সিএমপি কমিশনারের গুলি করার বার্তা ফাঁস

কনস্টেবল অমি দাশ সাময়িক বরখাস্ত

কনস্টেবল অমি দাশ সাময়িক বরখাস্ত

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজের দেওয়া ওয়্যারলেস নির্দেশ ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার অমি দাশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাধারণ এসব ঘটনা প্রমাণিত হলে স্থায়ীভাবে চাকরিও যাওয়ার নিয়ম রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

রোববার রাতে খুলশী থানা পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সাধারণ মামলার পর সাময়িক বরখাস্ত একই সঙ্গে বিভাগীয় মামলাও হয়।

নাম প্রকাশ না করে ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, তাকে এখন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় আর কোনো গোপন বিষয় পাচার বা বার্তা বাইরে প্রচার করছে কি-না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। তাকে ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত ওই বার্তাটি তিনিই বাইরে দিয়েছেন। সেজন্য তার স্থায়ী চাকরি যাওয়ার নিয়ম রয়েছে।

অমি দাশ পুলিশের টেলিকম ইউনিটের সদস্য। প্রেষণে তিনি খুলশী থানায় কর্মরত ছিলেন। গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়। বাবার নাম রাজিব দাশ।

সিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, কমিশনারের সংবেদনশীল নির্দেশ গোপন রাখার কথা থাকলেও সেটি বাইরে চলে আসায় প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অস্বস্তি তৈরি হয়। পরে একাধিক টিম তদন্তে নামে এবং অমি দাশকে শনাক্ত করা হয়।

গত ১১ আগস্ট রাত ২টার দিকে নগরের সল্টগোলা ক্রসিং–ইশান মিস্ত্রি হাট এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সংঘর্ষ বাধে। এতে বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ গুরুতর আহত হন।

পরদিন রাতে কমিশনার হাসিব আজিজ ওয়্যারলেসে সিএমপির সব ইউনিটকে উদ্দেশ করে কড়া নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের প্রাধিকার অনুযায়ী প্রতিটি থানার মোবাইল পার্টি, পেট্রোল পার্টি, ডিবি টিম ও চেকপোস্ট পার্টি লাইভ অ্যামুনিশন ও অস্ত্রসহ ডিউটিতে যাবে। কেবল রাবার বুলেট দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ টহল দলের সামনে কেউ অস্ত্র বের করলে তা ধারালো হোক বা আগ্নেয়াস্ত্র-গুলির মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে হবে। আত্মরক্ষার অধিকার ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০৬ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি পুলিশ সদস্যের আছে। সরকারি গুলির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

এই ওয়্যারলেস নির্দেশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শীর্ষ পর্যায়ে সমালোচনা শুরু হয়। গোপনীয় বার্তা কীভাবে বাইরে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন