সিরাজুল আই. ভুঁইয়া

একটি জাতির জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্য খুবই দুর্বল হয়ে পড়ে। সত্য বলাটা তখন বিদ্রোহের মতো শোনায়। প্রতিষ্ঠানগুলো একের পর এক ধসে পড়তে থাকে। পার্লামেন্ট হয়ে পড়ে প্রদর্শনীর জায়গা। চাপের কাছে নত হয় আদালত।

বৃহস্পতিবার রাতে, ১৯৭১-এর অসমাপ্ত অঙ্গীকার আর জুলাই ৩৬-এর জাগ্রত বিবেকের মতো ভারী এক মৃত্যু ইতিহাসের বুকে আছড়ে পড়েছে। সে মৃত্যু শুধু একটি তরুণ প্রাণের নিভে যাওয়া নয়—এ ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভিযাত্রার এক ভয়ংকর মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক নৈতিক প্রদীপের নিভে যাওয়া।

বিচার দীর্ঘ হবে, জটিলও বটে; কিন্তু ন্যায়ের প্রকৃত মাপকাঠি কেবল রায়ে নয়, স্মৃতির সততায়। গুমের স্মৃতির মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ প্রমাণ করছে—জাতি ক্ষত ভুলে নয়, তা স্বীকার করেই আরোগ্য লাভ করে। যেমন জার্মানি মুখোমুখি হয়েছিল হলোকস্টের, আর্জেন্টিনা তার ‘ডার্টি ওয়ারের’, আর দক্ষিণ আফ্রিকা তার বর্ণবৈষম্য

হস্তক্ষেপের ‘দেজা ভ্যু’ ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারকেই বেছে নিক না কেন ভারত তার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’ তিনি এটাকে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হিসেবেই দেখাতে চেয়েছেন। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর মাঝে অন্য কিছু শুনতে পাচ্ছেন।

তবে, এখনো সময় ফুরিয়ে যায়নি। ভারত এখনো রাজনীতি বাদ দিয়ে ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াতে পারে। তারা সমান অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে পারে।

নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, ‘যেকোনো সমাজকে সত্যিকারভাবে চেনা যায় দুর্বল সদস্যদের প্রতি তাদের ব্যবহার দেখে।’ সমৃদ্ধ সংস্কৃতি আর বৈচিত্র্যপূর্ণ মানুষের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভারতের প্রশংসা করেছে। কিন্তু এখন তাদের বাঁক ঘুরছে।

পিকেইউতে ড. ইউনূসের কথায় স্ফুলিঙ্গ ছিল। তিনি বলেছেন, অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারলেই কেবল সমৃদ্ধি আসবে। গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়কে অবশ্যই সেটা দেখাতে হবে। এখানে বড় স্বপ্নের লালন হবে। এখানে সংবেদনশীলতা শেখানো হবে। এটা সত্যের পক্ষে দাঁড়াবে।