প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনীতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন করেছেন।
বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে জেলার পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় এ প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরশুরামে উদ্বোধন হতে যাওয়া প্রকল্পটি ফেনীর নদীপারের মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উদ্যোগ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ফেনী জেলার নদী ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ফেনীতে প্রথম সফরে দিনব্যাপী সফরে তিনি আরও একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
এরপর পরশুরাম থেকে ফুলগাজীতে উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে যাবেন। সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তারপর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় গিয়ে সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২ কিলোওয়াট, অর্থাৎ প্রায় ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫, পরশুরামে ২৯৮ এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম রয়েছে।
বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিকেল ৫টার দিকে সড়কপথে ফেনী ত্যাগ করে রাত ৯টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময়সূচি রয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-340a94-720x405.webp)