আলী হাসান তৈয়ব

কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ মুহাম্মদ (সা.) শুধু মুসলিমদের নয়, সব যুগের সব মানুষের জন্য ছিলেন সাক্ষাৎ রহমত। বিশ্বমানবতার প্রতি তাঁর অবদানের শেষ নেই।

মানুষের জীবনের যেন কোনো মূল্য নেই। মানুষ সব সময় শঙ্কার মধ্যে দিন পার করছে, আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে জীবনযাপন করছে। প্রিয় বাংলাদেশ যেন পরিণত হয়েছে মৃত্যুপুরীতে! গণপিটুনি, রোড অ্যাক্সিডেন্ট ও ম্যানহোলে পড়ে যাওয়ায় সংঘটিত মৃত্যুর ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন ডোবায়-নালায় ও লাগেজের ভেতর খণ্ড-বিখণ্ড লাশ পাওয়া যাচ্ছে।

কোরআনের পরিভাষায় ‘কিসাস’ শব্দের অর্থ হলো প্রাণের বদলে প্রাণ। কেউ একজনকে অন্যায়ভাবে খুন করেছে বলে তা বিচারে প্রমাণিত ব্যক্তিকে সমমানের শাস্তি প্রদান ইসলামের বিধান। এ মর্মে পবিত্র কোরআনের যে আয়াতে মৃত্যুদণ্ডের বিধানটি বর্ণিত হয়েছে তা হলো, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, “হে মুমিনরা, নিহতদের ব্যাপারে

খেলাফত বিলুপ্তির পর মুসলিমদের অবস্থা হতশ্রী। মুসলিমরা আজ ভুলে গেছে তাদের আত্মরক্ষার শিক্ষা ও কৌশল। এর মূল কারণ কোরআন ছেড়ে দেওয়া। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কাফিরদের মোকাবিলা করার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও সদাসজ্জিত অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখবে, যা দিয়ে আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের ভীতসন্ত্রস্ত করবে—এ ছাড়া

ঈদ শুধু ঈদ নয়। ঈদ শুধু আনন্দ নয়। ঈদ আনন্দ ও ইবাদত। বরং ঈদ ইবাদতের আনন্দ। আল্লাহর নৈকট্য লাভের আনন্দ। কোরআন নাজিলের মাসে ইবাদত করে প্রভুর নৈকট্য অর্জনের আনন্দ। মাসব্যাপী এত এত ইবাদতের তাওফিক লাভের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া ও মহিমা ঘোষণার আনন্দ।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং এক রমজান থেকে আরেক রমজান, এগুলো এর মধ্যকার (সংঘটিত সগিরা) গুনাহ মুছে ফেলে; যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যায়।’ (মুসলিম : ৪৪৫)

বছরের শ্রেষ্ঠ রজনী পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবেকদর। বছরের সেরা মাস রমজানে রয়েছে শ্রেষ্ঠ এ লাইলাতুল কদর। এ মাসের শেষ ১০ দিনের যে কোনো বিজোড় রাতে রয়েছে বরকতময় লাইলাতুল কদর।

সিয়াম সাধনা শেষে আল্লাহতায়ালার এক মহৎ বিধান হলো ফিতরা আদায়। প্রথমত, ফিতরা দ্বারা দরিদ্র ব্যক্তির প্রতি সদয় ব্যবহার করা হয়, যেন ঈদের মতো আনন্দের দিনে হাত না পাততে হয়। আর ধনীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে।

মোমিনমাত্রই শবেকদর বা লাইলাতুল কদর হচ্ছে তার বড় আরাধ্য। কেন নয়; এই একটি রাতের ইবাদত যে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম। জীবনে একবার যিনি এই রাত পেলেন, তিনি দীর্ঘ তেরাশি বছর ইবাদতের নেকি লাভ করবেন।

আজ সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে মাহে রমজানের শ্রেষ্ঠতম দিনগুচ্ছ। রমজানের শেষ দশক এলে রাসুলুলুল্লাহ (সা.) পরনের ইজার শক্ত করে বাঁধতেন। রাত্রি জাগরণ করতেন এবং পরিবারের সবাইকে জাগিয়ে দিতেন।

পবিত্র রমজান মাসে সাহরির সময় ঘুমন্ত নারী-শিশুদের ওপর বর্বর ইসরাইলি বোমা হামলায় স্তম্ভিত বিশ্ববিবেক। প্রায় পাঁচশ ফিলিস্তিনি এ হামলায় শহীদ হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে এ হামলার প্রতিবাদে পুরো বিশ্বের দেশে দেশে যখন বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে, তখন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মিডিয়ায় বলেন

আজ ১৭ রমজান। দ্বিতীয় হিজরির এ দিনে সংঘটিত হয়েছিল ঐতিহাসিক বদরযুদ্ধ, ইসলামের প্রথম যুদ্ধ। আল্লাহ সেদিন তাঁর রাসুল (সা.) ও মোমিনদের বিজয়ী এবং কাফির ও মুশরিকদের পরাজিত করার মাধ্যমে হক ও বাতিলের প্রভেদ প্রতিভাত করে দিয়েছেন।

রমজানের অফুরন্ত কল্যাণের অন্যতম দিক হলো এ মাসে রোজাদারের দোয়া কবুল হয়। রমজান শুধু ইবাদতের বিশেষ মওসুম নয়, দোয়ারও অতুলনীয় উপলক্ষ।

রমজান কোরআন নাজিলের মাস। সিয়াম সাধনার এ মাসেই অবতীর্ণ হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন। আল্লাহ বলেছেন, ‘রমজান মাস, যাতে নাজিল হয়েছে আল-কোরআন, যা বিশ্বমানবের জন্য হেদায়েত, সুস্পষ্ট পথনির্দেশ এবং হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী।’ (সুরা বাকারা : ১৮৫)

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপরÑযেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের (রমজান মাস) জন্য (এ রোজা ফরজ)।

মানুষ মাত্রই তার গুনাহ হয়ে থাকে। নবী (আ.) ছাড়া কেউ গুনাহের ঊর্ধ্বে নয়। মানুষের যেমন পাপে জড়িত হওয়া নৈমিত্তিক ঘটনা, দয়াময় আল্লাহও তেমনি মানুষকে ক্ষমার সহজ সুযোগ রেখেছেন দৈনিক ভিত্তিতে।

রাসূল (সা.) বলেন, আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন, আদম সন্তানের সব আমল তার নিজের জন্য। কেবল রোজা আমার জন্য। তাই আমিই এর প্রতিদান দেব। রোজা ঢালস্বরূপ। যদি তোমাদের কেউ সিয়াম পালন করে, তাহলে সে যেন অশ্লীল কথা না বলে।

ইসলামের প্রধান ভিত্তি মহান আল্লাহ কর্তৃক অবতীর্ণ করা মহাগ্রন্থ আল-কোরআন। পৃথিবীর নির্ভুলতম বই আল-কোরআন। কোরআনের দ্বিতীয় প্রারম্ভিক সুরা আল-বাকারার শুরুতে এ বই সম্পর্কে আল্লাহ নিজেই পরিচয় দিয়েছেন।