M. Abdullah

গত রোববারের লেখায় জানিয়েছিলাম, পরের লেখায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত লিখব। এরই মধ্যে সরকার যাত্রা শুরু করেছে। ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা ও ১০ সদস্যের উপদেষ্টার কাজ বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়েছে।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সবচেয়ে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বিবেচনা করা হতো সাবেক বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সবচেয়ে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বিবেচনা করা হতো সাবেক বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে। তারপরই সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ১৯৯৬ সালের ১২ জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম ও ২০০১ সালের ১ অক্

জল্পনা-কল্পনা ও সংশয়-সন্দেহ ভুল প্রমাণ করে শেষ পর্যন্ত ভোট হচ্ছে। ব্যালটে সিল দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে নিজের পছন্দের প্রতিনিধি পাঠাতে মানুষ মুখিয়ে আছে। তুমুল প্রচারযুদ্ধের পর চূড়ান্ত ভোটযুদ্ধের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ। দুদিন পরই থেমে যাবে জমজমাট প্রচার-প্রচারণা।

‘দিব্যচক্ষু’ বলে একটি শব্দ আছে। ‘দিব্যদৃষ্টি’ বা ‘দিব্যনেত্র’ সমার্থক শব্দ রয়েছে। অন্যভাবে বলা যায় ‘জ্ঞানচক্ষু’। অলৌকিক বা অতীন্দ্রিয় দৃষ্টি বলেন অনেকে। বাংলা অভিধানে আরেকটি শব্দ আছে, সেটা হলো ‘দূরদৃষ্টি’।

গোল্ডফিশ বোধ করি সবাই চেনেন। দেখতে বর্ণিল ও প্রাণবন্ত। মন ভালো করার সব যোগ্যতাই আছে এই গোল্ডফিশের। তবে একটা ‘অপবাদ’ও আছে ওদের নামে। অপবাদ না বলে বৈশিষ্ট্য বলাই যুক্তিযুক্ত হবে হয়তো। বৈশিষ্ট্যটা হলো ওদের স্মৃতিশক্তি নাকি সাকুল্যে তিন সেকেন্ডের। এরই মধ্যে সব ভুলে যায়।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এখন দরজায় কড়া নাড়ছে। ঠিক ২৪ দিনের মাথায় ১২ ফেব্রুয়ারি বহুল প্রত্যাশিত ভোটাভুটি। দীর্ঘ দেড় যুগ পর একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ভোটাধিকারবঞ্চিত মানুষ মুখিয়ে আছে।

জুলাই সনদ আলোচনায় নেই অনেক দিন ধরেই। আর সেই সনদে থাকা রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে সাংবিধানিক রূপ দিতে যে গণভোটের আয়োজন চলছে, তার ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ ও হতাশা রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ মহলে। আমার দেশ-এর এক শীর্ষ সংবাদে গণভোট প্রশ্নে রাজনৈতিক নেতৃত্বে নির্লিপ্ততা ও এক ধরনের

জাতির অভিভাবক, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের অবিসংবাদিত কাণ্ডারি বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মধ্যে নেই। চলে গেছেন মহান রবের সান্নিধ্যে। তাকে নিয়ে এরই মধ্যে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে, আরো হবে। নির্ধারিত দিনের নিয়মিত লেখক হিসেবে পত্রিকার শিডিউল মানতে হয়। সে কারণে প্রিয় নেত্রীর বিদায়ের পাঁচ

সতেরো বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লাখ লাখ মানুষের উপচানো ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। ভিন্নমাত্রিক প্রত্যাবর্তন আর স্মরণকালের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে সাড়া জাগিয়েছেন। দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে শীর্ষ সংবাদই শুধু হননি, রাজনীতির সদরে

ঘাতকের পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক বুলেট জুলাই বিপ্লবী ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী বজ্রকণ্ঠ শরীফ ওসমান বিন হাদিকে যে বাঁচতে দেবে না, তা আগেই অনুমান করা গিয়েছিল। কোটি মানুষকে কাঁদিয়ে শেষ পর্যন্ত চলেই গেলেন।

জুলাই বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদির ঝাঁকড়া চুলের মাথা ঘাতকের গুলিতে ঝাঁজরা হয়েছে। অজ্ঞান ও সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন হাসপাতালে। চিকিৎসকরা আশার কথা শোনাতে পারছেন না। এ লেখার সময় পর্যন্ত ডাক্তারের ভাষায় তিনি বেঁচে আছেন, তবে ডিপ কোমায়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর দিনদুপুরে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র পুরানা পল্টন

জুমাবারে ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে কাঁপল দেশ। বিশেষত, রাজধানী ঢাকাকে যেন হাতের তালুতে রেখে দুলিয়েছে। কম্পনের তীব্রতার দিক থেকে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার মাঝারি এই ভূমিকম্পকে স্মরণকালের মধ্যে মারাত্মক ও নজিরবিহীন বলছেন ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞরা। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর

যেকোনো জাতির সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ও বাঞ্ছিত ধন স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব। যথার্থভাবেই কবি প্রশ্ন করেছেন, ‘স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?’ ইতিহাসে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে দেখা যাবে, যারা আত্মমর্যাদাহীন, নির্বোধ কিংবা যাদের মনুষ্যবোধের অভাব আছে, শুধু তারাই স্বাধীনতার মতো পরম ধনের

বড়ই খোশ খবর! নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, এখন পর্যন্ত তিনি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন না। শুক্রবার পটুয়াখালীতে বক্তৃতায় ডিসেম্বরের প্রথম দিকে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার কথাও জানান তিনি। অবশ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগেই জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের মুখে কেক তুলে দিচ্ছেন—এমন একটি ছবি গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। শুধু কেক খাইয়ে দেওয়া নয়, মির্জা ফখরুলের একটি বক্তব্যও মূলধারার মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ প্রচার পেয়েছে। দুটিই একই অনুষ্ঠানের।

বহুল আলোচিত ও কাঙ্ক্ষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ সই হলো। অনিশ্চয়তা ছিল, পক্ষগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা ও দোলাচল ছিল, শেষ মুহূর্তেও স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ভন্ডুল হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তবু ২৪টি রাজনৈতিক দল এবং জোট রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের যুগান্তকারী এক অঙ্গীকারনামায় সই করে নিপীড়ক ও লুটেরা রাষ্ট্রব্যবস্থা বিলোপে ইতি

দুটি পৃথক ঘটনার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে লেখাটি শুরু করতে চাই। সরাসরি ভিকটিমদের মুখে শোনা। প্রথমটি বছর-পাঁচেক আগের। পোশাকশিল্প খাতের সফল উদ্যোক্তা তিনি। একটি শিল্প গ্রুপের কর্ণধার। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। শীর্ষ দুই নেতার সঙ্গে ভালো যোগাযোগ। দলীয় কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা করতেন। একদিন তাকে তুলে

সাংবাদিকদের সবজান্তা ভাবে মানুষ। সম্ভবত সে কারণেই দেখা-সাক্ষাৎ, আড্ডা-আলোচনায় প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় হররোজ। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন একটাই—ফেব্রুয়ারিতে কি নির্বাচন হবে? অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশ-বিদেশে বারবার বলছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন দিয়ে তার সরকার বিদায়

নির্বাচন এগিয়ে আসছে। বিস্ময়করভাবে বেশ কিছুদিন আলোচনায় নেই জুলাই সনদ। হঠাৎ হাওয়া হয়ে গেছে বহুল কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র সংস্কার উদ্যোগ। ঐকমত্য কমিশন দফায় দফায় তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি আর ভিআইপি সুবিধা-প্রটোকলে রাজনীতিকদের মজমা বসিয়ে চলছিল। গত পক্ষকাল কেন যেন ঝিমিয়ে পড়েছে। কিছু বিষয়ে মতদ্বৈধ আছে। থাকবেই।

বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোকে দাবির বহর দীর্ঘ না করে, আন্দোলন করে জনভোগান্তি না বাড়িয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচনের পথে হাঁটতে হবে। অনড়, অনমনীয় ও হঠকারী মনোভাব পরিহার করতে হবে। ড. ইউনূসের পালানোর পথ বন্ধ করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

দ্বন্দ্ব-কোন্দল মিটিয়ে আগামী নির্বাচনে ক্লিন ইমেজের জনপ্রিয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা বিএনপির সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সময় খুব বেশি নেই। এ চ্যালেঞ্জ ঠিকঠাকমতো উতরাতে ব্যর্থ হলে নির্বাচনে প্রথম ধাক্কা অপেক্ষা করছে দলটির জন্য। বাস্তবতাবিবর্জিত বক্তব্য-বিশ্লেষণ দিয়ে খেলো না হয়ে ডাকসুসহ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের

একসময় ম্যাগাজিনের বেশ কদর ছিল। সপ্তাহান্তে প্রকাশিত বিভিন্ন ম্যাগাজিনের প্রচুর পাঠক ছিল, প্রভাবও ছিল। ব্যক্তিগত আর্কাইভ হাতড়াতে গিয়ে ইত্তেফাক গ্রুপের সাপ্তাহিক ‘রোববার’-এর একটি কপি সামনে এলো। ১৯৮১ সালের ৫ জুলাই প্রকাশিত।

এ সময়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকার কথা বহুল কাঙ্ক্ষিত এই সনদ ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। দেখে মনে হচ্ছে, ডাকসু ছাড়াও রাকসু, চাকসু, জাকসুসহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন আগামী কয়েক মাস রাজনৈতিক সচেতন মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকবে।

২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় থেকেই মুজিব-বন্দনা নতুন মাত্রা পায়। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় এসে ধারাবাহিকভাবে কেবল ১৫ আগস্টই নয়, পুরো আগস্ট মাসকেই শোকে মুড়িয়ে দেয়। টিভিপর্দা ও সংবাদপত্রের পাতায় মাসজুড়ে শোকের মাতম চলে।

ঢাকায় একটি বেসরকারি টিভি স্টেশনের অ্যাকাউন্টস বিভাগের কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে। সেই কর্মী ওই টিভি স্টেশনের মালিকসহ চারজনের নাম যাত্রাবাড়ীর একটি হত্যা মামলায় ঢুকিয়ে দিয়েছে।

৩১ জুলাই রাতে একটি বেসরকারি টিভি টকশোতে হালের তুখোড় আলোচক ড. ইউনূস সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক সহনীয় পর্যায়ে আনতে না পারাকে বড় ব্যর্থতা চিহ্নিত সরকারকে তুলাধুনা করেন। তার ভাষায়—এ ব্যর্থতার ফলে রপ্তানি-বাণিজ্য ধসে পড়বে। শুক্রবার সকালেই জানা গেল, বাংলাদেশের জন্য পাল্টা শুল্ক

চব্বিশের জুলাই থেকে পঁচিশের জুলাই। দেখতে দেখতে এক বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেল। ৩৬ জুলাইয়ের বিভীষিকা এখনো জনমানসে দগদগে ঘা হয়ে আছে। শ’য়ে শ’য়ে লাশ, রক্তস্রোত, হাসিনার খুনে বাহিনীর উদ্যত মারণাস্ত্র আর নৃশংসতা এখনো হিম-আতঙ্ক ছড়ায়। বছরান্তে শহীদ পরিবার ও দৃষ্টিশক্তিসহ অঙ্গ হারানো পরিবারের সদস্যরা

জুলাই শহীদ দিবস বুধবার গোপালগঞ্জে যে সহিংসতা ও প্রাণক্ষয় ঘটল, তার রেশ এখনো কাটেনি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে লঙ্কাকাণ্ড ঘটায় পতিত আওয়ামী লীগ। এনসিপির পূর্বনির্ধারিত সমাবেশে দফায় দফায় হামলা

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে ২০১৯ সালের মার্চ মাসের একটি খবর জানিয়ে দিই। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন ক্ষমতায় আসার পর দেশটিতে দ্বিতীয়বারের মতো পার্লামেন্ট

ঈদের আগে ৪ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবে নির্বাচন ইস্যুতে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে হয়েছিল। সভাটি মূলত ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের ওপর চাপ তৈরির অংশ হিসেবেই আয়োজন করা হয় বলে মনে হয়েছে। বিএনপির প্রথম সারির কয়েকজন নেতা ছাড়াও সমমনা প্রভাবশালী বুদ্ধিজীবীরা এতে অংশ নেন।

গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হচ্ছে বাক, ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। একটি রাষ্ট্রে গণতন্ত্র বিরাজমান কি না- তা বোঝা যায় সে দেশের গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন তা দেখে। যখন টিভি, রেডিও, অনলাইনসহ গণমাধ্যমের এত প্রসার ঘটেনি, তখন সংবাদপত্রে চোখ বুলিয়েই অনুধাবন করা যেত গণতন্ত্রের সূচক কোন পর্যায়ে

আপাতত স্বস্তির বার্তা মিলল। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখনই পদত্যাগ করছেন না বলে জানান দিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

দেড় দশক পর ভিন্ন পরিবেশে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ পালিত হলো। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনে এ দিবসটিও মুক্তভাবে পালন করা যায়নি। গত ১৫ বছরে দিবসটি উপলক্ষে সভা-সেমিনার করতে গিয়ে প্রচণ্ড বাধা ও হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

দুদিন আগে একটি সংবাদপত্রের তিন কলামে শিরোনাম ছিল ধানের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত। পেঁয়াজের বাম্পার ফলন নিয়েও এমন খবর প্রকাশিত হয়েছিল। আবার সামনে আমের বাম্পার ফলনের আশাবাদ নিয়েও খবর হয়।

দেশের রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। আওয়ামী লীগমুক্ত মাঠ রাজনীতির প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে নতুন করে বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের আভাস মিলছে। মধ্যম ও পেছনের সারির রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে অবহেলা-অনাদরের শঙ্কা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান শুক্রবার বলেছেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে যাতে লোডশেডিং কম হয়, সেজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। যদি লোডশেডিং হয় তাহলে প্রথমে ঢাকা শহরেই হবে, এরপর দেশের অন্য কোথাও হবে।

স্মরণকালের মধ্যে স্বস্তির ঈদ উদ্যাপিত হয়েছে এবার। ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ঈদ কাটত ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে। আওয়ামী শাসকশ্রেণির কতিপয় লুটেরা ছাড়া কাউকে ঈদের আনন্দ স্পর্শ করেনি গত দেড় দশকে।

মাগুরায় শিশু ধর্ষণ এবং মৃত্যুর ঘটনা রাষ্ট্র ও সরকারকে আরেকবার ঝাঁকুনি দিল। সমাজের সচেতন মানুষ ধর্ষণের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালো। দেশজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে, হচ্ছে। একই সময় আরো অনেক জেলা থেকে নৃশংস ধর্ষণের সংবাদ আসছে, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশ অষ্টম মাসে পা ফেলেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার পূর্ণ করেছেন সাত মাস। এ সময়ে সাফল্য যেমন আছে, আছে ব্যর্থতাও।

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহটি ছিল বেশ ঘটনাবহুল। বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতির জন্যও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের বক্তব্য ঘিরে রাজনীতিতে সরবে-নীরবে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।

এবারে লেখার ইচ্ছা ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছয় মাসের সফলতা-ব্যর্থতা, জনগণের চাওয়া-পাওয়া প্রভৃতি বিষয়ে। কিন্তু বাংলাদেশটা ইস্যুর দেশ। এখানের হররোজ নতুন নতুন ইস্যু পয়দা হয়। আম পাবলিক সেই ইস্যুতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

শুক্রবার রাতে অনলাইনে সর্বশেষ সংবাদগুলোয় চোখ বুলাতে গিয়ে হোঁচট খেলাম। খবরটি দুবার করে পড়তে হলো। প্রথমে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। ডেটলাইনটাও পরখ করে নিলাম। প্রথমে মনে হলো—পুরোনো খবর নয় তো! মাঝেমধ্যে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে পুরোনো খবর নতুন করে সামনে এলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

ফ্যাসিবাদী ও লুটেরা শাসক শেখ হাসিনাকে গত বছর ৫ আগস্টে ক্ষমতা ও দেশ দুটোই ছাড়তে বাধ্য করেছে এ দেশের বীর ছাত্র-জনতা। হাজারো জীবন, অপরিমেয় রক্তের বিনিময়ে প্রায় দেড় যুগ পর নিষ্ঠুর কর্তৃত্ববাদী শাসনমুক্ত হয়েছে দেশ।

ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই বলার চেষ্টা করছেন, দেশ ভালো চলছে না। যদিও সম্প্রতি বিআইজিডির এক জরিপের ফলাফলে জানানো হয়েছে, দেশের ৫৬ শতাংশ মানুষ মনে করে দেশ এখন ঠিকপথে চলছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও বছরের সেরা দেশ নির্বাচন করেছে দ্য ইকোনমিস্ট। সেই ফলাফল অনুযায়ী ২০২৪ সালের বর্ষসেরা দেশ বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রকাশিত দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে কোন বিবেচনায় বাংলাদেশ বর্ষসেরা তা জানানো হয়েছে।

আহত সাংবাদিকদের মধ্যে অন্তত ১০০ সাংবাদিকের আঘাত গুরুতর। অনেকে প্রায় পঙ্গুত্ব বরণ করতে চলেছেন। এখনো হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন অনেকে।