সিলেটের জালালাবাদ থানায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারী, শিশুসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার রাতে এসএমপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
তিনি জানান গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— জালালাবাদ থানার বড়পৌদ এলাকার মহরম আলী ও কমরুন্নেছার ছেলে আব্দুল মতিন (৪৫) এবং নগরীর সোনারপাড়া এলাকার নবারুন ২০১ নম্বর বাসার বাসিন্দা খালেদা বেগম (৩২)। খালেদা বেগম কোম্পানীগঞ্জ থানার দলইরগাঁও গ্রামের ইসমাইল আলীর স্ত্রী ও নাম প্রকাশ না করা খালেদা বেগমের শিশু কন্যা (১৬)।
শুক্রবার গভীীরাতে নগরীর সোনারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জালালাবাদ থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে জালালাবাদ থানার হাটখোলা ইউনিয়নের উমাইরগাঁও এলাকায় বাদেশ্বর নদীর উত্তর পাড়ে কুড়াইল হাওড়ের ঝোপঝাড় থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশের মাধ্যমে মৃতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
নিহতের নাম শোয়েবুর রহমান ওরফে শিহাব ওরফে রাজ (৩০)। তিনি এয়ারপোর্ট থানার বড়শালা মংলিপাড়ার আমীর আলী ও রেজিয়া বেগমের ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সয়াইবুর রহমান (৩৬) বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় মামলা (নং-১২/১২, তারিখ-৩০/০১/২০২৬) দায়ের করেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ২০২৩ সাল থেকে ভিকটিম শোয়েবুর রহমান আটক খালেদা বেগমের বাসায় তার সন্তানদের আরবি গৃহশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। খালেদা বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় ভিকটিম বাসার সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, শোয়েবুর রহমান খালেদা বেগমকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তার স্বামীর সঙ্গে শিবগঞ্জ উপশহর এলাকায় একটি প্লট যৌথভাবে কেনার পরিকল্পনা করে ২০ লাখ টাকা নিয়ে বায়না দেন। পরে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জমির টাকা ও প্রায় ৭ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেন।
টাকার জন্য চাপ দিলে রাজ খালেদা ও তার পরিবারকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে এবং শিশু কন্যার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্হাপন করে।
আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ব্যাপার আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

