বগুড়া সিটিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর, সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় সড়ক

সবুর শাহ্ লোটাস, বগুড়া

বগুড়া সিটিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর, সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় সড়ক

বগুড়া শহরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয়েছে সম্প্রতি। তবে দীর্ঘদিন ধরে সিটির ড্রেনেজব্যবস্থা সংস্কার না করার কারণে হালকা বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় বেশির ভাগ সড়ক। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে শহরবাসী।

গত সোমরার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন সড়কে কোমর সমান পানি জমে যায়, সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ সময় ধরে চলা বৃষ্টিতে শহরের সাতমাথা, কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, শেরপুর সড়ক, পার্ক রোড, স্টেশন রোড, খান্দার সড়ক, গালাপট্টি, টেম্পল রোড, ফতেহ আলী বাজার, চকযাদু, কাটনারপাড়া, বড়গোলাসহ প্রধান সড়কগুলো পানিতে ডুবে যায়।

নগরবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ ১৯ বছরেও বগুড়া পৌর এলাকায় কোনো সুনির্দিষ্ট উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। নালাগুলো সরু এবং অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন না হয়ে রাস্তায় জমে থাকে। বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গেই শহরজুড়ে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। এতে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও যানবাহনের চালকেরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

বগুড়া সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহরের কিছু এলাকায় ড্রেন সংস্কার করা হয়েছে। যেসব জায়গায় সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সাময়িক ড্রেন পরিষ্কার করেই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

বগুড়া সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকায় প্রায় ৯৯১ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে কাঁচা সড়ক ৩৫৫ কিলোমিটার। যে পরিমাণ সড়ক রয়েছে, সে তুলনায় প্রয়োজনীয় ড্রেন নেই। পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডে ড্রেনের দৈর্ঘ্য মাত্র ৯০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৪০০ কিলোমিটার কাঁচা। শহরের পুরোনো ১২টি ওয়ার্ডের ড্রেনের প্রশস্ততা মাত্র দুই ফুট হওয়ায় ময়লা-আবর্জনায় ড্রেনগুলোর পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা কমে গেছে অনেক আগেই। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে ড্রেনের ময়লা পানি উপচে শহরে দুর্গন্ধ ছড়ায়। তখন ওই পথ দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পচা-নোংরা পানির মধ্যে হাঁটাচলা করতে হয় পৌরবাসীকে। আবার বৃষ্টি হলেও রাস্তাঘাট ও ড্রেনের পানি একাকার হয়ে যায়। এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে পাঁচ-সাত ঘণ্টার জলাবদ্ধতা থেকে যায়।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন বলেন, ড্রেনেজ সমস্যা দূরীকরণের কাজ চলমান। বৃষ্টির কারণে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী বছরের মধ্যে ড্রেনেজ সমস্যা সমাধান করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন