বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বর্ণিল সাজে সেজেছে সিলেট নগরী। নগরীজুড়েই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির একদিন আগে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) তিনি সিলেটে শ্বশুরবাড়িতে আসছেন। ঢাকা থেকে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সাথে নিয়ে রাত সোয়া ৮টার দিকে তিনি ওসমানী এয়ারপোর্টে এসে অবতরণ করবেন।
এ দিকে আগামীকাল ২২ জানুয়ারি চৌহাট্টা সংলগ্ন ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভাস্থল ঘিরে সাজসাজ রব বিরাজ করছে। বিশাল বিশাল ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে আশপাশের এলাকা। প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপেও লাগানো হয়েছে দলীয় প্রার্থীদের রঙিন ব্যানার। মাঠে জনসভার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ৬ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সিলেট- ১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দলীয় চেয়ারম্যানের নির্বাচনি জনসভা সফল করতে মাদরাসা মাঠে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে জনসভা মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। দলীয় প্রধানের সফরকে কেন্দ্র করে উজ্জীবিত সিলেট বিএনপি। বিভাগীয় সমাবেশের মতো আগের দিন রাতেই মাঠ ভরে যাবে। সিলেটের নেতাকর্মীরা বিপুল আগ্রহ নিয়ে জনাব তারেক রহমানকে দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন। মাঠে জনতার স্থান সংকুলান হবে না।
সাবেক সিটি মেয়র ও সিলেট- ৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ২২ জানুয়ারির জনসভা হবে ঐতিহাসিক। বেগম খালেদা জিয়ার পর তারেক রহমান আলিয়া মাঠে নির্বাচনি প্রথম জনসভায ভাষণ দিবেন। তাকে একনজর দেখার জন্য মাঠ উপচে পড়বে। আজ থেকেই নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছে। আশপাশের রাস্তাঘাটেও জনতার ঢল নামবে।
সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এটি মূলত বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। সিলেট মহানগর এলাকার কর্মসূচির কারণে এর যথাযথ নিরাপত্তা দেয়াও আমাদের দায়িত্ব। দক্ষিণ সুরমার সিলামে নিরাপত্তার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকার বাইরে এটাই তার প্রথম সফর এবং ২০ বছর পর তারেক রহমান সিলেট বিভাগে আসছেন। আলিয়া মাঠের জনসভায় তারেক রহমান সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার মোট ১১ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে তাদের হাতে দলীয় প্রতীক ‘ধানে শীষ’ তুলে দিবেন বলে জানা গেছে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, শহীদ জিয়া, ম্যাডাম খালেদা জিয়া ওলি আওলিয়ার মাজার জিয়ারত করে প্রচারণা করতেন। সেই ধারা অব্যহত রাখছেন তারেক রহমান। আজ বুধবার বার (২১ জানুয়ারি) সিলেট পৌঁছে রাতেই তিনি দুই ওলির মাজর জিয়ারত করবেন এবং তার শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যাবেন। রাতে তিনি এয়ারপোর্ট এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে অবস্থান করবেন। কাল বৃহস্পতিবার সকালে হোটেলেই তরুণদের সাথে একটি ঘরোয়া বৈঠক করে সরাসরি আলিয়া মাঠের জনসভায় যোগদান করবেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান রাত সোয়া ৮ টার দিকে তিনি এয়ারপোর্টে এসে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সরাসরি হজরত শাহজালাল রহ. এবং হজরত শাহপরান রহ. এর মাজার জিয়ারত শেষে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলামের বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যাবেন। সেখান থেকে তিনি এয়ারপোর্ট সংলগ্ন একটি ফাইভ স্টার হোটেলে গিয়ে রাত্র যাপন করবেন।
সিলেট-৬ আসনের দলীয় প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, আগামীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে পুরো সিলেট বিভাগের মানুষ উচ্ছ্বসিত। দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে ঈদের আমেজ। তারেক রহমানের এ আগমণ দলের নেতাকর্মীদের মাঝে আলাদা স্পিরিট তৈরি করবে।
মেয়ের জামাইকে বরণে প্রস্তুত সিলামের শ্বশুরবাড়ি
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলামের বিরাইমপুর গ্রামে। ইতোমধ্যে তিনি নিজেও ‘হাফ সিলেটি' বলে উল্লেখ করেছেন। ২০ বছর পর শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণ সুরমার সিলামের বিরাইমপুর যাবেন তারেক রহমান। এজন্য শ্বশুরালয়ে চলছে উৎসবের আমেজ। পুরো বাড়িটি সাজিয়ে তুলা হয়েছে মেয়ের জামাইকে বরণের আদলে। গত কয়েকদিনের প্রস্তুতি শেষে বাড়িটি যেন এখন অতিথিদের অপেক্ষায় রয়েছে।
তাদেরকে এক পলক দেখার জন্য ইতোমধ্যে বাড়িতে আসতে শুরু করেছেন অতিথিরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে সিলাম এলাকায়।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, ২০০৪ সালের পর ২১ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো তারেক রহমান শ্বশুরবাড়িতে যাবেন।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল ইবেন রাজা বলেন, তারেক রহমান একদিকে আমাদের দলের নেতা। সেই সাথে তিনি সিলেটের মেয়ের জামাই, আমাদের দুলাভাই। তার আগমনে বর্ণিল হয়ে উঠেছে সিলেট। বাড়ির সড়কের সামনে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের ছবি সম্বলিত গেইট স্থাপন করা হয়েছে। একই সাথে বাড়ির প্রবেশদ্বারে সারি সারি গাছে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য দেয়া হয়েছে রং। সেই সাথে বাড়ির প্রধান গেইটটিতেও লেগেছে রংয়ের আচল। দেয়া হয়েছে লাল রং। সব কিছু আয়োজন মেয়ের জামাইয়ের জন্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

