মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাকের হোসেনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ময়নাতদন্তে তার মাথা থেকে রিভালবারের একটি গুলি বের করা হয়েছে। হত্যার কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তাৎক্ষণিকভাবে যুবদল ও ছাত্রদল শহরে মিছিল বের করে। বাস টার্মিনালে তাৎক্ষণিক বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান।
বুধবার ভোর ৬টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মাথার পেছনে একটি ছিদ্রের চিহ্ন পাওয়া যায়। স্বজনদের দাবির মুখে পুলিশ তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডাক্তার কৃষ্ণ দাস বিশ্বাস জানান, দুপুর দেড়টার দিকে ময়নাতদন্তে তার মাথার ভেতর থেকে একটি ছোট সাইজের গুলি বের করা হয়েছে। এটি পিস্তল বা রিভলভারের গুলি হতে পারে; যা অধিক তদন্ত শেষে নির্দিষ্ট করে বলা যাবে।
নিহত সাকের হোসেন মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি পৌর যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে সাকের হোসেনকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তার মাথার পেছনে একটি ছিদ্রের চিহ্ন দেখতে পান চিকিৎসক। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইনুল হাসান জানান, বুধবার ভোরে কয়েকজন ব্যক্তি সাকের হোসেনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত সাকের হোসেনের বড় ভাই ঠিকাদার রাজমীর হোসেন জানান, পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি।
নিহত সাকের হোসেনের বিরুদ্ধে বিগত ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে ১০টি রাজনৈতিক মামলা ছিল বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, ময়নাতদন্তে যুবদল নেতা সাকেরের মাথায় একটি গুলি পাওয়া গেছে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিলে বিস্তারিত জানা যাবে। পুলিশ ইতিমধ্যে প্রযুক্তি এবং ম্যানুয়ালি এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ এবং জড়িতদের বিষয়ে জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ভালো খবর দিতে পারবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

