নোয়াখালীতে ছাত্রশিবিরের তিন কর্মী-সমর্থক গুলিবিদ্ধ

নোয়াখালীতে ছাত্রশিবিরের তিন কর্মী-সমর্থক গুলিবিদ্ধ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মী ও দুই সমর্থক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের বারইচতল গ্রামের একটি অটো রাইস মিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন—বারইচতল গ্রামের হোসেন মাস্টার বাড়ির মো. তহিদুল ইসলাম খোকনের ছেলে সাকিবুল হাসান (১৭), আলাউদ্দিন হাজী বাড়ির কফিল শিপনের ছেলে মো. নাদিম (১৭) এবং মো. হোসেনের ছেলে মো. সাহের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাদিম, সাকিব ও সাহের মোটরসাইকেলে করে বাংলা বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা কয়েকজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধের চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে তারা এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনই গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এর আগে গত সোমবারও বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।

ঘটনার বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ অভিযোগ করে বলেন, যুবদল নেতা হারুনের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের কর্মী ও সমর্থকদের ওপর এ হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এরআগেও হারুনের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে আইনের আওতায় আনলে এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান।

অন্যদিকে, বেগমগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মহি উদ্দিন রাজু জামায়াতের এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গোপালপুর ইউনিয়নের যুবদল কর্মী সোহেলকে গুলি করে ছাত্রশিবির। এ ছাড়া আমান উল্লাহপুর, আলাইয়াপুর ও ছয়ানীতে তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর জামায়াত-ছাত্রশিবির একাধিকবার হামলা ও গুলি চালিয়েছে, যার প্রতিবাদে যুবদলের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, জামায়াত ও শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ঘটনা তাদের ওপর চাপানো হচ্ছে। এই হামলায় তাদের দলের কেউ সম্পৃক্ত নেই বলে দাবি করে তিনিও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান রোববার দুপুরে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হাসপাতালে গিয়ে আহত দুজনকে দেখে এসেছে। একজনের পিঠে এবং অপরজনের হাতে স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। তারা বাংলা বাজারের ‘মামুন কসমেটিকস’এ চাকরি করেন।

তিনি আরো জানান, এই হামলার আগে বাংলা বাজারে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর আহতরা বাড়ি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। তবে আহতদের রাজনৈতিক পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি; অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন