সরদার ফরিদ আহমদ

ভাষা নিয়ে আবেগ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই আবেগ যখন ক্ষমতার আসনে বসে নিষেধাজ্ঞা হয়ে ওঠে, তখন প্রশ্ন তুলতেই হয়। প্রশ্ন না তুললে গণতন্ত্র মরে। ভাষারও মৃত্যু হয়। জুলাই বিপ্লবের জনআকাঙ্ক্ষাকে কোনো শব্দ-ভীতি দিয়ে থামানো যাবে না। ইনকিলাব মানে পরিবর্তন। পরিবর্তন মানে ভয় ভাঙা। ভয় ভাঙলেই ভবিষ্যৎ আসে।

গণভোট একটি সাধারণ প্রশ্ন নয়। এটি কাগজে ছাপা দুটি শব্দের লড়াইও নয়। এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে জনগণের চূড়ান্ত অবস্থান। এই গণভোটে কেউ কেউ নীরব। নীরবতা এখানে নিরপেক্ষতা নয়। নীরবতা এখানে অবস্থান এবং সেই অবস্থান ‘না

বাংলাদেশে রাজনীতি বিশ্লেষণ এখন আর সহজ কাজ নয়। সত্য বললেই আপনি হয়ে যান বিতর্কিত। কাউকে সমালোচনা করলেই আপনার কপালে সেঁটে দেওয়া হয় দলীয় তকমা। বিএনপির ভুল ধরলে আপনি জামায়াতি।

২২ জানুয়ারি ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত হয়েছে একটি প্রতিবেদন। সেই প্রতিবেদনের বিষয় আগামী নির্বাচন ও জামায়াতে ইসলামী। এ নিয়ে তোলপাড়। রাজনীতিতে চলছে আলোচনা, পর্যালোচনা, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ; সমালোচনাও। প্রতিবেদনটির শিরোনাম: U.S. seeks to be ‘Friends’ with Bangladesh’s once banned Islamic par

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাদের ভূমিকা নির্দিষ্ট দল, ক্ষমতা কিংবা সময়ের গণ্ডিতে আটকে থাকে না। তারা ইতিহাসে প্রবেশ করেন একটি বৃহত্তর পরিচয় নিয়ে—জাতির আস্থার জায়গা হিসেবে। মরহুম বেগম খালেদা জিয়া সেই বিরল শ্রেণির একজন। ইতিহাসের বৃহত্তম জানাজায় যাকে সম্মানিত করা হয়েছে, তাকে কেবল একটি

টকশোর ইতিহাস খুব পুরোনো নয়। শুরু রেডিওতে। ছোট আলাপ। সরল কথোপকথন। ১৯২০-এর দশক। আমেরিকা। শ্রোতা মোহিত। এটাই ছিল বীজ। টেলিভিশন এলো পরে। ১৯৫০-এর দশকেই শুরু হলো আসল খেলা। স্টিভ অ্যালেন। জনি কারসন। রাতের শো। হালকা রসিকতা। সুশৃঙ্খল আলোচনা। দর্শক মুগ্ধ। ফরম্যাটও প্রতিষ্ঠা পেল।

হাদি কখনো ধোঁয়াশায় কথা বলেননি। তিনি ফ্যাসিস্টকে ফ্যাসিস্ট বলতেন। নাম ধরে বলতেন। দল ধরে বলতেন। রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহারকে চিহ্নিত করতেন। এ কারণেই তিনি টার্গেট ছিলেন। এ কারণেই তাকে গুলি করা হয়েছিল। এ কারণেই তার জীবন নিরাপদ ছিল না।

শরীফ ওসমান হাদি। একটি নাম। একটি মুখ। আবার একটি প্রতীকও। ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। জুলাই বিপ্লবের সক্রিয় তরুণ সংগঠক। এমন একজন মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—এটুকুই যথেষ্ট ছিল দেশকে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু নাড়া শুধু শোকের নয়; আতঙ্কেরও। প্রশ্নেরও। আর সবচেয়ে বড় একটি

শরীফ ওসমান হাদি। একটি নাম। একটি মুখ। আবার একটি প্রতীকও। ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। জুলাই বিপ্লবের সক্রিয় তরুণ সংগঠক। এমন একজন মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন-এটুকুই যথেষ্ট ছিল দেশকে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য।

বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য এই যে, অতি অল্পসংখ্যক অভিজাত গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এই দেশটিকে শাসন করছে। তারা গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু আচরণে স্বৈরাচারী। সংস্কারের বুলি তোলে, কিন্তু সংস্কার করে শুধু নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য।

বাংলাদেশের রাজনীতি এক অদ্ভুত মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন, কিন্তু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দিন দিন আরো জটিল হয়ে উঠছে। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এখন নতুন করে নেড়ে দিয়েছে রাজনৈতিক মাঠ। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে জোটের প্রার্থীরা আর প্রধান দলের প্রতীকে ভোট করতে পার