দেশের রাষ্ট্রীয় জলযান সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) বিদেশি জাহাজের ওপর থেকে নির্ভরতা কমাতে মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটি পূর্ণতা পেলে সমুদ্র কাঁপাবে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২৫ নতুন জাহাজ। এর মাধ্যমে বিশ্ব সমুদ্র বাণিজ্যে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজের আধিপত্য আরো বাড়বে। বর্তমানে বিএসসির বহরে জাহাজের সংখ্যা সাতটি। পণ্য পরিবহনে এসব জাহাজ বিভিন্ন দেশে চলাচল করছে। বিএসসির দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, বিএসসি তাদের অপারেশনাল ইতিহাসে স্বর্ণযুগ পার করছে। ৫২ বছরের ইতিহাসে সংস্থাটি চলতি অর্থবছরে ৮০০ কোটি টাকা ব্যবসা করেছে; যার মধ্যে নিট মুনাফা ৩০৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে নিট আয় ছিল ২৪৯ দশমিক ৬৯ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক রুটে মাত্র সাতটি জাহাজ পরিচালনা করেই ওই টাকা আয় করেছে। আগামী দিনেও এ আয় আরো বৃদ্ধি করতে চায় সংস্থাটি।
বিএসসির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, দক্ষ চার্টারিং ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে বকেয়া পাওনা আদায়েও বিএসসি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। যার ধারাবাহিতায় ইতিমধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে চার্টারারদের কাছ থেকে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা (৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার) আদায় করেছে সংস্থাটি। এছাড়া চীনা সরকারের ঋণে কেনা ছয়টি জাহাজের কিস্তি পরিশোধ শুরু করেছে বিএসসি। ইতিমধ্যে ঋণের ৫৬৭ দশমিক ৪৫ কোটি টাকা অর্থ মন্ত্রণালয়কে পরিশোধ করেছে।
সূত্র জানায়, নৌবহর দ্রুত শক্তিশালী করতে মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএসসি কর্তৃপক্ষ। গত বছরের মধ্যভাগে পাঁচটি নতুন জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া হাতে নেয়। এর মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে দুটি ৬৩,৫০০ ডিডব্লিউটি বাল্ক ক্যারিয়ার। এটি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি। বাকি তিনটি জাহাজ সরকারি ঋণে কেনার কথা, যার জন্য সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে অবকাঠামো বিনিয়োগ সুবিধা সংস্থা (আইআইএফসি)।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় বিএসসি কেবল বাল্ক ক্যারিয়ার নয়, বরং আধুনিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে নজর দিয়ে কাজ শুরু করেছে। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে জিটুজি ভিত্তিতে চারটি জাহাজ—যার মধ্যে দুটি এক লাখ ১৪ হাজার টনের ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার এবং দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার। এছাড়া প্রথমবারের মতো নিজস্ব বহরে ছয়টি আধুনিক সেলুলার কন্টেইনার জাহাজ যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। অনুরূপভাবে, জ্বালানি নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে ছয়টি এলএনজি ক্যারিয়ার এবং বেশকিছু কেমিক্যাল ও প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার কেনার প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা (পিডিপিপি) অনুমোদিত হয়েছে।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, শুধু জাহাজ পরিচালনা খাত নয়; সংস্থাটি তাদের অধীনে থাকা অন্য খাতগুলোকে দক্ষভাবে পরিচালনা করছে। সেখান থেকেও আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছে সংস্থাটি। খুলনায় ১৫ থেকে ১৭ তলাবিশিষ্ট বহুমুখী ভবন নির্মাণ এবং চট্টগ্রামের কৈবল্যধামে ১২ দশমিক ৭৭ একর জমিতে বাণিজ্যিক প্রকল্প গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নাবিকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ‘বিএসসি মেরিটাইম ট্রেনিং সেন্টার’ চালুর মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
এ অভাবনীয় সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক আমার দেশকে বলেন, আমরা এখন বিএসসির ইতিহাসের সেরা সময় পার করছি। রেকর্ড মুনাফা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে নৌবহরে নতুন জাহাজ যুক্ত করতে কাজ করছি। বর্তমানে সাতটি জাহাজ রয়েছে। এর সঙ্গে আরো ২৫টি নতুন যোগ হলে জাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩২টি। এর মাধ্যমে বিএসসির সুদিন ফিরবে, ইনশাআল্লাহ। এছাড়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী চৌকস ও আন্তরিক। তার দিকনিদের্শনা পেলে আমাদের আরো ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, তাদের লক্ষ্য বিশ্বমানের মেরিটাইম সেবা নিশ্চিত করা। যার মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখা আর জাতীয় অর্থনীতিতে বিএসসির অবদান বহুগুণে বাড়িয়ে তোলা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো অটুট: মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য