বেপরোয়া এমপিপুত্রকে ঘিরে চলছে তদন্ত

বেপরোয়া এমপিপুত্রকে ঘিরে চলছে তদন্ত

অন্ধকার গলি, লোডশেডিংয়ের সুযোগ, পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জে ধাওয়া আর পিস্তলের গুলি। নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত নকশা সাজানো হয়েছিল ঠিক এভাবেই।

গত ১৪ অক্টোবর রাতে সংঘটিত এ বর্বরোচিত হামলার ১২ দিন পর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর মারা যান শাকিল। এটি কি কেবলই হুট করে ঘটে যাওয়া কোনো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে প্রভাবশালী মহলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ, মাদকের গোপন সাম্রাজ্য, প্রবাস থেকে নিয়ন্ত্রিত কোটি টাকার অর্থায়ন আর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব?

বিজ্ঞাপন

নিহত শাকিলের স্বজন, হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং ঘটনার তদন্তে থাকা পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে হত্যাকাণ্ডের পেছনের গল্প।

৩০ অক্টোবর আমরা নিহত শাকিলের বাড়িতে যাই। সেখানে কথা হয় তার বাবা-মা, চাচা ও অন্য স্বজনদের সঙ্গে। কথা হয় পুলিশ ও তদন্তের দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও। তাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে সে রাতের ভয়ংকর হামলার চিত্র।

ঘটনার রাতে লোডশেডিংয়ের কারণে গুরুদাসপুর এলাকাটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন ছিল। স্থানীয় সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোতে কোনো জেনারেটর বা ব্যাকআপ পাওয়ারের ব্যবস্থা না থাকায় ক্যামেরায় কোনো ভিডিও ফুটেজ রেকর্ড বা সেভ হয়নি। আর হামলাকারীরা এ সময়টিকেই বেছে নিয়েছিল তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য।

মামলার বিবরণী ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাকিলের প্রতিবেশী ভাতিজা হৃদয় হোসেন তার মোটরসাইকেলের পেছনে শাকিলকে বসিয়ে চাঁচকৈড় বাজার থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে চাঁচকৈড় বাজারপাড়া গ্রামের দুলাল সরকারের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তার ওপর পৌঁছা মাত্র হেলমেট পরিহিত অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি আরেকটি মোটরসাইকেলে এসে হৃদয়ের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়।

শাকিল ও হৃদয় রাস্তায় ছিটকে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন পিস্তল দিয়ে শাকিলকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শাকিল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন আক্রমণকারীরা তার পিছু ধাওয়া করে স্থানীয় একটি স্কুলের উত্তর পাশের প্রাচীরবেষ্টিত পরিত্যক্ত স্থানে তাকে ঘিরে ধরে।

এলোপাতাড়ি কোপ দিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। পুলিশ পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের তাজা গুলির খোসা জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে।

তদন্তের দায়িত্বে থাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং থানা পুলিশের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য তারা এরই মধ্যে উন্মোচন করতে পেরেছেন।

পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার পরপরই আসামিরা তাদের সব ডিজিটাল ডিভাইস বন্ধ করে বা দূরে সরিয়ে রেখে লাপাত্তা হয়ে গেছে। তাদের ধরতে অভিযান চলমান। ডিবি, এসআরবি এবং অন্যান্য গোয়েন্দা ইউনিট স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং আসামিদের ধরতে আধুনিক প্রযুক্তি যেমন—টাওয়ার লোকেশন, কলরেকর্ড, আইএমইআই এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে তিনদিনের রিমান্ড শেষে ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যায় গুরুদাসপুর আমলি আদালতে হাজির করে আরো সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। কিন্তু আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেনের আদালত শুনানির তারিখ না রেখে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে ২৯ অক্টোবর রাতে ডিবির বিশেষ অভিযানে বড়গ্রামের আলামিন এবং গুরুদাসপুর পৌরসভার আনিসুর রহমানকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে আলোচিত তরুণদের ‘চাটা গ্রুপ’-এর সঙ্গে এ দুই আসামির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এছাড়া কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেওয়া দুর্ধর্ষ ক্যাডার মোহাম্মদ মন্ডল হাবিব হাসান ও ইফতেখার নিয়াজকে ধরতে পুলিশ ও ডিবির সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, মামলার মাস্টারমাইন্ড এবং হুকুমদাতারা আড়ালে থেকে পুরো ঘটনা পরিচালনা করলেও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, কল রেকর্ড এবং গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অপরাধের নেটওয়ার্ক শনাক্ত হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য মোটিভ

