ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার আলোচিত শিশু নিছামনি হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার প্রাপ্তবয়স্ক তিন আসামি আরিফ, রাকিব ও সিয়ামকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
একই মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মারুফকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ১১ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় চার আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামে নিজ বাড়ির পাশ থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু নিছামনি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে কংশ নদীর একটি বাঁকে স্থানীয় লোকজন তল্লাশি চালিয়ে নদীর তলদেশে পুঁতে রাখা অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
সেদিন রাতেই দাফনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে লাশ গোসল করাতে নেওয়া হলে শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। এতে তাদের সন্দেহ হলে দাফনের প্রস্তুতি স্থগিত রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ধোবাউড়া পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরদিন ১৫ জুন রাতে নিহত শিশুর বাবা ধোবাউড়া থানায় দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও সন্দেহভাজন চার তরুণের নাম উল্লেখ করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। পরে চার আসামিকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তারা বিচারকের কাছে শিশু নিছামনিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বজলুল করিম চৌধুরী।
আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধোবাউড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রায় ঘোষণার পর নিহত শিশুর পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, দ্রুত তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন হওয়ায় তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা দেখছেন।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

