পরিবারের সম্মতি না থাকায় পালিয়ে বিয়ে করেছিল অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার। তবে হাতের মেহেদির রং না শুকাতেই স্বামীর ঘরে তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে ।
খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লাশ উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামিয়া ইসলাম উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী সাহাপাড়ার লিঠু মাতুব্বরের মেয়ে এবং মুনসুরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের রনি শেখের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় দুই মাস আগে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রেমিক রনির সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে লামিয়া। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর স্বজনেরা তাদের খুঁজে বের করেন। এরপর থেকে লামিয়া কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামে স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করছিল।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক কলহের জেরে তিন দিন আগে রনি তার স্ত্রী লামিয়াকে মারধর করে। এ নিয়ে স্বামী ও শাশুড়িসহ পরিবারের লোকজনের সঙ্গে লামিয়ার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। রোববার সন্ধ্যায় লামিয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনেরা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তার লাশ দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
লামিয়ার পরিবারের অভিযোগ, লাশ হাসপাতালে রেখে স্বামী রনি শেখসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
লামিয়ার নানা অদুত খালাসী বলেন, ‘সকালে রনির মা ফোন করে জানায় লামিয়া মারা গেছে। হাসপাতালে এসে আমরা তার লাশ দেখতে পাই।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক আরিফুল হক জানান, লামিয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিব জানান, পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ হেফাজতে নিয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল রহস্য উদ্ঘাটন হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

