অবৈধ ‘নাসি’ ও স্লুইসগেট নিয়ন্ত্রণের খেসারত

পেকুয়ায় পানির নিচে লক্ষাধিক মানুষের জীবন

উপজেলা প্রতিনিধি, পেকুয়া (কক্সবাজার)

পেকুয়ায় পানির নিচে লক্ষাধিক মানুষের জীবন
ছবি: আমার দেশ

কক্সবাজারের পেকুয়ায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের চাপে মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা এলাকায় বেড়িবাঁধের দুটি অংশ ভেঙে গেলে মুহূর্তেই নদীর পানি আশপাশের জনপদে ছড়িয়ে পড়ে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পেকুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আনসারী বলেন, বুধবার রাতেই ভাঙন ঠেকাতে শত শত মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালান। কিন্তু ভোরের দিকে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের প্রবল স্রোতের কাছে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে বেড়িবাঁধের দুটি অংশ ধসে পড়ে এবং হু হু করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।

বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে অসংখ্য বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রান্নাঘর ডুবে যাওয়ায় অনেক পরিবার খাবার রান্নাও করতে পারছে না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ।

এদিকে উজানটিয়া, রাজাখালী, মগনামা, টইটং, শিলখালী, বারবাকিয়া ও সদর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

উজানটিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা মীর মশাররফ হোসেন টিটু বলেন, মাতামুহুরী নদী ও বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন ১২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধের শতাধিক স্থানে অবৈধভাবে মাছ ধরার ফাঁদ বা ‘নাসি’ বসানো হয়েছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্লুইসগেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে না পেরে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার বিভিন্ন খাল, নালা ও পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট দখল করে মাছের ঘের ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় পাহাড়ি ঢলের পানি আটকে যাচ্ছে। এতে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে লবণ চাষ এবং বর্ষা মৌসুমে মাছের ঘের ও ধান চাষের সুবিধার্থে মগনামা, রাজাখালী, উজানটিয়া, পেকুয়া সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র পানি নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়ি দীর্ঘ সময় ধরে পানির নিচে ডুবে থাকে এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পানিবন্দি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন