নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী উদ্যোক্তাকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা পপি আক্তার বাদী হয়ে নরসিংদীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন— মনোহরদী উপজেলার হাররদিয়া এলাকার আব্দুল হালিমের ছেলে আব্দুল জব্বার (৩০) এবং অর্জুনচর এলাকার মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে মোক্তার উদ্দিন তালুকদার (৪৮)।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পপি আক্তারের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৭ মে দুপুরে অভিযুক্তরা পপির বিউটি পার্লারে গিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। এতে রাজি না হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে মারধর করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এছাড়া একপর্যায়ে বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান সরকার দোলন ভুক্তভোগীর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য দুই আসামি দোকানের ড্রয়ারে থাকা ৫২ হাজার টাকা এবং ভুক্তভোগীর গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান বলেও দাবি করা হয়।
পপি আক্তারের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী পপি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসা শেষে তিনি মনোহরদী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। লিখিত অভিযোগ দিলেও পরবর্তীতে কোনো মামলা বা জিডি নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। পরে বাধ্য হয়ে ১৮ জুন নরসিংদীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান সরকার দোলনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনোহরদী থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। কোনো নারী থানায় এসে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন বলেও আমার জানা নেই।”
এদিকে মামলার বিষয়ে নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী বলেন, এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হতে পারে। রাজনৈতিকভাবে তাকে ঘায়েল করার জন্য মামলাটি করা হতে পারে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তের পরই প্রকৃত সত্য জানা যাবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

