জমির উদ্দিন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির প্রভাবশালী দুই নেতার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চলমান সংঘর্ষে গত ১৫ মাসে ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতদের অন্তত ১৫ জনই বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, এদের মধ্যে অন্তত ১৫টি হত্যা সরাসরি রাজনৈতিক বিরোধ থেকে হয়েছে। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৩৫০ জনের বেশি, যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ১৮ মাস পার হলেও চট্টগ্রামে হওয়া মামলাগুলোর তেমন অগ্রগতি নেই। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তদন্ত আরো ধীর হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। নিহতদের পরিবারগুলো বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অন্তত বিভিন্ন দপ্তর থেকে খোঁজ নেওয়া হতো, নতুন সরকার আসার পর সেই খোঁজখবর নেওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে।

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এবার ইতিহাস গড়া নতুন যুগল নেতৃত্ব দেখা গেছে। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পার্বত্যাঞ্চলের বাসিন্দা দীপেন দেওয়ান এবং প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ হয়েছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এ দুজনের মধ্যে একজন অবাঙালি অন্যজন বাঙালি। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে

আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরেই অনেক প্রকল্পের কিস্তির অঙ্ক দ্বিগুণের মতো বাড়তে পারে। আয়ের তুলনায় ব্যয় বাড়তে থাকলে বাজেট সংকোচন, ছোট প্রকল্প স্থগিত এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার সংকুচিত হতে পারে।

বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী আমার দেশ-কে বলেন, চেকগুলো তার ম্যানেজার দিয়েছেন এবং সে সময় অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবার থেকে টাকা জমা হচ্ছে। চলতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সবার টাকা পরিশোধ হয়ে যাবে। এটি ইচ্ছাকৃত নয়, ব্যবসায়িক টানাপোড়েনের কারণে সমস্যা হয়েছে।”

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আজ ফুলতলায় গণসংযোগে যান। পোস্টার, মাইক, কয়েক ডজন কর্মী-সব মিলিয়ে প্রচারণার সাধারণ ছবি। কিন্তু উপস্থিত জনতার দৃষ্টি তখন অন্য দিকে শহিদ ওমরের মা রুবি আক্তার কাছে আসতেই মানুষের ভিড় জমে যায়। অল্প কথায়, শান্ত গলায়, কিন্তু ক্ষতবিক্ষত অভিজ্ঞতা আর গভীর আক্ষেপ মিশিয়ে

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেও তার স্থানীয় সমর্থকরা যেন এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না। প্রতিদিনই পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও ও বোয়ালখালীর বিভিন্ন মহল্লায় দেখা যাচ্ছে তাদের গণসংযোগ, লিফলেট বিলি আর নীরব প্রচারণা-সবই আবু নাসেরের পক্ষেই।

ফুটপাতের এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দু–একজন পথচারী হঠাৎই চোখে পড়ে একটি কালো পলিথিন ব্যাগ। কোনো কাক বা কুকুর ঘাঁটাঘাঁটি করছে-এমন দৃশ্য ভেবে তাদের একজন এগিয়ে গিয়ে ব্যাগটি একটু সরাতেই থমকে যায়। মানুষের হাত। দুটি হাত। রক্তমাখা, সদ্য কাটা। সেখান থেকেই শুরু হয় পুরো হত্যার রহস্যোদ্ঘাটনের গল্প।

কফিনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সি ছেলে মেহেদি হাসান ভুইয়া। ঢাকার তেজগাঁও কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র মেহেদি বাবার লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার চোখে তখন ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ছায়া ফেলেছে।

সোমবার বিকেলে সেখানেই র্যাব–৭–এর প্রতিনিধিত্বকারী বিজিবির নায়েব সুবেদার আব্দুল মোতালেবকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার সঙ্গে থাকা র্যাবের আরো দুই সদস্য এবং একজন সোর্সকে গণপিটুনি দেওয়া হয়।তিনজনকেই গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাদের

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব সদস্য হত্যা ও হামলার ঘটনার পর এখন মূল প্রশ্ন—মাইকে ঘোষণা দিল কারা, আর কীভাবে এত অল্প সময়ে ৪০০–৫০০ মানুষ জড়ো হলো? এলাকা ঘিরে নেওয়া যৌথবাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্তত তিনটি মসজিদ আছে। প্রতিদিনের মতো মাগরিবের আগে–পরে এখানে মাইক ব্যবস্থাপন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব–৭–এর অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে একজন নায়েব সুবেদার নিহত হওয়ার পর পুরো এলাকা ঘিরে যৌথবাহিনীর বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ, র্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

চট্টগ্রাম নগরের অপরাধ জগতের ইতিহাসে একটি বিশেষ ধারা বছরের পর বছর ধরে বেঁচে আছে। সেটি ডাকনাম। এখানে কোনো সন্ত্রাসীকে তার পৈত্রিক নাম বা পরিচয় দিয়ে চেনে না মানুষ। বরং পরিচিত হয় ভয় জাগানিয়া ডাকনামে।

চট্টগ্রাম নগরের অপরাধ জগতের ইতিহাসে একটি বিশেষ ধারা বছরের পর বছর ধরে বেঁচে আছে। সেটি ডাকনাম। এখানে কোনো সন্ত্রাসীকে তার পৈত্রিক নাম বা পরিচয় দিয়ে চেনে না মানুষ। বরং পরিচিত হয় ভয় জাগানিয়া ডাকনামে।

চট্টগ্রামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ১৪ প্রার্থীর হলফনামা যাচাইবাছাইয়ে দেখা গেছে, নগদ অর্থের পরিমাণে সবার ওপরে আছেন চট্টগ্রাম– ১৫ (লোহাগাড়া–সাতকানিয়া) আসনে শাহজাহান চৌধুরী। তার কাছে নগদ অর্থ আছে কোটি টাকা, যা অন্য কোনো প্রার্থীই স্পর্শ করতে পারেননি।

চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলমের হলফনামায় বেশকিছু তথ্য বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। বিশেষ করে তার তিন সন্তান, দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তিনজনই শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও তাদের নামে বার্ষিক প্রায় ৫ লাখ টাকার আয় দেখানো হয়েছে।

তবে চট্টগ্রামের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। নির্বাচনি উত্তাপ বাড়লেও প্রার্থীদের তেমন কোনো নিরাপত্তা বা উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে না। এছাড়াও চট্টগ্রামের কোনো প্রার্থী গানম্যান নেওয়ার আবেদন করেননি। অস্ত্রের লাইসেন্সের নতুন আবেদনও জমা পড়েনি। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন।

রোববার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জিয়াউদ্দীনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। মনোনয়ন জমার পর তার দাখিল করা হরফনামা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে তার বিপুল অস্থাবর সম্পদের উৎস নিয়ে।

চট্টগ্রামে ভারতীয় কূটনৈতিক কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে যে গুজব ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণে তা প্রমাণিত হয়েছে।

দরপত্রের নথি ও মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে রেলপথের নিচে যেসব ব্যালাস্ট ব্যবহার করা হয়েছে, তার বড় অংশই আগ্নেয়শিলা (ইগনিয়াস রক) নয়। বরং নিম্নমানের লাইমস্টোন বা চুনাপাথর। অথচ প্রকল্পের নথি অনুযায়ী এ রুটে ব্যালাস্ট হিসেবে ব্যবহারের কথা ছিল প্রায় তিন লাখ ১৯ হাজার ৭৬৩...

চলতি বছর চট্টগ্রামে সাতটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক এসব হত্যাকাণ্ডের আগে একটি ভয়ংকর মিল পাওয়া গেছে। হত্যার আগেই হুমকি আসত মোবাইল ফোনে বা ফেসবুকে। কারো ক্ষেত্রে হুমকি পাওয়ার তিনদিনের মাথায়, কারো ক্ষেত্রে এক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটত নৃশংস খুন।

চট্টগ্রামে শুধু চলতি বছরে একের পর এক খুনের আগে একটা ভয়ংকর মিল পাওয়া যায়-হত্যার আগেই হুমকি আসত মোবাইল ফোনে বা ফেসবুকে। কারো ক্ষেত্রে হুমকি পাওয়ার তিন দিনের মাথায়, কারও ক্ষেত্রে এক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটে যেত গুলিতে মৃত্যু। এই নৃশংস ধারাবাহিকতার কেন্দ্রে যে নামটি সবচেয়ে বেশি উঠে আসে, তিনি হলেন ‘সিরিয়াল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ বলেছেন, শহরকে নিরাপদ রাখার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করবো। নগরবাসী যেন ভয়মুক্তভাবে জীবনযাপন করতে পারে, সেই নিশ্চয়তা দিতেই আমরা মাঠে আছি।

চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মুহাম্মদ রায়হান এখন র্যাবের ‘টার্গেট ওয়ান’। সরওয়ার হোসেন বাবলা হত্যার পর থেকেই তাকে ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র্যাব বলছে, রায়হানের দল এখন ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপে পরিণত হয়েছে। তাদের হাতে বিদেশি পিস্তল, একে-২২ ও এলজি থাকে। টার্গেট ঠিক হলেই মোটরসাইকেলে করে এসে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায় তারা। বাবলা হত্যার দিনও একই কৌশল ব্যবহার হয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।

চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যুৎ বিভাগে লিফট কেনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট সম্প্রতি অন্তত ছয়টি প্রকল্পে নিম্নমানের লিফট সরবরাহ করে এই চক্র কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রকল্পের টেন্ডারে ‘এ’ গ্রেড লিফট সরবরাহ করার কথা উল্লেখ ছিল।

চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যুৎ বিভাগে লিফট কেনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট সম্প্রতি অন্তত ছয়টি প্রকল্পে নিম্নমানের লিফট সরবরাহ করে এই চক্র কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রকল্পের টেন্ডারে ‘এ’ গ্রেড লিফট সরবরাহ করার কথা উল্লেখ ছিল।

চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দূরে বায়েজিদ থানার আতুরার দীপু। সেখান থেকে আরও কয়েক কিলোমিটার ভেতরে চালিতাতলীর খন্দকারপাড়া।

চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দূরে বায়েজিদ থানার আতুরার দীপু। সেখান থেকে আরও কয়েক কিলোমিটার ভেতরে চালিতাতলীর খন্দকারপাড়া।

গুলিতে মারা যাওয়া সরওয়ার হোসেন বাবলার ছোট ভাই ইমরান খান ওরফে আজিজও পেলেন এবার খুনের হুমকি। তার সঙ্গে টার্গেট রয়েছে নাছির উদ্দিন চৌধুরী ওরফে ‘শিবির নাছির’ও। মুঠোফোনে আসা এইসব হুমকিতে আজিজকে সময় দেওয়া হয়েছে মাত্র এক মাস।

ছয় মাস প্রেমের পর দেড় মাস আগে বিয়ে করেন মেয়েটিকে। সংসার শুরু করেছিলেন নতুন করে। ভালো মানুষ হয়ে, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে। কিন্তু সেই পথ শেষ হলো হঠাৎই! গত ৫ নভেম্বর প্রতিপক্ষের গুলিতে নিথর হয়ে গেলেন বাবলা।

চট্টগ্রাম নগরীতে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থীর গণসংযোগে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দায়ের হয়নি মামলাও।

চোখের সামনে ছেলেকে গুলি করে ফেলে দিল সন্ত্রাসীরা। ঘাড়ে ঠেকানো পিস্তলের নল থেকে বেরোল ছয়টি গুলি-একটির পর একটি। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা। রক্তে ভেসে গেল রাস্তা। তবু কোনো দ্বিধা না করে ছেলের রক্তাক্ত দেহ নিজের কাঁধে তুলে নিলেন বাবা, আবদুল কাদের।

চট্টগ্রামের ছোট সাজ্জাদ এখন এক অদ্ভুত অবস্থানের নাম। জেলখানায় বন্দি, কিন্তু বাহিরের পুরো অপারেশন চলছে তার নির্দেশে। কেউ কেউ একে বলেন, 'রিমোট কন্ট্রোল রাজত্ব'। যেখানে জেলের ভেতর থেকেই সাজ্জাদ ঠিক করেন কে কোথায় যাবে, কার বিরুদ্ধে অ্যাকশন হবে, এমনকি কোন এলাকায় কবে মুভ করবে তার বাহিনী।

চট্টগ্রামের ছোট সাজ্জাদ এখন এক অদ্ভুত অবস্থানের নাম। জেলখানায় বন্দি, কিন্তু বাহিরের পুরো অপারেশন চলছে তার নির্দেশে। কেউ কেউ একে বলেন, 'রিমোট কন্ট্রোল রাজত্ব'। যেখানে জেলের ভেতর থেকেই সাজ্জাদ ঠিক করেন কে কোথায় যাবে, কার বিরুদ্ধে অ্যাকশন হবে, এমনকি কোন এলাকায় কবে মুভ করবে তার বাহিনী।

চট্টগ্রামে গত এক বছরে অন্তত ৭ জনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি হত্যাই ঘটেছে জনবহুল এলাকায়, দিনের আলোয়। হত্যার পর লাশ উদ্ধারে আসে পুলিশ, কিন্তু কোনো ঘটনাতেই ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে এক ঘটনায় সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির মুখে পুলিশ সদস্যরাই পালিয়ে যান।

চট্টগ্রামে গত এক বছরে অন্তত ৭ জনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি হত্যাই ঘটেছে জনবহুল এলাকায়, দিনের আলোয়। হত্যার পর লাশ উদ্ধারে আসে পুলিশ, কিন্তু কোনো ঘটনাতেই ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে এক ঘটনায় সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির মুখে পুলিশ সদস্যরাই পালিয়ে যান।

প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর খোঁজ নিয়েছে আমার দেশ -এর এই প্রতিবেদক। যাদের মধ্যে রয়েছেন, আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও জুলাই আগস্টে ছাত্র হত্যা মামলার আসামি শামসুল ইসলাম। অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে যাকে চলতি বছরের ২ মার্চ চট্টগ্রাম চকবাজার চট্টেশ্বরী এলাকা

চট্টগ্রামের রাউজানের পাহাড়ি জনপদ নোয়াপাড়া। চারদিকে বেতগাছ, পাম, বাঁশঝাড় আর সরু কাঁচা রাস্তা। ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়ে এক তিনতলা বাড়ি। বাইরে শান্ত, ভেতরে যেন যুদ্ধের প্রস্তুতি।

নিহত সাজ্জাদ এক সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর তিনি যোগ দেন যুবদল নেতা এমদাদুল হক বাদশার দলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই দলে যোগ দেওয়াই তার জীবনের সমাপ্তি টেনে দিল। তাকে গুলি করা সোহেল-বোরহান গ্রুপও যুবলীগ থেকে আসা এখন যুবদল কর্মী।

খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বার্মাছড়ি ইউনিয়নের আর্য কল্যাণ বনবিহার এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করতে চায় সেনাবাহিনী। কিন্তু সে জায়গাটিকে বিহারের সম্পত্তি দাবি করে সেনা ক্যাম্প স্থাপনে বাধা দিচ্ছেন স্থানীয়রা। আর স্থানীয়দের এ কাজে উসকে দিচ্ছে ভারতের মদতপুষ্ট সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার ভেতরে পুলিশের ওপর চড়াও হয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক সাবেক নেতা। ঘটনার পর তাকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আটক মো. রায়হান হাটহাজারি কলেজ শিবিরের সাবেক সভাপতি।

চট্টগ্রাম শহরের এক কোণে, এনায়েতবাজারের পুরোনো বাড়িটিতে আজও সকালবেলা হালকা বাতাস বইলে মনে হয় কোথাও একটা গিটার বেজে উঠেছে। সেই সুরে ভেসে আসে এক কণ্ঠ, ‘এই রুপালি গিটার ফেলে একদিন চলে যাবো...’ কিন্তু শ্রোতার মনে প্রশ্ন জাগে তিনি কি সত্যিই চলে গেছেন?

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি (এজিএস) পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

কিছু মৃত্যু হয় প্রচণ্ড শব্দে-বুলেট, বিস্ফোরণ বা চিৎকারে। আবার কিছু মৃত্যু হয় খুব নিঃশব্দে কিন্তু কাঁপিয়ে দেয় ভেতরটা। সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন এবং পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার নাজিম উদ্দিন ঠিক এমনই নিঃশব্দ বিস্ফোরণ। তাদের মৃত্যু শুধু দায়িত্ব পালনের গল

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে শুধু চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ৪০ নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। এই দেড় দশকে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গ্রেপ্তারের নামে পুলিশি হয়রানি, এমনকি বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনেও উঠ

চোখের সামনে লাল-সবুজে মোড়ানো কফিন। পাশে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে কোহিনুর আক্তার। চোখের জল মুছতে মুছতে শুধু একটিই কথা বলছিলেন, ‘শেষবার ফোনে বলেছিলেন, চিন্তা করো না, আমি ঠিক আছি। এখন সেই কণ্ঠটাই আমার কানে বাজে, কিন্তু মানুষটা আর নেই।’

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সহিংসতার ইতিহাস বেশ পুরোনো। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসবের লক্ষ্য থাকে সেনাসদস্য ও বাঙালিরা। সংকট নিরসনে ১৯৯৭ সালে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে সরকার। কিন্তু এরপরও সহিংসতা থামেনি। ১৯৮০ সাল থেকে এ পর্যন্ত অঞ্চলটিতে প্রায় ৪০০ সেনাসদস্

ভারতের প্রতিটি পাহাড়ে সেনার দাপট চলছে। কাশ্মীর, লাদাখ, নাগাল্যান্ড, আসাম কিংবা মণিপুর-যেখানেই যান, সেনা ক্যাম্প, বাঙ্কার আর পাহাড়ের প্রতিটি গিরিপথে চেকপোস্ট চোখে পড়বে। শুধু কাশ্মীরেই সাত লাখ সেনা অবস্থান করছে। কেবল ভারত নয়, চীন, পাকিস্তান, নেপালেও রয়েছে সেনার উপস্থিতি।

খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে আন্দোলনের সময় সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএসের সদস্যদের। এ দলে অন্তত পাঁচজন ছিলেন, যাদের হাতে অস্ত্র ছিল।