চট্টগ্রামে শিশু ইরা হত্যা মামলায় বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে শিশু ইরা হত্যা মামলায় বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিশু জান্নাতুল নাঈম ইরা মনি হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি বাবু শেখ (৫০)-কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে অপহরণের দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ধর্ষণের চেষ্টার দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং মোট আড়াই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় বাবু শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আ ন ম কামরুল হাসনাত চৌধুরী। বাদীপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু ও অ্যাডভোকেট রিক্তা বড়ুয়া।

আসামিপক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট বিবেকানন্দ চৌধুরী।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকায় ইরাকে ফুসলিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে বাবু শেখ। এতে ব্যর্থ হয়ে ছুরি দিয়ে শ্বাসনালি কেটে তাকে মৃত ভেবে সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক ও চন্দ্রনাথ পাহাড়ের মাঝামাঝি একটি পাহাড়ি খাদে ফেলে পালিয়ে যায় বাবু। সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও স্থানীয় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইরা নিজের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের বর্ণনা দেয়। এরপর মৃত্যুর সঙ্গে দুই দিন লড়াই করে ৩ মার্চ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৫ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৮ জুন আদালত অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যা ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। গত ২ জুলাই উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৯ জুলাই রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনার দিন বাবু শেখ শিশুটিকে নিয়ে চন্দ্রনাথ মন্দির এলাকায় যাওয়ার দৃশ্য মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে। ঘটনার পরদিন কুমিরা ইউনিয়নের ছোট কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় ইরার মা সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেন। রায় ঘোষণার পর ইরার পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন