এলাহী নেওয়াজ খান

বহু প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ১২ ফেব্রুয়ারি। অথচ এর আগে কত অনিশ্চয়তা কত ষড়যন্ত্রের গল্প শুনতে শুনতে আমাদের কান ঝালাপালা হয়েছে। প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই শুনে আসছিলাম নির্বাচন না হওয়ার নানা কাহিনি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ দেশের মানুষ ইতিহাসের এক নির্মম সত্যের মুখোমুখি হয়েছে। মূলত বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রশক্তি পরিচালিত নিবর্তনমূলক শাসন এবং ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক আচরণের ফলে এমন একটি পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, যা অনেকের পক্ষে সহজে মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই পটভূমিতে কয়েকটি বিষয় নিয়ে

বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কেবল তিক্ত অভিজ্ঞতাই আমাদের মনোজগৎকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আমরা বড় হয়েছি আইয়ুব খানের তথাকথিত মৌলিক গণতন্ত্রের ধারণার মধ্য দিয়ে, যা ছিল মূলত স্বৈরশাসন ধরে রাখার এক অভিনব পন্থা। আমি দেখেছি ১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তখন আমার বয়স ১৩

হঠাৎ রাজনীতিতে নেকাব নিয়ে বেশ বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন ঠাকুর এক টিভি টকশোতে নেকাব নিয়ে এমন একটি মন্তব্য করেছেন, যা তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘ইহুদি নারীরা যখন বেশ্যাবৃত্তি করত অথবা যখন কোনো নিষিদ্ধ কার্যক্রম করত, তখন নেকাব পরত। হিজাব মুসলমানদের ড্রেস বাট নেকাব

বছরের শেষ দিনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের ঢাকা আগমনের পর অনেকে মনে করেছিলেন, দুদেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। হয়তো নতুন বছরের শুরুতে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। কিন্তু সপ্তাহ পার হতে না হতে বছরের শুরুতেই বিখ্যাত ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা এবং

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক, আর শহীদ ওসমান হাদি হয়ে গেলেন স্বাধীনতা রক্ষার প্রতীক। জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছিলেন মাত্র ৪৫ বছর বয়সে। আর ওসমান হাদি শহীদ হলেন মাত্র ৩২ বছর বয়সে।

সম্প্রতি দিল্লির একটি বিবৃতি আমাদের দৃষ্টি দারুণভাবে কেড়ে নিয়েছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সব আবেদন-নিবেদন ক্রমাগত অগ্রাহ্য করার পর এই বিবৃতি বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

জটিল এক সন্ধিক্ষণে আমরা অবস্থান করছি। জুলাই বিপ্লবোত্তর-সৃষ্ট এই সন্ধিক্ষণ এখন নানা ব্যাপারে আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বিশেষ করে বিপ্লবের পর এই দেশের মানুষ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের যে স্বপ্ন দেখেছিল

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কত ঘটনার কত তদন্ত কমিটি হয়েছে, তার হিসাব নেই। কিন্তু কোনো তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জনসম্মুখে এমনভাবে কখনো প্রকাশ পায়নি। এই প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দেশের সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ডের

সম্ভবত জুলাই বিপ্লবোত্তর উচ্ছ্বাসের প্রায় সমাপ্তি ঘটেছে। অন্যভাবে বলা যায়, বিপ্লবোত্তর মধুচন্দ্রিমার দিনগুলো এখন স্মৃতির পাতায় চলে গেছে। বরং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে এখন বিরাজ করছে কঠিন বাস্তবতা।

কদিন আগে রংপুরের পীরগাছা ঘুরে এলাম। মনে হলো নির্বাচনি প্রচারণা পুরোদমে শুরু হয়েছে। দেখলাম গাছে ও দেয়ালে শোভা পাচ্ছে নির্বাচনি পোস্টার; কোথাও কোথাও গাছের ডালে ঝুলছে। বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। এখন সারা দেশের গ্রামে গ্রামে একই দৃশ্য বিরাজ করছে। উঠোন বৈঠক চলছে সমানে। ঢাকাও তার