পুলিশের নিবিড় তদন্তেও শাকিল হত্যাকাণ্ডের পেছনে একাধিক শক্তিশালী মোটিভ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রটিকে স্থানীয়ভাবে ‘চাটা গ্রুপ’ নামে অভিহিত করা হয়। এ গ্রুপের প্রধান হিসেবে আমেরিকা প্রবাসী রাসেল হোসাইনের নাম উঠে এসেছে। তার দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে এবং বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা।

চব্বিশের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় এমপি আব্দুল আজিজ ও তার বড় ছেলে মিন্টুর সঙ্গে সুসম্পর্কের সুবাদে রাসেল চাঁচকৈড় বাজারে দুটি বিশাল শপিংমলের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। বিপুল আর্থিক সামর্থ্য ও ক্ষমতার জোরে তিনি ‘চাটা গ্রুপ’-এর মাধ্যমে অপরাধ ও এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন।

শাকিলের বাবা রবিউল করিমসহ পরিবারের লোকজন আমার দেশকে বলেন, আমেরিকা প্রবাসী রাসেলের চাটা গ্রুপ এ হত্যাকাণ্ডের সন্দেহের বাইরে নয়। এ গ্রুপের অসংখ্য সদস্য রয়েছে। তাদের আইনের আওতায় নিলেই শাকিলের খুনিদের পাওয়া যাবে।

নিহত শাকিলের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বিভিন্ন পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এর মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী জেমস, রোকন, প্রবাসী রাসেল, এমপিপুত্র মিন্টু এবং কিছু ব্যক্তির পারস্পরিক সম্পর্ক, মাদকসংক্রান্ত ঝামেলা এবং আগের ব্যক্তিগত বা গ্রুপের বিরোধের বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে এসেছে।

পুলিশের তথ্যমতে, রাসেল প্রবাসে বা আড়ালে বসে এ হত্যাকাণ্ডের মূল অর্থায়ন করেছেন এবং ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে এ আক্রমণ বাস্তবায়ন করিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, শাকিল জুলাই আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও সংগ্রাম করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় মাদক চোরাচালান ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন পক্ষের চোখের কাঁটা হয়ে ওঠেন।

এর আগে শাহ আলম নামের এক ব্যক্তির ওপর এমপিপুত্র মিন্টু ও তার লোকজন হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করে। শাকিল সে ঘটনায় শাহ আলমের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। শাকিলের সে প্রতিবাদের পরই এমপিপুত্র মিন্টুর ক্ষোভ বহুগুণে বেড়ে যায়। অন্যদিকে প্রবাসী রাসেলের এক বন্ধুকে জেমস নামের এক ব্যক্তি মারধর করার ঘটনায় শাকিলের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে মনে করা হতো।

এছাড়া স্থানীয় ‘চাটা গ্রুপ’ ও প্রভাবশালী চক্রের হস্তক্ষেপে রাসেলের সঙ্গে শাকিলের দ্বিমুখী বৈরিতা তৈরি হয়। এ মাদককেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক আধিপত্য এবং ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে রাসেল ও মিন্টু পরস্পর জোটবদ্ধ হয়ে শাকিলকে সাইজ করার জন্য ষড়যন্ত্র করেন বলে ডিবির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। অপরাধীরা সরাসরি মাঠে না থেকে পর্দার আড়ালে ভাড়া করা শ্যুটার বা হামলাকারীদের ব্যবহার করেছে, যারা কেবল গুটি হিসেবে কাজ করেছে।

হত্যায় অংশ নেওয়া হাবিব ও নিয়াজের খোঁজে পুলিশ

তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবির এক কর্মকর্তা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে বর্ণনা দিতে গিয়ে কিছু দুর্ধর্ষ চরিত্রের তরুণদের নাম প্রকাশ করেছেন। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া হাবিব নামের এক তরুণের বিষয়ে ডিবি কর্মকর্তা জানান, সে কেবল অপরাধের সঙ্গেই জড়িত নয়, বরং স্থানীয় এমপির পরিবারকেও ঘিরে রেখেছিল। তাদের ছত্রছায়ায় অপরাধ সাম্রাজ্য চালাত।

এছাড়া মামলার অপর সন্দেহভাজন ইফতেখার নিয়াজ রাজশাহী অঞ্চলের এক ‘বসের’ সঙ্গে সম্পর্কিত এবং জুলাইয়ের পটপরিবর্তনের পর ওই এলাকায় শোরুম ও ব্যবসা পরিচালনায় তার ও সহযোগীদের প্রভাবশালী ভূমিকা রয়েছে।

সম্প্রতি ডিবির একটি দল নিয়াজের বাসায় গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে এবং তার বাসা থেকে ফোন ও ওয়াইফাই সংক্রান্ত ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করেছে। তার বাসার ওয়াইফাই ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমের তথ্য ফরেনসিক ও নেটওয়ার্ক অ্যানালাইসিসের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যাতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার যোগাযোগের সুনির্দিষ্ট ক্লু বের করা যায়।

এমপির দুই ছেলে বেপরোয়া

স্থানীয় উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকেই তার দুই ছেলে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মিন্টু আগে থেকেই মাদকাসক্ত, মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত এবং চাঁদাবাজি করে বিপুল টাকার মালিক হয়েছেন, যা এলাকাবাসীর কারো অজানা নয়। মাদক ও ধর্ষণসহ মোট ছয়টি মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও বাবার প্রভাবে তিনি এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। এছাড়া সাবেক ওসি আব্দুল হান্নানসহ পুলিশের একটি মহলের সঙ্গে তার সখ্য ছিল বলে তারা জানায়।

অন্যদিকে ছোট ভাই সোহাগ আগে কখনো রাজনীতি করেননি। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে আসেন। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসম্পাদক। বাবা এমপি হওয়ার পর তাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন আজিজ।

সোহাগ গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং এমনকি তাকে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে বড় ভাই মিন্টুর সঙ্গে তার চরম দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। দুই ভাইয়ের সম্পর্ক এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে তারা বাড়ি ছেড়ে উপজেলা সদরে আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, আব্দুল আজিজ এমপি হওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে উঠেন তার দুই ছেলে।

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সুজাউদ্দৌলা সুজন বলেন, মিন্টু আগে থেকে রাজনীতি করতেন। তার ছোট ভাই সোহাগ আগে কখনো রাজনীতি করেননি। তিনি ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে আসেন। এমপি হওয়ার পর আজিজ তাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। এমনকি সোহাগকে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী করারও সিদ্ধান্ত নেন। এতে ক্ষুব্ধ হন মিন্টু।

এছাড়া সম্প্রতি সার ডিলার নিয়োগে দুই ভাইয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামের অফিস আদালত নিয়ন্ত্রণ করতেন সোহাগ। দুস্থদের নামে বরাদ্দের অর্থও হাতিয়ে নেন সোহাগ। পাশাপাশি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, পুকুর খনন, সোঁতিজাল সবকিছুই চলে সোহাগের নিয়ন্ত্রণে। তার বন্ধু রকিসহ বিভিন্ন ঠিকাদারের নামে কাজ চলতো সোহাগের। বাবা-ছেলেদের বেপরোয়া দাপটে দুই উপজেলার মানুষ ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।

এদিকে চিকিৎসাধীন শাকিলের মৃত্যু হলে ক্ষোভে ফুঁসে উঠে নাটোরের জনপদ। এ পরিস্থিতিতে এমপি আজিজকে ঘিরে একটি অশালীন ভিডিও ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।

২৭ অক্টোবর শাকিলের জানাজায় এমপি আজিজ বক্তব্য দিতে গেলে উপস্থিত জনতার মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নিহতের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা দিতে চাওয়ায় এমপিকে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে শ্লোগান দেয় জানাজায় উপস্থিত জনতা। এসময় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ অসংখ্য নেতাকর্মী ও মুসল্লিরা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।

গুরুদাসপুরের এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই গত ২৮ অক্টোবর এমপি আব্দুল আজিজের তিনটি আপত্তিকর ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ পায়। মুহূর্তেই এই ভিডিওগুলো নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

এই পরিস্থিতিতে গত ৩০ অক্টোবর নাটোর জেলা পরিষদ হলরুমে এমপি আজিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে জেলা বিএনপির একটি জরুরি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর ভিডিও এবং তার বড় ছেলে মিন্টুর শাকিল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের বিষয়টি নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সর্বসম্মতিক্রমে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দলের হাইকমান্ডকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান।

শাকিলের বাবা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি কোনো প্রলোভন বা আপস না করে কেবল তার সন্তানের খুনিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান।

পুলিশও সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শত চাপ সত্ত্বেও কোনো দলীয় পরিচয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে এমপি ও তার পরিবারের কাউকেই মন্তব্যের জন্য পাওয়া যায়নি।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন নাটোর ও গুরুদাসপুর প্রতিনিধি এবং রংপুর ব্যুরো]

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন