সরকার প্রশাসক নিয়োগ না দিয়ে আগে স্থানীয় নির্বাচন দিতে পারতো: আবদুল হালিম

রংপুর অফিস

সরকার প্রশাসক নিয়োগ না দিয়ে আগে স্থানীয় নির্বাচন দিতে পারতো: আবদুল হালিম

যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন, সেখানে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।

বৃহস্পতিবার রাতে রংপুরে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, সরকার দ্রুত প্রশাসক নিয়োগ না দিয়ে আগে নির্বাচনটা আরও আগে দিতে পারতো। নির্বাচনে যারা ৫০ হাজার ভোটে হেরেছে তাদেরকেই সরকার প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গণভোটে প্রদত্ত গণরায়ের বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, সীমান্তে পুশ-ইন ও বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জনগণের নিত্যদিনের দুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে আগামী ১১ জুলাই রংপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণ যে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলেছে, তার ধারাবাহিকতায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে দেশের মানুষ তাদের মতামত সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।

মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের রায়ই সর্বোচ্চ। সেই রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন রাষ্ট্র ও সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

তিনি তিস্তার ন্যায্য পানিপ্রবাহ নিশ্চিত এবং মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি উৎপাদন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে প্রকল্পটি সরাসরি সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিনেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ বঞ্চনার শিকার হচ্ছে।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা ও পুশ-ইনের ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকারের জন্য উদ্বেগজনক। এসব ঘটনার স্থায়ী সমাধানে সরকারকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট, কৃষকের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষ কষ্টে রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক গণসমাবেশ গুলোতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবির প্রতি সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ। রংপুর বিভাগীয় সমাবেশও উত্তরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য দাবি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্‌ম হবে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া আগামী ১১ জুলাই রংপুর জেলা স্কুল মাঠে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর মহানগর আমির এটিএম আযম খান, রংপুর জেলা আমির ও রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, মহানগর সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, মহানগর প্রচার ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, এনসিপি রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রংপুর মহানগর সভাপতি মাওলানা ইব্রাহিম খলিল, খেলাফত মজলিসের রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক মুফতি নেয়ামতুল্লাহসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন