যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতালিভিত্তিক ‘অটিস্টিকি/ইনভেন্তাতি’ এবং ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন ‘মাসার বাদিল’-এর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট প্যালেস্টাইন অ্যাকশনসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে ‘সহিংস উগ্র বামপন্থি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, এসব গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করতে ওয়াশিংটন তার ‘পূর্ণ অর্থনৈতিক ক্ষমতা’ ব্যবহার করবে।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নিজেদের লক্ষ্য হিসেবে ইসরাইলের সঙ্গে বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং দেশটির ‘গণহত্যা ও বর্ণবাদী ব্যবস্থা’ বন্ধ করার কথা বলে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরু হলে সংগঠনটি আরও বেশি পরিচিতি পায়।
সংগঠনটির বিরুদ্ধে ইসরাইলি অস্ত্র কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা এবং সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যেও সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর সমর্থনে বিক্ষোভ ও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশটিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের এক সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্কিন সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করে বলেছেন, এটি মুক্ত মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইসরাইলবিরোধী আন্দোলনের ওপর আরও চাপ তৈরির চেষ্টা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ‘মাসার বাদিল’-এর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, সংগঠনটি ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের (পিএফএলপি) একটি আড়াল হিসেবে কাজ করে। পিএফএলপিকে আগেই বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তথাকথিত ‘উগ্র-বামপন্থী’ সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। নতুন এই পদক্ষেপ সেই নীতিরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে মানবাধিকারকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মত, রাজনৈতিক আন্দোলন ও প্রতিবাদী কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে এক করে দেখলে মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সংকুচিত হতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত সংগঠনগুলোর অর্থায়ন ও কার্যক্রম বন্ধ করাই এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্তির ফলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, অর্থায়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের বিরুদ্ধে এই ঘোষণা শুধু রাজনৈতিক প্রতীকী পদক্ষেপ নয়, সংগঠনটির আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের ওপরও বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: ডন
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


