নতুন দ্বীপ বানাচ্ছে সিঙ্গাপুর, ভবিষ্যৎ শিল্পায়নে শক্তিশালী পরিকল্পনা

নতুন দ্বীপ বানাচ্ছে সিঙ্গাপুর, ভবিষ্যৎ শিল্পায়নে শক্তিশালী পরিকল্পনা

শিল্প, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে নতুন একটি দ্বীপ তৈরির পরিকল্পনা করেছে সিঙ্গাপুর। সমুদ্র থেকে ভূমি পুনরুদ্ধার করে কয়েকটি দ্বীপকে একত্র করে এই নতুন পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বীপ গড়ে তোলা হবে। আগামী কয়েক দশকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং সম্প্রতি ন্যাশনাল ডে র‌্যালিতে এ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। নতুন দ্বীপটি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র জুরং দ্বীপের দক্ষিণে গড়ে উঠবে। পালাউ সেমাকাউ, পালাউ বুকোম ও পালাউ সুদংসহ কয়েকটি দ্বীপকে একীভূত করে এটি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দ্বীপে ভবিষ্যৎ শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য বড় জায়গা পাওয়া যাবে। সেখানে হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, উন্নত উৎপাদনশিল্প এবং বিভিন্ন ধরনের কম-কার্বন জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। এর মাধ্যমে জুরং দ্বীপের শিল্প কার্যক্রমও আরও শক্তিশালী হবে।

নতুন দ্বীপে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবকাঠামো স্থাপনের সম্ভাবনাও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা বলেছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সিঙ্গাপুর। এ বিষয়ে আরও গবেষণা ও বিস্তারিত সমীক্ষা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের কাছাকাছি হওয়ায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের শীতলীকরণে প্রয়োজনীয় পানি সহজে পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে মূল ভূখণ্ডে বড় জায়গা দখল না করেই এ ধরনের স্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ থাকবে।

তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বড় ধরনের ব্যয়ের প্রয়োজন হবে। ভূমি পুনরুদ্ধার, পরিবহন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ লাগতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জরুরি যোগাযোগ এবং পরিবেশগত প্রভাবও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন দ্বীপটি সিঙ্গাপুরের ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভূমির মজুত হিসেবে কাজ করবে। বর্তমানে কোন শিল্প সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে তা নির্ধারণ করা কঠিন হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতে পারে—এমন বড় ও জটিল শিল্প অবকাঠামোর জন্য এখন থেকেই জায়গা তৈরি করতে চাইছে দেশটি।

সিঙ্গাপুরের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এ পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুরং দ্বীপের পাশে আরেকটি বড় জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠলে দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থায় বিকল্প ও স্থিতিশীলতা বাড়বে।

সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন