রাজিবপুর-নয়ারচর ঘাটে নাব্যতা সংকট, ভোগান্তিতে চরাঞ্চলের মানুষ

রাজিবপুর-নয়ারচর ঘাটে নাব্যতা সংকট, ভোগান্তিতে চরাঞ্চলের মানুষ

কুড়িগ্রামের চিলমারী নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন রাজিবপুর ও নয়ারচর ঘাটে নাব্যতা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কমে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চরাঞ্চলের যাত্রী, ব্যবসায়ী ও নৌযান চালকেরা। দ্রুত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে এই নৌপথ সচল করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

চর রাজিবপুর উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় নৌপথই এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। চিলমারীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য রাজিবপুর ও নয়ারচর ঘাট ব্যবহার করে আসছেন রাজিবপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ।

চর রাজিবপুরের করাতিপাড়ার বাসিন্দা জরিপ উদ্দিন জানান, বর্ষার প্রায় তিন মাস নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় নৌযান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। তবে পানি কমতে শুরু করলেই নদীর বিভিন্ন অংশে চর জাগতে শুরু করে এবং একসময় ঘাট থেকে মূল নৌপথ অনেক দূরে সরে যায়।

সম্প্রতি রাজিবপুর ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে একসময় নৌকা ভিড়ত, সেখানে পানি কমে তা বহুদূরে সরে গেছে। ফলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। চর রাজিবপুরে চাকরির সুবাদে বসবাসকারী কুড়িগ্রামের যাত্রাপুর ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, বর্ষায় নয়ারচর ও রাজিবপুর ঘাট থেকে খুব সহজেই নৌকায় চিলমারী যাওয়া যায়। অথচ শুষ্ক মৌসুমে ঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়। বালুর চর ও কাঁচা রাস্তায় রিকশা বা অন্য কোনো যানবাহন চলতে চায় না। পেলেও দিতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া।

নৌকার মাঝি সামেজ মিয়া বলেন, ঘাটের পাশাপাশি চিলমারীর পথে নদীর বিভিন্ন অংশেও পানি শুকিয়ে চর জেগে উঠেছে। অনেক জায়গায় নৌকা মাঝপথে আটকে যায়। তখন যাত্রীদের নামিয়ে কিংবা ঠেলে নৌকা পার করতে হয়।

নয়ারচর ঘাটের খেয়া নৌকার মাঝি আলম মিয়া জানান, পানি কমলে নয়ারচর ঘাট থেকে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে নতুন করে নৌকাঘাট সরাতে হয়, যা চরাঞ্চলের মানুষের পারাপারকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাজিবপুর ও নয়ারচর হাট আশপাশের চরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান বাজার। কিন্তু ঘাটে নৌকা ভিড়তে না পারায় ব্যবসায়ীদের অনেক সময় মাথায় করে দীর্ঘ পথ পণ্য বয়ে নিয়ে যেতে হয়।

রাজিবপুর ঘাটের ইজারাদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করে ঘাট ইজারা নেওয়া হলেও এখানে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। শুষ্ক মৌসুমে চর জেগে ঘাট মূল নৌপথ থেকে দূরে সরে যাওয়ায় যাত্রী ও নৌযানচালক উভয়েই বিপাকে পড়েন।

তিনি আরও জানান, নদী আরও শুকিয়ে গেলে নৌ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। পার্শ্ববর্তী রৌমারী উপজেলার নৌপথে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা থাকায় তুলনামূলক সহজে চিলমারী যাওয়া গেলেও রাজিবপুর ও নয়ারচরের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। তাই জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং চালুর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে চিলমারী নদীবন্দরের বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব আলম বলেন, প্রতি বছরই শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি এবং এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন