আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ঈদের আগে চট্টগ্রামে ৪৯ গার্মেন্টে শ্রমিক অসন্তোষের শঙ্কা

সোহাগ কুমার বিশ্বাস, চট্টগ্রাম

ঈদের আগে চট্টগ্রামে ৪৯ গার্মেন্টে শ্রমিক অসন্তোষের শঙ্কা

ঈদের আগে সরকার নির্ধারিত সময়ে বেতন-বোনাস দেওয়া নিয়ে চট্টগ্রামের প্রায় অর্ধশত কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা করছে শিল্প পুলিশ। তবে বিজিএমইএর মধ্যস্থতায় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। শেষ কর্মদিবসের আগেই সবাইকে বেতন-বোনাস পরিশোধের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তারপরও কয়েকটি গার্মেন্ট এখন পর্যন্ত অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে অসন্তোষ এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরকার সফট লোন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই লোন বিতরণে বৈষম্য না হলে বড় কোনো বিপদ হবে না।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তালিকাভুক্ত ২৬০টি গার্মেন্টসহ চট্টগ্রামে ছোট-বড় মিলিয়ে গার্মেন্টের সংখ্যা ছয় শতাধিক। এসব গার্মেন্টে কর্মরত রয়েছে চার লাখ ৩৩ হাজার ৪২২ শ্রমিক। বেতন ও বোনাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ঈদের আগে কোনো না কোনো গার্মেন্টে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়, যার প্রভাব পড়ে পুরো রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর। এ ঝুঁকি এড়াতে প্রতি বছর ঈদের আগে থেকে প্রস্তুতি নেয় সরকার, যার সমন্বয় করে শিল্প পুলিশ।

এ বছর ঈদের আগে চট্টগ্রামের ৬৬টি গার্মেন্টকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে শিল্প পুলিশ। এর মধ্যে ২৫টি বিজিএমইএর সদস্য। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো ছোট আকারে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করে থাকে। শিল্প পুলিশ জানায়, শ্রমঘন এই শিল্প কারখানাগুলোর অবস্থান সুনির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকাতে। শ্রমিক-কর্মচারীরাও ওই এলাকা ঘিরেই বসবাস করে। প্রতিটি গার্মেন্টে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা একে অপরের পরিচিত কিংবা পরিবারের সদস্য। তাই একটি গার্মেন্টে অসন্তোষ হলে পুরো শিল্প এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তথাকথিত শ্রমিক নেতারা ফায়দা লোটার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে। তারাও এর পেছনে ইন্ধন দিতে থাকে।

এদিকে প্রতি বছর ঈদের আগে বেতন-বোনাস মিলে বাড়তি চাপ তৈরি হয় মালিকদের ওপর। বিশেষ করে যেসব গার্মেন্ট নানা কারণে সরাসরি বায়ার ডিল করতে পারে না, সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করে, তারাই বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তারা যে পেমেন্ট পায়, শ্রমিকদের বেতন কারখানা পরিচালন ব্যয় মিটিয়ে তাতে লাভের পরিমাণ থাকে অল্প। ঈদের আগে বাড়তি বোনাসের চাপ তৈরি হলে এদের অনেকেই সে চাপ সামাল দিতে পারে না।

শিল্প পুলিশ-চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, এ বছর ঈদের আগে চট্টগ্রামে এমন ঝুঁকিপূর্ণ গার্মেন্ট ছিল ৬৬টি। তবে শুরু থেকেই বিজিএমইএর মধ্যস্থতায় কারখানাগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে শিল্প পুলিশ। যেসব প্রতিষ্ঠানের তাদের মূল কোম্পানির কাছে পাওনা ছিল সেগুলো পরিশোধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংকট এড়াতে সরকার আড়াই হাজার কোটি টাকা সফট লোন ঘোষণা করেছে। সেই টাকা যাতে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পায়, সে ব্যাপারেও কাজ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি গার্মেন্ট তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছে। বাকিরা শেষ কর্মদিবস ১৮ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত ঝুঁকি এড়াতে শেষ কর্মদিবসের আগেই বেতন-ভাতা পরিশোধ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী জানান, বিজিএমইএর সদস্য ১২ থেকে ১৫টি গার্মেন্টে সংকট আছে। তবে তা সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি এড়াতে বিজিএমইএ কীভাবে পাশে দাঁড়াতে পারে, সরকারের কী করণীয় আছে সেই বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকার নিয়মিত রপ্তানিতে থাকা কারখানাগুলোর জন্য যে সফট লোন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা ইতিবাচক। তবে এখানে আরেকটু সহজীকরণ করলে সুফল বেশি আসতো।

তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নজরদারি করা সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, গত দেড় বছরে ১৯টি বড় গার্মেন্টসহ শতাধিক গার্মেন্ট বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের মালিকানাধীন গার্মেন্টই বেশি। এছাড়া গত ১৭ বছর যেসব শ্রমিকনেতা গার্মেন্টশ্রমিকদের নেতৃত্ব দিয়েছে তারাও কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাদের অনেকে রাতারাতি ভোল পাল্টে কেউ বিএনপি আবার কেউ জামায়াতের শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। অনেকে গা ঢাকা দিয়েছে, আবার কেউ কেউ নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। তাদের সবাইকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এদের অনেকের গতিবিধি সন্দেহজনক। একটি সংকটকে পুঁজি করে কেউ যাতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইতোমধ্যে সতর্ক করে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...