পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টার টানা ভারি বর্ষণ ও বন্যাজনিত দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ২০ জন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। এছাড়া প্রবল বর্ষণে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গবাদি পশুও মারা গেছে।
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) জানায়, শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রদেশজুড়ে বৃষ্টিজনিত ১৪টি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে ভবন ও ঘরের ছাদ ধসে প্রাণহানি, পানিতে ডুবে মৃত্যু, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হওয়া, সাতটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়া ও গবাদি পশুর মৃত্যু।
লাহোরে চারটি ছাদধসের ঘটনায় এক পুরুষ, এক নারী ও এক শিশুসহ তিনজন নিহত এবং আরো পাঁচজন আহত হন। ঘটনাগুলো ঘটেছে ববি প্লাজা, গাড়ি শাহু রেলওয়ে কলোনি, সাগিয়ান পিন্দ ও কাহনা এলাকায়।
কাসুর জেলার দেপালপুর রোডের আদ্দা ধিং শাহ এলাকায় একটি বাড়ির ছাদ ধসে এক পুরুষ ও এক শিশুসহ দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় এক নারী ও দুই শিশুসহ আরও তিনজন আহত হন।
ফয়সালাবাদে ভারি বৃষ্টির কারণে একটি বাড়ির ছাদ ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গুজরানওয়ালার পাঠান কলোনির কাছে বৃষ্টির পানিতে ডুবে এক শিশুর প্রাণহানি ঘটে।
বাহাওয়ালনগরে একটি বাড়ির ছাদ ধসে এক পুরুষ ও দুই শিশুসহ তিনজন আহত হয়। একই জেলায় বৃষ্টির সময় বৈদ্যুতিক খুঁটির সংস্পর্শে এসে আরো এক ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হন।
নারোয়ালের সাইর বাজওয়া গ্রামে ছাদধসের ঘটনায় দুই নারী আহত হন। সিয়ালকোটের দারমা ওয়ালা এলাকায় আরেকটি ছাদ ধসে আহত হন এক নারী।
নানকানা সাহিব ও শেখুপুরায় পৃথক দুটি ছাদ ধসের ঘটনায় তিন নারী আহত হয়েছেন। এছাড়া ওকারায় বৃষ্টির কারণে একটি পশুর খামারের ছাউনি ধসে পড়লে দুই ব্যক্তি আহত হন।
পিডিএমএ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক উমর আব্বাস বলেন, চলমান মৌসুমি বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও পাঞ্জাবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। রাভি ও শতদ্রুসহ প্রধান নদীগুলোর পানির স্তর এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি জানান, চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে গুজরানওয়ালা ও রাওয়ালপিন্ডি বিভাগে, বিশেষ করে নারোয়াল, ঝেলম ও গুজরাট জেলায়।
উমর আব্বাস আরো বলেন, নারোয়ালের ডেক নালার একটি ভাঙন এবং শেখুপুরার একটি বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করা হয়েছে, ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তার ভাষ্য, চলতি বর্ষা মৌসুমে পাঞ্জাবজুড়ে এ পর্যন্ত বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ২২ জনের মৃত্যু এবং ১৮৩ জন আহত হয়েছে।
তিনি জানান, জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারসেবা পেতে রেসকিউ ১১২২ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। একই সঙ্গে বর্ষাকালে বিদ্যুৎসংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা এড়াতে পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপরও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে টানা ভারী বৃষ্টি এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পানি বহনকারী বিভিন্ন নালা উপচে পড়ায় পাঞ্জাবের প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসলি জমি, গবাদিপশু এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চেনাব ও রাভি নদীর পানি মাঝারি থেকে উচ্চ বন্যা পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: ডন
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


