নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও করে মানববন্ধন

নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও করে মানববন্ধন

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ-এর ইজারাদারদের বিরুদ্ধে নৌপথে চাঁদাবাজির বন্ধের দাবিতে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় ঘেরাও করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন নৌ শ্রমিক ও মালিকরা।

বিজ্ঞাপন

রোববার দুপুর ১২টায় জামালগঞ্জ উত্তর স্টিলবডি নৌকা শ্রমিক সমবায় সমিতি লিমিটেড ও সাধারণ শ্রমিকদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিকরা উপজেলার প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তারা জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, জামালগঞ্জ উত্তর স্টিলবডি নৌকা শ্রমিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মো. কবির আহমদ, নৌকা মালিক আবুল হোসেনসহ অন্যান্য নৌযান মালিক ও শ্রমিক নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জামালগঞ্জে নৌপথে বিআইডব্লিউটিএ-এর দুই ইজারাদার নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি করছেন। নৌপথে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চললেও প্রশাসনের কোনো সক্রিয় ভূমিকা নেই। প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে চাঁদাবাজরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নৌপথে এসব চাঁদাবাজি দেখেও না দেখার ভান করছে প্রশাসন।

ইজারাদারদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, ইজারাদার জিয়াউর রহমান ও ওয়াহিদ আলীর জোর কোথায়? তারা কার শক্তিতে চাঁদাবাজি করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রশাসন কেন নীরব?

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্দেশে বক্তারা বলেন, আপনি কয়েকজন চাঁদাবাজের জন্য ২০ হাজার শ্রমিকের পেটে আঘাত করবেন না। প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি হলেও তাদের আইনের আওতায় না এনে পরিবেশের অজুহাত দেখিয়ে ক্রাশার মিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। মিলে জরিমানা করায় আমাদের আপত্তি নেই, কিন্তু চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেই কেন? তাহলে কি আমরা ধরে নেব আপনি তাদের কাছে ম্যানেজ হয়েছেন? মনে রাখবেন, শ্রমিকের পেটে আঘাত করে কেউ কোনোদিন টিকে থাকতে পারে না।

আগামী তিন দিনের মধ্যে চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আরো কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হব আমরা।

লালপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির উদ্দেশে বক্তারা বলেন, আপনারা চাঁদাবাজি বন্ধ না করে উল্টো আমাদের হয়রানি করছেন। কাগজের অজুহাত দেখিয়ে চাঁদাবাজদের পক্ষ নিয়ে মামলার ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদার ওয়াহিদ আলী বলেন, ‘আমি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টোল আদায় করছি। আমার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগ মিথ্যা।

আরেক অংশের ইজারাদার জিয়াউর রহমান বলেন, ‘অতিরিক্ত কোনো টোল আদায় করি না। তাদের অভিযোগ সঠিক নয়।’

জামালগঞ্জ লালপুর নৌপুলিশের অফিসার ইনচার্জ সজল কুমার কানু বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ-এর নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি । নৌযানের কাগজ সঠিক না থাকলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এটি কোনো হয়রানি নয়।’

জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বন্দে আলী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।‘

এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘আমি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে একটি মিটিংয়ে আছি। আজকের বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো অবগত নই।’

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন