কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মগড়াকুড়া আকন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের শিকার হয়ে স্থানান্তরের দীর্ঘ ছয় বছর পার হলেও মাঠ ভরাট না হওয়ায় এবং শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থী।
২০২০ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে গেলে দক্ষিণ খাউরিয়ার চরের একটি ফসলি জমিতে স্থানান্তর করা হয়। ওই সময় দুটি টিনশেড ঘর স্থাপন করা হলেও অর্ধযুগ পেরিয়ে গেলেও মাঠ ও আশপাশের নিচু জায়গা ভরাট করা হয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের পুরো প্রাঙ্গণ নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি থামার পরও দীর্ঘ সময় মাঠ ও প্রবেশপথে কাদা-পানি আটকে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তির পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষা ও খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষ সংকটে গাদাগাদি করে পাঠ নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। প্রয়োজনের তুলনায় কক্ষ কম থাকায় স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কবির হোসেন জানান, ‘বৃষ্টি হলেই স্কুলের মাঠ ও সামনে পানি জমে যায়। কাদা-পানি মাড়িয়ে ক্লাসে যেতে হয়। অনেক সময় জামা-কাপড় ও বই-খাতা ভিজে যায়। মাঠ ভরাট করে দিলে আমাদের খুব সুবিধা হতো।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে মাঠ ভরাটের ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

