বাছির জামাল

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আর মাত্র দুদিন বাকি। বলা চলে, দরজায় কড়া নাড়ছে। নির্বাচনি প্রচার শেষপর্যায়ে। এরই মধ্যে দুই মূল দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দুই জোটের প্রধানরা ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয় প্রচার শেষ করেছেন। এখন ঢাকায় তাদের প্রচার চালাবেন।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬-৩০ মে ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ) জন্ম কিংবা শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছরই বিএনপি পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশের ব্যবস্থা করে। এমনই এক বছর শহীদ জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি ক্রোড়পত্রে লেখার জন্য দলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের একজন লেখককে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করায় দলীয় প্রধানের পদটি এখন শূন্য। বেগম জিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় এবং অসুস্থতার সময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের কাজ পরিচালনা করে আসছেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বেগম জিয়া সাধারণ জনগণের কাছে এতই গ্রহণযোগ্য ছিলেন যে, তিনি কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনগুলোতে পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে, তিনি যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সেখানে তিনি জয়লাভ করেছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মেরূকরণ ততই স্পষ্ট হচ্ছে। দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনি ঐক্য নিয়ে শুরু হয়েছে জোরালো আলোচনা। কোন দল কার সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে বা আসন সমঝোতার ভিত্তিতে ভোটযুদ্ধে অংশ নেবে—তা নিয়ে চলছে দর কষাকষি।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি সারা দেশে নির্বাচনি জোয়ার তোলার পরিকল্পনা করেছে বিএনপি। এজন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের নেতৃত্বে ভোটমুখী কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে দলটি। তবে ভোটমুখী জোয়ার তুলতে কী ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি দলের পক্ষ থেক

নির্বাচনমুখী কর্মসূচি নিয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী নির্বাচন উৎসবমুখর করা এবং জামায়াতসহ ইসলামি ঘরানার কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি দেওয়ার পরপরই নতুন কর্মসূচি নিতে যাচ্ছে দলটি।

ফ্যাসিবাদবিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে ঐক্য জোরদার করার কথা ভাবছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে জুলাই সনদের বিভিন্ন প্রস্তাবে আরো ছাড় দিতে চায় দলটি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নানা সংস্কার প্রস্তাবে এরই মধ্যে দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর কিছু কিছু পুনর্মূল্যায়ন করা যায় কি-না তা নিয়ে দলীয় ও মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার

আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরুর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শেষ করতে নির্বাচন কমিশনকে এরই মধ্যে চিঠি দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। চিঠি দেওয়ার একদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে জাতীয়

নির্বাচনের সময়সীমা আরো নিকটবর্তী হলে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা করবে বলে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিশ্চয়তা দিয়েছে বিএনপি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরো কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছে বিএনপি। গত সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক কর্মশালায় এমন কঠোর অবস্থানের কথা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর ইস্যুতে চলমান আন্দোলন থেকে ইশরাক হোসেনের সরে যাওয়া উচিত বলে মনে করে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি।

আগামী নির্বাচন নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর ধীরে ধীরে চাপ বাড়াবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরই অংশ হিসেবে ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানো এবং ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার দাবি- এই দুই ইস্যুতে ইতোমধ্যে রাজপথে লাগাতার কর্মসূচি দিচ্ছে দলটি।

সংঘাতময় রাখাইন রাজ্যের জন্য মানবিক করিডোর দেওয়ার মতো স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে মতৈক্য সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে বিএনপি।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি করলেও সরকার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ দিয়ে যদি ভোটের রোডম্যাপ ঘোষণা করে, তাহলে তা আগামী জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারিতে হলেও আপত্তি থাকবে না বিএনপির।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির জন্য দেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলি গণহত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় দলীয়ভাবে বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে আগামী শনিবার রাজধানীতে প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে সংহতি জানাতেও যাবে দলটির একটি প্রতিনিধিদল।

সংবিধান সংস্কার নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই করা উচিত বলে মনে করে বিএনপি। প্রশাসনসহ নির্বাচনকেন্দ্রিক সংস্কারগুলো নির্বাচনের আগেই করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে দলটি। তবে সংস্কার ইস্যুতে ৩১ দফার ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া প্রস্তাবনাগুলোর ওপর মতামত তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত থাকলেও ‘প্রক্সি ভোটিং পদ্ধতিতে’ ভোটারের মতামত প্রতিফলিত হবে কি না- তা নিয়ে আরো চিন্তাভাবনার দরকার রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা।

জাতীয় না স্থানীয় নির্বাচন আগে, পূর্ণ না প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নির্বাচন- প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এমন আলোচনার মধ্যে আগামীকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় হচ্ছে বিএনপির বর্ধিত সভা।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপানের এনএইচকে টেলিভিশনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটি মনে করে, গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাস পর এ ধরনের ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই। এসব ঘটনা নির্বাচন প্রলম্বিত করার ষড়যন্ত্র।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে ভিত্তি ধরে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রকে পরিবর্তন, পরিমার্জন করে তা চূড়ান্ত করবে বিএনপি। এরই মধ্যে ছাত্রদের দেওয়া এ ঘোষণাপত্রের খসড়ায় এক দফা সংশোধন আনা হয়েছে।

নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারকেও অগ্রাধিকার দিচ্ছে বিএনপি। দলটির মতে, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এজন্য আপাতত নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কার শেষ করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিকে মনোসংযোগ করাই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব।

জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগকে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক মনে করছে বিএনপি। একইসঙ্গে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের পক্ষে থাকলেও দলটির অভিমত হচ্ছে- আপাতত অপ্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাব জটিলতা আরো বাড়াবে।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার চায় দেশের সব রাজনৈতিক দল। দৈনিক আমার দেশকে এসব দলের নেতারা বলেছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে যত হত্যা, গুম, অপহরণ ও নির্যাতন হয়েছে, এর দায় তাকে নিতেই হবে।

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার শাসনামলের বিগত ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, গুম-খুন, নির্যাতন-নিপীড়ন, জেল-জুলুমসহ রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে একটি ঘোষণাপত্র তৈরির কাজ করছে বিএনপি।


বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়া ঘোষণাপত্রের বিষয়ে সম্মত ছিলেন না অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।