ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী

ঘাড়ে বা গলায় কোনো ফোলা দেখা দিলে অনেকেই বিষয়টিকে প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দেন না। কেউ এটিকে সাধারণ ঠান্ডা-সর্দির ফল মনে করেন, আবার কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেরে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। অথচ বাস্তবতা হলো—ঘাড়ের ফোলা বিভিন্ন রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। সুতরাং সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য সময়মতো উপযুক্ত

কানের তীব্র ব্যথা রোগীদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও উদ্বেগজনক একটি উপসর্গ। হঠাৎ শুরু হওয়া ব্যথা, কানে সামান্য স্পর্শেই যন্ত্রণা বৃদ্ধি, এমনকি চোয়াল নাড়ালেও ব্যথা বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ নিয়ে অনেকেই আমাদের চেম্বারে শরণাপন্ন হন। এ ধরনের উপসর্গের একটি সাধারণ কিন্তু কষ্টদায়ক কারণ হলো বহিঃকর্ণের সংক্রমণ

প্রতিবছরের ৩ মার্চ বিশ্বব্যাপী পালিত হয় World Health Organization (WHO) ঘোষিত বিশ্ব শ্রবণ দিবস। ২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনের লক্ষ্য একটাই—শ্রবণস্বাস্থ্য সম্পর্কে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য, ‘From communities to classrooms: hearing care for all children,’ আমাদের দেশের

পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানরা সংযম ও ইবাদতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির চর্চা করেন। এ সময় অনেকেই দৈনন্দিন জীবনযাপনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেন, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে। তবে নাক-কান-গলার (ইএনটি) কোনো সমস্যা দেখা দিলে রোজা রেখে চিকিৎসা গ্রহণ করা যাবে কি না—এ প্রশ্ন প্রায়ই রোগীদের মনে সংশয় তৈরি করে।

নাক, কান ও গলা—এই তিনটি অঙ্গ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শ্বাস নেওয়া, কথা বলা, শোনা কিংবা খাবার গ্রহণ—সবকিছুই এগুলোর ওপর নির্ভরশীল। সামান্য অসচেতনতা কিংবা ভুল অভ্যাসের কারণে এসব অঙ্গে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দিতে পারে। তবে কিছু সহজ ও সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে নাক-কান-গলার বহু সমস

শুকনো কাশি বা দীর্ঘদিনের কাশি এমন এক বিরক্তিকর সমস্যা, যা অনেক সময় সাধারণ সর্দি-জ্বরের পরেও সপ্তাহের পর সপ্তাহ, কখনো মাসের পর মাস স্থায়ী হতে পারে। এর ফলে দৈনন্দিন কাজে অস্বস্তি, ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক চাপ ও কর্মক্ষমতা হ্রাস—সবই দেখা দেয়। দীর্ঘস্থায়ী কাশির পেছনে সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট ও চিকিৎসাযোগ্য

ঊর্ধ্ব-শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ অর্থাৎ সর্দি-কাশি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন, কারণ সাইনোসাইটিস থেকে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। নাকের হাড় বেশি বাঁকা থাকলে এরও চিকিৎসা নিন। সময়মতো এসবের চিকিৎসা না করালে হঠাৎ নাক থেকে রক্ত পড়তে পারে।

টনসিল আমাদের শরীরের এক ধরনের লসিকাগ্রন্থি বা লিম্ফয়েড টিস্যু, যা গলার ভেতরে দুই পাশে অবস্থিত। এর মূল কাজ হলো মুখ ও শ্বাসনালির মাধ্যমে প্রবেশ করা জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরকে সুরক্ষা দেওয়া।

এট্রোফিক রাইনাইটিস হলো নাকের ভেতরের আস্তরণ (মিউকোসা)। হাড়ের কাঠামো (টারবিনেট) ক্লেবশিয়েলা ওজানিয়া নামক জীবাণু দ্বারা ক্ষয় হয়ে রক্ত সঞ্চালন বিঘ্ন হয়ে পাতলা হয়ে যাওয়া ও শুকিয়ে যাওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। এই রোগে নাকের ভেতরে রক্তনালির প্রান্তগুলো বন্ধ হয়ে মরে যেতে থাকে। এছাড়া নাসারন্ধ্রের দুই

বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি ও পাশাপাশি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে সারা পৃথিবীর মতো আমাদের দেশেও জটিলতার সম্ভাবনা অত্যন্ত নগণ্য। চিকিৎসক হিসেবে আমরা

থাইরয়েড গ্রন্থিতে টিউমার হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। এই টিউমারগুলো থেকে ক্যানসারের ঝুঁকিও থেকে যায়। শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো থাইরয়েড গ্রন্থিতেও টিউমার বা ক্যানসার হতে পারে। এ ধরনের ক্যানসারকে থাইরয়েড ক্যানসার বলে।

আমাদের শরীরে ঘাড় বা গলার সামনে নিচের দিকে প্রজাপতি আকৃতির গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থির নামই থাইরয়েড। মানুষের বৃদ্ধি, বিকাশ এবং শারীরবৃত্তিক ও বিপাকীয় নানা ক্রিয়া-প্রক্রিয়া সাধন করার জন্য এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু কোনো কোনো পরিস্থিতিতে থাইরয়েডের সমস্যা এতটাই

অপারেশনকালে কী কী হতে পারে, অপারেশন-পরবর্তী ঝুঁকি, অপারেশনের সুবিধা/বেনিফিট, বিকল্প চিকিৎসা এবং সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে এবং অজ্ঞানবিদের সঙ্গে অবশ্যই পরিচয় করিয়ে দেওয়া উচিত।

আবহাওয়ার একটি তারতম্য হচ্ছে ঠান্ডা থেকে প্রচণ্ড গরমে আসা। বৃষ্টি, স্যাঁতসেঁতে একটি পরিস্থিতি ইত্যাদি। গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রায় প্রচুর উষ্ণতা এবং আর্দ্রতা থাকে। এর জন্য আমাদের নাক-কান-গলার নির্দিষ্ট কিছু রোগের প্রাদুর্ভাব এ সময় তুলনামূলক বেশি দেখা দেয়।

শীতে সর্দি-জ্বর খুব সাধারণ সমস্যা হলেও দীর্ঘ ঠান্ডা-কাশিসহ অন্যান্য কারণে শিশুর নাকের পেছনে মাংস বেড়ে যেতে পারে। একে বলে অ্যাডিনয়েড গ্রন্থির সমস্যা। নাকের পেছনে ও তালুর ওপরে থাকে অ্যাডিনয়েড গ্রন্থি (নাকের পেছনের টনসিল নামেও পরিচিত)।