দল থেকে অব্যাহতি

নেত্রকোণায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নেত্রকোণায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। ছবি: আমার দেশ

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে (১০ম শ্রেণি) দীর্ঘ সময় ধরে ব্ল্যাকমেইল ও দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাবেক সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষণের মামলায় আসামি হওয়ার পর বুধবার রাতে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার কারণে তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান জানান, স্থায়ী বহিষ্কারের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে থাকায় আপাতত তাকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় (২০২২ সালের ২০ নভেম্বর) স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি নেতা বকুল মিয়া চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্ন সময়ে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ করা হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার এক নারী সহযোগী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানে বকুলের নেতৃত্বে অন্য লোকদের দিয়েও তাকে ধর্ষণ করানো হয়। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এই নির্যাতন অব্যাহত থাকে। গত ১ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা পরিবারের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করালে ভুক্তভোগী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। ২৫ আগস্ট সে বাড়ি ফিরে পরিবারকে সব খুলে বলে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেপ্তার করে। বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন