আমীর খসরু

পারস্য সভ্যতা, যা বর্তমানের ইরান রাষ্ট্র, তার ইতিহাস অন্তত পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো। ১৯৩৫ সালের আগে পর্যন্ত পশ্চিমা দুনিয়ার কাছে ইরানের ডাকনাম ছিল পার্স বা পারস্য। তবে অধিবাসীরা ইরান নামেই জানে, চেনে এবং পরিচয় দেয়। পারস্য এমন এক সভ্যতা, যা বহিঃশক্তির অধীনে ছিল খুব কম সময়। পার্স প্রদেশের নামে পরিচিত

এ কথাটা খুব জরুরি যে, যুদ্ধ অথবা সশস্ত্র সংঘাত কেন ঘটে এবং কেনইবা বৃহৎ শক্তি অথবা যুদ্ধবাজ জাতি তাতে যুক্ত থাকে, সে বিষয়গুলো লুকিয়ে রাখা হয়। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জনইতিহাসবিদ হাওয়ার্ড জিন বলছেন, একটা দেশ বা জাতির ইতিহাস মানে ব্যক্তিবিশেষ বা বিশেষ সম্প্রদায়ের ইতিহাস নয়। দ্বন্দ্ব আর যুদ্ধের এ

ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি, পর্যালোচনা, মতামত ও ভবিষ্যদ্বাণীনির্ভর নানা সমীক্ষা হচ্ছে এবং আলোচনা হয়েছে। আর এখনো চলছে। তবে আমার এই লেখায় এর কোনোটিই করার ইচ্ছা নেই। কারণ বিশ্বজুড়ে অথবা বিশ্বব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে এ রকমটা নতুন কোনো ঘটনাও নয়, নতুন কোনো আচরণও নয় পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে।

দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের পরের যে সরকারটি ক্ষমতাসীন হয়, তাদের সামনে নানা সীমাহীন সংকট অপেক্ষমাণ ছিল। বোধকরি তা তারা উপলব্ধি করতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সশস্ত্র বিপ্লব সম্পর্কে তৎকালীন প্রধান দল আওয়ামী লীগের বিস্তর আপত্তি এবং সঙ্গে সঙ্গে পদ্ধতিগত বা কোন পন্থা অবলম্বন করা হবে, সে সম্পর্কেও

যারা ইরান বনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এবং কোনে কোনো ক্ষেত্রে একটু ব্যাপক অর্থে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দুনিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বলেই ইতি এবং উপসংহার টানছেন, তারা মস্তবড় এক ভুলের বা ভ্রান্তির রাজ্যে বসবাস করছেন।

আপনাদের অনেকেরই হয়তো জানা আছে যে, এডলফ হিটলার এবং বেনিতো মুসোলিনির উত্থান হয়েছিল রাজনীতির পাঠগ্রহণ এবং নির্বাচিত পন্থায়। কিন্তু এই তারাই অর্থাৎ হিটলার এবং মুসোলিনির নাম আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত হয়ে গেছে সবচেয়ে ঘৃণিত, নিন্দিত ফ্যাসিবাদ এবং নাৎসিবাদের প্রবক্তা হিসেবে।

নৈতিকতা এবং নীতিশাস্ত্রের সঙ্গে ক্ষমতার সম্পৃক্ততা রয়েছে। Bertrand Russell তার পাওয়ার এ নিউ সোশ্যাল অ্যানালাইসিস বইয়ে ক্ষমতাকে সমাজ এবং মানুষের প্রাকৃতিক মৌলিক ও অনিবার্য চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

লেখাটি শুরু করতে চাই প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং এককালে ভারতে নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূত জন কেনেথ গলব্রেইথের প্রসঙ্গ দিয়ে। তিনি ভারতে রাষ্ট্রদূত হয়েছিলেন এই বিবেচনায় যে, জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যে সরকারটি গঠিত হয়েছে, তা প্রায় দেড় যুগের এক ফ্যাসিস্ট শাসনের নানা কলঙ্ক ও কুফলযুক্ত উত্তরাধিকার বহন করছে। ২০০৮-এর নির্বাচনটি ছিল আরেক কলঙ্কিত ‘১/১১’-এর ফসল।

লেখাটি শুরু করতে চাই কয়েকটি ঐতিহাসিক ঘটনার কথা বলে। এক. ১৯৫৭ সালের পলাশী প্রান্তরে যখন ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বাহিনীর মরণপণ লড়াই, তখন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অর্থাৎ ঔপনিবেশিকতার অধীনে

প্রায় দুই দশক পরে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, কোনো চাপবিহীন, দেশি-বিদেশি প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ, প্রশ্নাতীতভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে ‘ঐতিহাসিক’ এক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে

রাজ্যসম্পর্কিত ধারণার সঙ্গে সঙ্গে এর নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও হাজার হাজার বছর আগের বা পুরোনো। খ্রিষ্টপূর্ব অন্তত পাঁচ হাজার বছর আগে আর্যরা সপ্তসিন্ধু দেশ, যা বর্তমান সিন্ধু অববাহিকায় ও পাঞ্জাব তা দখল করে।

খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৬-এর দিকে মহামতি আলেকজান্ডার ভারতে আসেন আক্রমণ এবং রাজ্যগুলো নিজের করায়ত্ত করার উদ্দেশ্যে। ঝিলাম নদীর তীরে ছোট্ট অর্থাৎ ক্ষুদ্র এক রাজ্যের রাজার সঙ্গে তার যুদ্ধ হয়। স্বাভাবিক কারণেই ওই যুদ্ধ অর্থাৎ যাকে হাইডাস্পেসের যুদ্ধ বলা হয়, তাতে রাজা পুরু পরাজিত হন।

পরিসংখ্যান নিয়ে একটি কথা ঠাট্টাচ্ছলে বলা হয়। ১৮ শতকের ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ, প্রধানমন্ত্রী এবং দার্শনিক বেঞ্জামিন ডিজরেলি বলেন, পরিসংখ্যান হচ্ছেÑমিথ্যা, জঘন্য মিথ্যা এবং পরিসংখ্যান। (Lies, damn lies and statistics)।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন, তিনি পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতির সঠিক ও স্থায়ীভাবে শত্রু-মিত্র নির্ধারণ করতে পেরেছিলেন খুব সাবলীলভাবে। সব মিলিয়ে এ কারণেই তিনি হয়ে উঠেছেন দল-মত নির্বিশেষে সবার ওপরে।

তবে একটি কথা বলতেই হবে, ২০২৬-এও বিপ্লব এবং বিপ্লবী চেতনা অব্যাহত থাকবে। আর এর মূল কেন্দ্রে থাকবেন শহীদ ওসমান হাদি। এ বিপ্লবের ‘ভরকেন্দ্র’ (Center of Mass or Center of Gravity) অদলবদল হবে এবং হতে বাধ্য।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিবেচনায় এ কথাটি বলা অযৌক্তিক হবে না যে, বর্তমানে বড় ধরনের একটি লড়াই চলছে। সঙ্গে সঙ্গে এও বলা যায়, এমন রাজনৈতিক এবং এর সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত

বাংলাদেশের সামগ্রিক, অর্থাৎ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সংকটটি যে সবেমাত্র বা অতিসম্প্রতি ঘটেছে বা প্রকাশিত অথবা দৃশ্যমান হয়েছেÑএটা নয়। এমনকি এটিও বলা চলে, এই অঞ্চলের অর্থাৎ ব্রিটিশ ভারতভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রেও এ কথাটি প্রযোজ্য।