পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের খুঁটা জালে দুই কেজি ওজনের একটি বড় ইলিশ ধরা পড়েছে। মাছটি বাজারে ৭ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মঙ্গলবার বিক্রির জন্য মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে আনা হলে ঘরামী ফিশের পরিচালক জয়লান ঘরামী নিলামে ৩ হাজার ৬২৫ টাকা কেজি দরে মোট ৭ হাজার ২৫০ টাকায় এটি কিনে নেন। এর আগে ভোররাতে সাগরে মাছটি ধরা পড়ে।
জেলে সোহেল খান জানান, প্রায় তিন বছর পর তাঁর জালে এত বড় ইলিশ ধরা পড়ল। তবে উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় আগের তুলনায় ইলিশের পরিমাণ অনেক কমেছে। ট্রলিং জালে ছোট-বড় ও গুঁড়া মাছ নির্বিচারে ধরার ফলেই সাগরে ইলিশের সংখ্যা কমছে বলে দাবি করেন তিনি।
ক্রেতা জয়লান ঘরামী জানান, তিনি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মণ দরে মাছটি কিনেছেন। বাজারে এখন এ ধরনের বড় ইলিশ খুব কমই পাওয়া যায়। তাই শখ করে নিলামে মাছটি কিনেছেন তিনি। মাছটি বিক্রির জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ী নেছার উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা কেজি দরে ইলিশ কেনা সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত কঠিন। আগে সাধারণ মানুষের পাতে বছরে অন্তত দু-একবার ইলিশ জুটলেও এখন সেটি অনেকটাই স্বপ্নের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ও বরিশাল গেট রেস্টুরেন্টের পরিচালক বাবু জানান, এত চড়া দামে বড় ইলিশ কিনে রেস্টুরেন্টে বিক্রি করা বেশ কঠিন। বেশি দামে মাছ কেনার কারণে পর্যটকদের কাছেও উচ্চমূল্যে খাবার পরিবেশন করতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে ছোট আকৃতির ইলিশ প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা, কিছুটা বড় ইলিশ ১ হাজার টাকা, মাঝারি আকারের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং বড় আকারের রাজা ইলিশ ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজিব সরকার বলেন, ছোট ইলিশের অপরিকল্পিত আহরণ, নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইস গেটের কারণে মাছের স্বাভাবিক অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং কার্যকর সহ-ব্যবস্থাপনার অভাবে বড় ইলিশের সংখ্যা কমছে। পাশাপাশি পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু ও লবণাক্ততার পরিবর্তনের কারণেও ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী জানান, সাগরে এ ধরনের বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়া অত্যন্ত ভালো খবর। এটি সরকারের দেওয়া পূর্বের নিষেধাজ্ঞার সুফল হতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

