ওমর শাহেদ

মেয়েটির নাম সুমাইয়া আফরিন। তিনি একজন শেফ। শখের বশে কেক দিয়ে তিনি উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন। শুরুটি হয়েছিল ২০২০ সালে, করোনাকালীন সময়ে। আরো দক্ষভাবে ও উন্নতমানের কেক তৈরি করার জন্য প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেছিলেন তিনি। সেটি ছিল শর্ট কোর্স।

সুলতানা নওশিন জাহান তার নাম। ঢাকার নামকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউএপি (ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক) থেকে এমবিএ পাস। তবে তিনি ব্যাংকের চাকরির দিকে যাননি। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে নারী উদ্যোক্তা হয়েছেন। তার এদিকে ঝুঁকে পড়ারও ইতিহাস আছে।

শাহানা মমতাজ সোনম ছিলেন ঢাকার সরকারি হোম ইকোনমিকস কলেজের ছাত্রী। তার বিভাগ ছিল রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনারশিপ। এই বিভাগে পড়তে গিয়ে তার ভেতরে দানা বেঁধে উঠল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন। বিয়ের পর সন্তান এলো। তাকে লালনপালন করতে গিয়ে চাকরি আর করা হয়নি। তবে তিনি ভেবে রেখেছিলেন ব্যবসা করবেন।

ফারজানা মোর্শেদ মিতার বাড়ি ফরিদপুর সদরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কালিবাড়ী কলেজ রোডে। তিনি এসএসসি পাস করে এইচএসসিতে ১৯৯৪ সালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। তখন তিনি নারীপক্ষ নামের একটি এনজিওতে চাকরি নেন।

নানা ধরনের মিনিয়েচার বানান ফারজানা। খাবারের মিনিয়েচারের জন্য বিখ্যাত তিনি। ছোটবেলা থেকে হাতের কাজ ভালোবাসেন ফারজানা। খেলনা বানানো, কাগজ কেটে রঙ করা এসব করতে তিনি খুব আনন্দ পেতেন। ঘর সাজানো এবং নিজের জন্য অনেক কিছু বানানোর কাজ করতেন।

আমার মাস্টার্সে সিজিপিএ ছিল ৩.৫৬, অনার্সে সিজিপিএ ছিল ৩.৮৯। এটিই আমাদের সর্বোচ্চ ফলাফল এবং বিগত বছরগুলোর তুলনায় সর্বোচ্চ রেজাল্ট কারুশিল্প বিভাগে। এই ভালো ফলাফলের রহস্য হলো আমার কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিদিন কাজের প্রতি একনিষ্ঠ শ্রম। আমার মনে হয়, পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি নেওয়া এক দিনে কখনোই সম্ভব নয়

কিছুদিন হলো ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন জান্নাত। এর আগে তিনি আনারস, আম ও পেয়ারামাখা বিক্রি করতেন। সে সময় হাতে চার হাজার টাকা ছিল। সেই টাকাগুলোই বিনিয়োগ করেছেন। পরে মা আবার বাড়তি তিন হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। চার হাজার টাকা দিয়ে প্রথমে যাত্রাবাড়ী আড়ত থেকে আম, পেয়ারা ও আনারস কিনে এনে কাজ শুরু করেছেন। ৩০ টাকা

সুইটি সূত্রধর বাঁশ-বেত দিয়ে নানা ধরনের পণ্য তৈরি করেন। এর মধ্যে রয়েছে কলমদানি, ফুলের টব, বিভিন্ন ডিজাইনের ল্যাম্প স্ট্যান্ড, টুল, মোড়া, লুকিং গ্লাস, বাঁশ ও বেতের তৈরি সোফা, চেয়ার ইত্যাদি।

স্বল্প পুঁজি নিয়ে সিগমা সাদিক কীভাবে ব্যবসা গড়ে তুললেন? ইচ্ছাশক্তি ও স্বামী-সন্তানের সাহায্য তাকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে, তার ব্যবসাকে বড় করেছে এবং তাকে শক্ত ভিতে দাঁড় করিয়েছে।

মেধাবী এক ছাত্রী জারিন মাহজাবিন খেয়া। তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছেন। এবারের এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ। মেয়েটি খুব চুপচাপ, শান্ত স্বভাবের। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জয় করেছেন গোল্ডেন জিপিএ। ১৩০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছেন ১২০৭। প্রতিদিনই লেখাপড়া করেছেন। পড়ার সময়ই ঠিক করতেন—‘এতক্ষণ লেখাপড়া করব, এই বিষয়ের

সুগন্ধিযুক্ত মোম দিয়ে নানা ধরনের শোপিস বানান কানিজ ফাতেমা। সেগুলো বিক্রি করেন অনলাইনে। ব্যবসা করবেন-এই চিন্তাটি কানিজ ফাতেমার মাথায় এলো নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর। তখন থেকে তার পেছনে পরিবারের বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করতে হচ্ছিল।

অনলাইন ব্যবসা শুরু করেছিলেন মোটে ১০ হাজার টাকা দিয়ে। অবস্থা এখন তার পুরোপুরি বদলে গেছে। ’দীঘল’ ও ’আচারি’ নামের দুটি অনলাইন উদ্যোগের কর্ণধার নিশাত মেহেদী

গুলশান আরা রংপুরের জিআই পণ্য শতরঞ্জি বিক্রি করেন। সুন্দর, কালারফুল ও উৎকৃষ্ট ডিজাইনের এই শতরঞ্জিগুলো হাতে না নিলে এগুলোর গুণমান বুঝতেই পারেন না ক্রেতারা। রংপুরের ঐতিহ্যবাহী ও পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্পটি নিয়ে তার সঙ্গে অল্পস্বল্প আলোচনা হয়।