আমরা যেন একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত অতিক্রম করছি; দিগন্তে ফুটে উঠেছে একটি আলোর রেখা। অতিকথন নয়, বাস্তবায়নেরই অঙ্গীকার যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। সেটাই মনে হলো ড. প্রফেসর ইউনূসের ভাষণ শুনতে শুনতে। মনে হচ্ছিল অতীতের কায়েমি স্বার্থের নিগড়ে বাঁধা পুরোনো রাষ্ট্রব্যবস্থার ধ্বংসস্তূপে

সেটা ছিল দমবন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি। সারা বাংলাদেশ যেন থেমে গিয়েছিল। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা পরিলক্ষিত হচ্ছিল সবার মধ্যে। যেন ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল সবার। তখন ঢাকায় যারা ছিলেন, তারা বুঝতে পারছিলেন সংকটের গভীরতা। এটা ছিল ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফের ক্ষমতা দখল-পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার

লৌহমানবীখ্যাত মার্গারেট থ্যাচার যখন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী, তখন তার ছেলে ট্রাফিক আইনলঙ্ঘন করার দায়ে জরিমানার শিকার হয়েছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সন্তান বলে রক্ষা পাননি। কারণ ইংল্যান্ডে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, প্রধানমন্ত্রী, লর্ড, ব্যারন কিংবা সাধারণ মানুষ যেই হন না কেন। এই তো অতিসম্প্রতি ব্রিটেনে

এ মাসে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে গেল, যা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। যদিও মাঝেমধ্যে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও ছোটখাটো সংঘর্ষ অনেক দিন ধরে চলে আসছিল, কিন্তু অতিসম্প্রতি একটি মিথ্যা ধর্ষণের কাহিনি প্রচার করে যেভাবে দাঙ্গা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে

আরব বসন্ত থেকে দক্ষিণ এশিয়ার জেন-জি সুনামি। যাকে বলা হয় তরুণদের ডিজিটাল রাজনীতি, যা সূচিত হয়েছিল ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে তিউনিসিয়ায়। তারপর তা ছড়িয়ে পড়েছিল উত্তর আফ্রিকা থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশে।

লেখাটা শুরু করেছিলাম ইন্দোনেশিয়ার গণবিদ্রোহ নিয়ে। এরই মধ্যে হতবাক করা ঘটনা ঘটে গেল নেপালে। সেখানে ছাত্র-জনতার গণবিদ্রোহে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটল, যা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের প্রচণ্ডভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।

মনে হয়েছে, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা না করে পূর্বতন ধারায় কাজ শুরু করেছিলেন। তার একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে হলগুলোয় বিশুদ্ধ পানি পানের ইস্যুটি। ছাত্রশিবির প্রতিটি হলে বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য ফিল্টার বসিয়েছিল। এটা ছাত্রদলের পছন্দ হয়নি। তাই তারা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে যা ঘটে গেল, তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। ধর্মের নামে কিংবা শরিয়তের দোহাই দিয়ে এই উন্মাদনা কিংবা এই পৈশাচিকতা মেনে নেওয়ার মতো নয়।

রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লবের পর এদেশের ভোটবঞ্চিত সাধারণ মানুষ যখন একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশ নিতে মুখিয়ে আছে, তখন গত ২৯ আগস্ট গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মধ্যযুগের রাজতন্ত্র থেকে শুরু করে আধুনিককালের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়ও বাংলাদেশসহ নানা দেশে ব্যক্তিপূজা লক্ষ করা গেছে বারবার। যাকে বলা হয় কাল্টইজম বা পার্সোনালিটি কালট অর্থাৎ ব্যক্তিত্বের পূজা কিংবা ব্যক্তিত্বের সংস্কৃতি। এটি হচ্ছে একজন নেতাকে কেন্দ্র করে এমন একটি সম্প্রদায় গড়ে তোলা, যেখানে প্রশ্ন

ভারতজুড়ে মোদিবিরোধী আন্দোলন দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। প্রতিটি রাজ্যের হাজার হাজার মানুষের পদভারে রাজপথ এখন কাঁপছে। তাদের স্লোগানের ভাষা হচ্ছে : ‘মোদি হটাও সংবিধান বাঁচাও’।

‘মায়ের ডাক’ হচ্ছে গুম ও খুনের শিকার পরিবারগুলোর একটি প্ল্যাটফর্ম, যারা খুব সফলভাবে সরকারের গুম ও খুনের বিরুদ্ধে এমনভাবে প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন, যা রাজনৈতিক দলের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে তাদের স্বজন হারানোর আকুতি বিশ্ব বিবেককে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল। এই সংগঠনটি সেসব পরিবারের সদ

উল্কার গতিতে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন। আগ্রাসী ভারত ও তার আওয়ামী সহযোগীদের নিবর্তনমূলক শাসন ধারার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলেছিলেন।

মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের বিবেককে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। জানা গেছে, যারা হত্যা করেছে এবং হত্যার শিকার সোহাগ—উভয় পক্ষই বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, চাঁদা না দেওয়ায় সোহাগকে হত্যা করা হয়েছে।

মার্কিন সাংবাদিক জন রিড লিখেছিলেন ‘দুনিয়া কাঁপানো ১০ দিন। এটি ছিল ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের ওপর লিখিত জন রিডের সাড়া জাগানো গ্রন্থের নাম।

এদিকে আসল কথাটা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে ইরানভীতি পেয়ে বসেছে। বিশেষ করে প্রাচীন সভ্যতার পথ ধরে ইরানের ইসলামি নেতৃত্ব বিজ্ঞান গবেষণায়

মার্কিন প্রশাসন ভেবেছিল, ইয়েমেনে কয়েক দফা আন্দোলন চালালেই হুতি মিলিশিয়া থেমে যাবে; কিন্তু তা হয়নি, বরং হুতিরা পাল্টা মার্কিন নৌবহরে হামলা চালিয়ে নাস্তানাবুদ অবস্থা সৃষ্টি করেছিল।

মানব ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস ও নিষ্ঠুরতম যুদ্ধনীতি অনুসরণ করে থাকে ইসরাইল, যা তথাকথিত পশ্চিমা সভ্যতা দ্বারা অনুপ্রাণিত।

রাজনৈতিক শাসনের বাইরে গিয়ে আজ অন্য কিছু লিখতে চাই। কারণ রাজনীতির বিষয়ে লিখতে লিখতে মনে হচ্ছে, এর বাইরে বুঝি আমাদের সমাজে আর কোনো সংকট নেই; যদিও এ দেশের মানুষ রাজনীতির চর্চাকে ধর্মীয় চর্চার থেকেও অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ফলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক সমস্যা ও সংকট নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয়

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন তার অতুলনীয় দেশপ্রেম ও আপসহীনতার কারণে। তিনি ক্ষমতার জন্য আপসের কোনো সস্তা পথ বেছে না নিয়ে যে দৃঢ়তা প্রদর্শন করে এসেছেন, তা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে।

পৃথিবীতে ভারতই একমাত্র দেশ, যে দেশটির সঙ্গে তার সব প্রতিবেশীর সম্পর্ক তিক্ততায় ভরা। শুধু তা-ই নয়, ভারতের বর্তমান বিজেপি সরকার এমন একটি ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়েছে, যার অবশ্যম্ভাবী ফলাফল হচ্ছে সংঘাতপূর্ণ দক্ষিণ এশিয়া।

মাত্র চার দিনের সংক্ষিপ্ত একটি যুদ্ধ। কিন্তু এর প্রভাব ও গুরুত্ব সুদূরপ্রসারী এবং তাৎপর্যপূর্ণ। কেউ কারো সীমানা অতিক্রম না করে এমন এক যুদ্ধ দেখাল, যা বিশ্ববাসীকে অবাক করে দিয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অভূতপূর্ব সাফল্য বিশ্বের তাবৎ সামরিক বিশেষজ্ঞদের কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।

সংকটকালে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে না পারায় আমাদের জাতীয় জীবনে যেমন অনেক বিপর্যয় নেমে এসেছে, তেমনি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে আমরা রক্ষাও পেয়েছি। আবার শক্তির মদমত্ততা, রাগ ও প্রতিশোধের স্পৃহা থেকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কতটা ভুল হতে পারে, তা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা