ফ্যাসিবাদবিরোধী কবিতা লিখে নির্যাতনের শিকার আরিফ

আনোয়ার হোছাইন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার)

ফ্যাসিবাদবিরোধী কবিতা লিখে নির্যাতনের শিকার আরিফ

ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্বাসন ও প্রত্যাবর্তনই হচ্ছে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক আরিফ উল্লাহর সংগ্রামী জীবন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার ক্ষুরধার লেখনী, অগ্নিঝরা কবিতা আবৃত্তি ও ছন্দময় স্লোগানই আরিফের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

জাতীয়বাদী আদর্শের এ লড়াকু সৈনিক এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে আক্ষেপ করে বলেন, তার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বর্তমান তার করুণ জীবনের গল্প। তিনি বলেন, জিয়ার আদর্শের আপসহীন অবস্থান ও লড়াকু অবস্থানের কারণে তিনি বারবার হামলা-মামলার শিকার হন।

বিজ্ঞাপন

জেল-জুলুম থেকে রক্ষা পাননি শিশু ভাতিজাও। বিশেষ করে ১/১১ এর সময়ে জিয়া পরিবারের প্রতি বিরল ভালোবাসা স্থাপন, ২০০৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দির প্রতিবাদ, ২০০৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে জরুরি অবস্থা ভেঙে মিছিল করেন তৎকালীন ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আরিফ উল্লাহ। তিনি ‘দেশনেত্রীর মুক্তি চাই’ ও পিলখানা ট্র্যাজেডিতে ‘বাকরুদ্ধ জাতি’ শিরোনামে কবিতা ও পত্রিকায় কলাম লিখে, কলম যুদ্ধ চালিয়ে যান।

২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয় তার আলোচিত গ্রন্থ ‘ডিজিটাল ভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশ।’ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। একই বছরের এপ্রিল মাসে ইলিয়াস আলীকে গুমের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে রাজপথে ক্রিকেট খেলে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি পালন করেন।

ক্ষুব্ধ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর হুমকিতে ঘর ছাড়া আরিফকে না পেয়ে ক্ষোভে ১৩ বছরের শিশু কোরআনের হাফেজ তার ভাতিজা তাজদিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ অমানসিক নির্যাতন করে। পরে একমাসেরও বেশিদিন কারাবন্দি করে রাখে শিশু ভাতিজাকে। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি প্রতিরোধ করতে গেলে, তাকে দোতলা থেকে নিচে ছুড়ে ফেলে দিলে আরিফের শরীরের দুটি হাঁড় ভেঙে যায়।

পরে তার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিস্ফোরক আইনের পৃথক মামলায় আসামি হয়ে জীবন বাঁচাতে কৌশলে দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে নির্বাসিত হন আরিফ । প্রাণে বাঁচতে নিজের গড়া একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ফেলে সৌদি আরবে যেতে বাধ্য হন।

এভাবেই শহীদ জিয়ার আদর্শ ও জিয়া পরিবারের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণে আরিফ ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়েন।

গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রবাসে আরিফ অসুস্থ হয়ে পড়লে, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি নিঃস্ব হাতে দেশে ফিরে নির্বাচনি কাজে সম্পৃক্ত হন। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নিজের জমি বিক্রি করে ঢাকা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ডা. সাইফ উদ্দিনের কাছে চিকিৎসা নেন।

আমার দেশকে আরিফ বলেন, ‘তার স্বপ্ন ছিল- হাসিনার পতন ঘটিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরা। আলহামদুলিল্লাহ তারেক রহমান দেশে ফিরে জনগণের ভোটে এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।’ জিয়া পরিবারের জন্য এতটা ত্যাগ স্বীকার করেও দলে তার কোনো পদবি নেই। দলের কেউ তার খবরও নেয়নি।’

জিয়া পরিবারের প্রতি তার আমরণ ভালোবাসা অব্যাহত থাকবে, জানিয়ে আক্ষেপ করে আরিফ বলেন, যে কবিতা আবৃত্তি করার কারণে মামলার শিকার হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, সেই কবিতাটি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চান। ‘জিয়া পরিবারের জন্য জীবনের ঝুঁকি নেওয়া’ এই পরীক্ষিত নেতার আকুতি ও আর্তনাদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বারের জন্য সাক্ষাৎ পাওয়া। তবেই তার এ সংগ্রাম পূর্ণতা পাবে বলে তিনি আশায় বুক বেঁধেছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...