তানহা আক্তার শুধু সাইক্লিস্টই নন, একজন রানারও। এ পর্যন্ত তিনি ৩০টির বেশি ম্যারাথন ও রানিং ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছেন। সাইক্লিং ও রানিং মিলিয়ে ৫০টির বেশি মেডেল বা পদক অর্জন করেছেন।

রেহমুমা হোসেন রিংকি গড়ে তুলেছেন মণিপুরী শাড়ির অনলাইন দোকান। নাম রিংকিস অ্যাটায়ার। তার এই ব্যবসার শুরু ২০১৯ সালে, করোনাভাইরাসের আক্রমণের সময়। তিনি শিক্ষকতা করেন সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে। তখন স্কুল বন্ধ ছিল, মানুষজন ঘরবন্দি। রিংকি ভাবলেন সময়টাকে কাজে লাগানো দরকার।

করোনাভাইরাসের আক্রমণে স্কুল-কলেজ সব বন্ধ হয়ে গেল। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা সবাই ফিরে গেলেন বাড়িতে। তৌকিররা চলে এলেন শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের ভাইডাঙ্গা অঞ্চলে।

জায়গাটি ঢাকা শহরের প্রায় সবারই চেনা। শাহবাগের ফুলের দোকানগুলো, অনেকেই এর সামনে দিয়ে গিয়েছেন। প্রতিদিন এখানে বসে ফুলের মালা গাঁথেন অনেক নারী। নারীরা ফুলের মালা গাঁথেন আর পুরুষরা ফুলগুলো বিক্রি করেন।

পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন প্রসেনজিৎ কুমার সাহা। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর যে উচ্ছ্বাস, আনন্দ থাকে ছাত্রছাত্রীদের, সেটি তার হয়নি। একে তো পুরান ঢাকায় যানজট লেগে থাকে, তার ওপর বাড্ডায় এক মেসে থাকতেন। সেখান থেকে আসা-যাওয়ার কষ্ট খুব।

২০১৬ সালে আপন শিশু বিকাশ ফাউন্ডেশন কার্যক্রম শুরু করে। তখন নির্দিষ্ট কোনো অফিস ছিল না। যেহেতু একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন, সেই সুবাদে অনেকে চিনতেন, খুব পরিচিতি ছিল। তারা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিশুদের বিকাশ নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং প্রধান আলোচক

মানুষটির বয়স ৭০ থেকে ৮০ বছর। আকারে ছোটখাটো। এই বয়সেও কর্মক্ষম। মানবসেবা করেন। এই কাজগুলো তার শুরু হয়েছিল প্রথম যৌবনে। এই কাজে তাকে উৎসাহিত করেছেন বাবা হায়দার আলী, মা ইছামতী। আর চাচা হাজী হাবিবুল্লাহ ও চাচী মাছুমা খাতুন নি:সন্তান ছিলেন।

আদনান সানজিদ আলী এক তুমুল মেধাবী মুখ। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে অসাধারণ ফলের জন্য ‘চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল’ পেয়েছেন।

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই উৎসব। আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এই আনন্দের দিনটিকে উদ্যাপনের জন্য সারা বছর ধরে সবাই প্রতীক্ষায় থাকেন। ঈদের পোশাক কেমন করেছে বাংলাদেশের ফ্যাশন হাউসগুলো, তার কটির খোঁজখবর।

এই আয়োজনটি একেবারেই অন্যরকম। একটি পাঠাগার রাতে সাহরির আয়োজন করে। নাম শামসুল হক ভূঁইয়া স্মৃতি পাঠাগার। তাদের দেয়ালে নোটিশ টাঙানো আছে—‘রান্নার অসুবিধার জন্য যারা সাহরি করতে পারেন না, তাদের জন্য এবং ছিন্নমূল মানুষের জন্য আমাদের এই আয়োজন।

ছোটবেলা থেকেই পরিবারের ভেতরে শিল্পচর্চা দেখে বড় হয়েছি। ফলে ছোট থেকেই আমি শিল্পভাবাপন্ন। এ কারণেই আমার মধ্যে শিল্পী মনের উদ্ভব ঘটেছে। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে কারুশিল্প বিভাগে ভর্তি হয়েছি ভালো একটি মেধাক্রমে।

সুন্দর সন্ধ্যায় শুরু হয়েছিল এই আয়োজন। ঢাকার মিরপুরের একটি ভবনের রুফটপে। সেখানে পাশে ফুটবল খেলার মাঠ, সুইমিং পুল, রেস্তোরাঁ— সবই আছে। আয়োজকরা অত্যন্ত আন্তরিক। তারা সব সময় সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের খেয়াল রাখছেন। এই আয়োজনটি করেছে লা রিভ নামের বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত ফ্যাশন হাউস।

নূর আলম একজন স্বনামধন্য তরুণ শিক্ষক। সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল অ্যান্ড কলেজে রসায়ন পড়ান। ছাত্রবান্ধব এই মানুষটিকে নিয়ে লিখেছেন ওমর শাহেদ

কদিন আগের কথা, খুব ভালো একটি কাজ করেছেন তারা। ঢাকার টঙ্গী রেলস্টেশন, মেরুল বাড্ডা, ক্যাম্পাসের আশেপাশে, আফতাবনগর ও মহাখালীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ক্যাম্পাসের সামনে বিলিয়েছেন মোট ২৫০টি কম্বল। পুরোনো জামাকাপড়ও বিলি করেছেন তিন-চার বস্তা। যাদের কোনো সহায় নেই, সম্বলও নেই

পথশিশুদের জন্য কাজ করতে গিয়ে একটি স্কুল, এতিমখানা, শেল্টার হোম ও মাদরাসা গড়ে তুলেছেন কাজী রিয়াজ রহমান। সেই গল্পই লিখেছেন মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে ওমর শাহেদ