নেতানিয়াহুর সমর্থন নিয়ে ব্রাজিলে নির্বাচনি প্রচার শুরু করলেন বলসোনারোর ছেলে

নেতানিয়াহুর সমর্থন নিয়ে ব্রাজিলে নির্বাচনি প্রচার শুরু করলেন বলসোনারোর ছেলে
২০১৯ সালে ইসরাইল সফরকালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফ্লাভিও বলসোনারো (মাঝখানে) ও সাবেক ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নির্বাচনি প্রচার–প্রচারণা শুরু করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। এই প্রচারণায় তিনি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ প্রভাবশালী বিদেশি নেতাদের সরাসরি সমর্থন পাচ্ছেন।

ফ্লাভিও বলসোনারোকে দীর্ঘদিন ধরেই ব্রাজিলের ডানপন্থিদের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। গতকাল শনিবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

লিবারেল পার্টির জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফ্লাভিও বলেন, ‘এটি কেবল একটি সাধারণ দলীয় সম্মেলন নয়; এটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের সূচনা। এটি ভালো ও মন্দের মধ্যবর্তী এক যুদ্ধ।’

তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিতর্ক ও ধাক্কার কারণে ফ্লাভিওর নির্বাচনি প্রচার কাঙ্ক্ষিত গতি পেতে হিমশিম খাচ্ছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতেও তিনি বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুলার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন।

গতকাল অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিদেশি প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থন বার্তার দিকে বেশি জোর দেওয়া হলেও সেখানে ব্রাজিলের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো কম। এ ছাড়া মধ্য ডানপন্থি দলগুলোও ফ্লাভিওর প্রচার কার্যক্রম থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে।

এদিকে ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হেরে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালানোর দায়ে বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো। কারাবন্দি থাকায় তিনি সম্মেলনে সরাসরি হাজির হতে পারেননি। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি তার একটি কৃত্রিম ভিডিও বার্তা অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই প্রেসিডেন্ট লুলার তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি দাবি করেন, ফ্লাভিও বলসোনারোই ব্রাজিলকে ‘সমাজতন্ত্রের হাত’ থেকে রক্ষা করার ক্ষমতা রাখেন। এর আগের রাতে ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর সাও পাওলোর গভর্নর তারসিসিও দে ফ্রেইতাসের সঙ্গেও বৈঠক করেন মিলেই।

মিলেই বলেন, ‘সমাজতন্ত্রের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আমরা বিশ্বজুড়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব।’

অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ফ্লাভিওর প্রতি সমর্থন জানান। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম মেট্রোপোলেসে প্রকাশিত সেই বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘বন্ধু ফ্লাভিও, আপনার নির্বাচনি প্রচারের আনুষ্ঠানিক সূচনার জন্য অভিনন্দন। আপনি ব্রাজিলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং আমাদের দুই দেশের সুসম্পর্কের বড় সমর্থক।’

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট লুলার দল ওয়ার্কার্স পার্টি আগামী ২ আগস্ট তাদের জাতীয় সম্মেলন আহ্বান করেছে। সেখানে ৮০ বছর বয়সি লুলার পুনর্নির্বাচনের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হবে।

ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার সহযোগীরা বর্তমানে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নিজেদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নির্বাচনি সুবিধা হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। সাধারণ ব্রাজিলীয়রা বিষয়টিকে বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

এ ছাড়া বাবার মতো ফ্লাভিও বলসোনারোও ব্রাজিলের বর্তমান নির্বাচনি ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছেন।

সমালোচকদের মতে, নির্বাচনে হেরে গেলে ফলাফলের বৈধতা অস্বীকার করার পথ তৈরি করতেই আগেভাগেই এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

একই সঙ্গে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ব্রাজিলের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ‘নির্বাচন-সংক্রান্ত বাকস্বাধীনতা’ নিয়ে আলোচনা করতে আসা ট্রাম্প প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাকে সম্প্রতি ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ব্রাজিল সরকার।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন