আমীর খসরু

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যে সরকারটি গঠিত হয়েছে, তা প্রায় দেড় যুগের এক ফ্যাসিস্ট শাসনের নানা কলঙ্ক ও কুফলযুক্ত উত্তরাধিকার বহন করছে। ২০০৮-এর নির্বাচনটি ছিল আরেক কলঙ্কিত ‘১/১১’-এর ফসল।

লেখাটি শুরু করতে চাই কয়েকটি ঐতিহাসিক ঘটনার কথা বলে। এক. ১৯৫৭ সালের পলাশী প্রান্তরে যখন ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বাহিনীর মরণপণ লড়াই, তখন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অর্থাৎ ঔপনিবেশিকতার অধীনে

প্রায় দুই দশক পরে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, কোনো চাপবিহীন, দেশি-বিদেশি প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ, প্রশ্নাতীতভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে ‘ঐতিহাসিক’ এক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে

রাজ্যসম্পর্কিত ধারণার সঙ্গে সঙ্গে এর নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও হাজার হাজার বছর আগের বা পুরোনো। খ্রিষ্টপূর্ব অন্তত পাঁচ হাজার বছর আগে আর্যরা সপ্তসিন্ধু দেশ, যা বর্তমান সিন্ধু অববাহিকায় ও পাঞ্জাব তা দখল করে।

খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৬-এর দিকে মহামতি আলেকজান্ডার ভারতে আসেন আক্রমণ এবং রাজ্যগুলো নিজের করায়ত্ত করার উদ্দেশ্যে। ঝিলাম নদীর তীরে ছোট্ট অর্থাৎ ক্ষুদ্র এক রাজ্যের রাজার সঙ্গে তার যুদ্ধ হয়। স্বাভাবিক কারণেই ওই যুদ্ধ অর্থাৎ যাকে হাইডাস্পেসের যুদ্ধ বলা হয়, তাতে রাজা পুরু পরাজিত হন।

পরিসংখ্যান নিয়ে একটি কথা ঠাট্টাচ্ছলে বলা হয়। ১৮ শতকের ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ, প্রধানমন্ত্রী এবং দার্শনিক বেঞ্জামিন ডিজরেলি বলেন, পরিসংখ্যান হচ্ছেÑমিথ্যা, জঘন্য মিথ্যা এবং পরিসংখ্যান। (Lies, damn lies and statistics)।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, তিনি পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতির সঠিক ও স্থায়ীভাবে শত্রু-মিত্র নির্ধারণ করতে পেরেছিলেন খুব সাবলীলভাবে। সব মিলিয়ে এ কারণেই তিনি হয়ে উঠেছেন দল-মত নির্বিশেষে সবার ওপরে।

তবে একটি কথা বলতেই হবে, ২০২৬-এও বিপ্লব এবং বিপ্লবী চেতনা অব্যাহত থাকবে। আর এর মূল কেন্দ্রে থাকবেন শহীদ ওসমান হাদি। এ বিপ্লবের ‘ভরকেন্দ্র’ (Center of Mass or Center of Gravity) অদলবদল হবে এবং হতে বাধ্য।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিবেচনায় এ কথাটি বলা অযৌক্তিক হবে না যে, বর্তমানে বড় ধরনের একটি লড়াই চলছে। সঙ্গে সঙ্গে এও বলা যায়, এমন রাজনৈতিক এবং এর সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত

বাংলাদেশের সামগ্রিক, অর্থাৎ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সংকটটি যে সবেমাত্র বা অতিসম্প্রতি ঘটেছে বা প্রকাশিত অথবা দৃশ্যমান হয়েছেÑএটা নয়। এমনকি এটিও বলা চলে, এই অঞ্চলের অর্থাৎ ব্রিটিশ ভারতভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রেও এ কথাটি প্রযোজ্য।