সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ চালকের অদক্ষতা ও পথচারীদের অসচেতনতা: সেতুমন্ত্রী

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ চালকের অদক্ষতা ও পথচারীদের অসচেতনতা: সেতুমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ গাড়িচালকদের অদক্ষতা ও অযোগ্যতা এবং পথচারীদের অসচেতনতা। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অনেক দুর্ঘটনার পেছনে চালকের বেপরোয়া ও স্বেচ্ছাচারীভাবে গাড়ি চালানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) আয়োজিত রোড সেফটি বিষয়ক এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

চালকদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েছে জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ আর প্রকল্প নিলেই হবে না; প্রকল্পের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে দক্ষ চালক তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও মূল্যায়ন করতে হবে। চালকের লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা এবং যানবাহনের ফিটনেস, সবকিছুকে একই সঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু কাগজপত্র ঠিক থাকলেই সড়ক নিরাপদ হবে না; বাস্তবে চালক ও যানবাহন উভয়কেই নিরাপদ হতে হবে।

পুরনো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাস ও ট্রাকের নির্ধারিত আয়ুষ্কাল, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা এবং অযোগ্য যানবাহন শনাক্ত করার মতো বিষয়গুলো নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মোটরসাইকেলসহ দুই চাকার যানবাহনের দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে চালক ও যাত্রীদের হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পথচারীসহ সব ধরনের সড়ক ব্যবহারকারীকে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প রয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন করে আরও দু’টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যার দুটি প্যাকেজে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা, সেমিনার, প্রকল্প ও পরামর্শ চলছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক ও এডিবি বিপুল অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাস্তবে কতটা কাজে লাগানো যাচ্ছে, তা নিয়ে আত্মসমালোচনা ও মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। সেমিনার ও কর্মশালা যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। এসব আয়োজন থেকে পাওয়া পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতে সড়ক নিরাপত্তার জন্য নেওয়া প্রকল্পগুলো থেকে কী অর্জন হয়েছে, সেটিও মূল্যায়ন করা জরুরি।

শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক নির্মাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দুর্ঘটনা ঘটার পর শুধু কারণ খোঁজার পরিবর্তে দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ সড়ক ও অবকাঠামো প্রকল্পের নকশা ও পরিকল্পনায় সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। বড় বড় মেগা প্রকল্প ও অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো যেন আগের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আরও নিরাপদ হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

কোনো সড়ক পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আগেই ক্ষয়ক্ষতি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চারটি বড় সেতুতে আগাম রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারসংক্রান্ত একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি স্থায়ী পুলিশ ইউনিট থাকা প্রয়োজন। আজকে যিনি হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বে আছেন, কাল তাকে অন্য কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে পাঠিয়ে দিলে তিনি এতদিনে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, সেটি কাজে লাগানোর সুযোগ কোথায়? একই সমস্যা প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রেও রয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, দাতা সংস্থা এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন