্যাচ থেকে হোক। এতে পদায়নের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছে। আবার বিগত ১৫ বছরে পুলিশের মধ্যে বঞ্চিত ও বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া পক্ষটি ডিএমপি কমিশনারে পদায়নে বিভিন্ন স্থানে তাদের নিজস্ব অভিব্যক্তি তুলে ধরছেন।

এক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন মো. কোহিনুর মিয়া। ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন ডিএমপি কমিশনার হওয়ার জন্য আগ্রহীরা বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তারা নিজেদের বায়োডাটা সংশ্লিষ্ট মহলে বিস্তারিত আকারে তুলে ধরছেন।

পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ডিএমপি পরিচালনার জন্য একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ অফিসার খুঁজছে সরকার। ডিএমপিতে প্রায় ৩২ হাজার পুলিশ সদস্য কর্মরত। এছাড়া রাজধানী ঢাকার অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখা ডিএমপি কমিশনারের জন্য প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকে। সেদিক বিবেচনা করে ডিএমপিতে নতুন কমিশনার নিয়োগ দেবে সরকার।

সূত্র জানায়, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আগামী দিনের মাঠের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সরকারকে সহযোগিতা করতে পারেন—এমন একজন আস্থাভাজন ডিএমপি কমিশনার খুঁজছে বর্তমান সরকার। তবে ডিএমপির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার দেড় মাস পর অবসরে যাবেন। এই দেড় মাসের মধ্যে ডিএমপিতে নতুন কমিশনার পদায়ন না-ও হতে পারে।

ডিএমপি কমিশনার কবে পদায়ন হতে পারে বিষয়টি জানার জন্য আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোবাইলে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন