সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা উপেক্ষার পরিণতি পাকিস্তানের জন্য ভালো হয়নি: জামায়াত আমির

সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা উপেক্ষার পরিণতি পাকিস্তানের জন্য ভালো হয়নি: জামায়াত আমির

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা ও ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করার পরিণতি পাকিস্তানের জন্য ভালো হয়নি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ একসময় অখণ্ড ভারতের অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে ভারত প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত হয়। তখন পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে আমরা পাকিস্তানের একটি প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত হই।

বিজ্ঞাপন

জামায়াতের আমির বলেন, ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা হঠাৎ অর্জিত কোনো ঘটনা ছিল না। এর পেছনে ছিল দীর্ঘ ১৯০ বছরের বঞ্চনা, কান্না, নির্যাতন ও সীমাহীন ত্যাগের ইতিহাস। যারা এই জাতিকে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও দুর্দশা থেকে মুক্ত করার জন্য ত্যাগ স্বীকার করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য ও গভীর ব্যবধান তৈরি হতে শুরু করে। পশ্চিম পাকিস্তানে তিনটি প্রদেশ এবং পূর্ব পাকিস্তানে একটি প্রদেশ থাকলেও জনসংখ্যার দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। জাতীয় সংসদের আসনও জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছিল।

‘কিন্তু এরপরও রাষ্ট্রভাষা কী হবে, তা নিয়ে একটি অহেতুক প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি করা হয়।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা ও ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষাকে অবমূল্যায়ন করে রাষ্ট্রভাষা নিয়ে তাদের অবস্থান শেষ পর্যন্ত ভালো ফল বয়ে আনেনি। বরং এর পরিণতি গড়ায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে।

তিনি বলেন, ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৫২ সালের এই আন্দোলন বাঙালির জাতীয় চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনের পথ আরও সুগম হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন