বন্যায় মাটিচাপা বই, মেয়ের পড়াশোনা নিয়ে শঙ্কায় মা

বন্যায় মাটিচাপা বই, মেয়ের পড়াশোনা নিয়ে শঙ্কায় মা

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় অর্ধশতাধিক কাঁচা মাটির ঘর তলিয়ে গেছে। অন্যান্য মালামালের সঙ্গে ভেসে ও মাটিচাপা পড়ে নষ্ট হয়েছে অসংখ্য শিক্ষার্থীর বইপুস্তক। ফলে বইয়ের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক শিক্ষার্থীর লেখাপড়া।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে কাথরিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাইমাঝিপাড়ায় দিনমজুর মাহমুদুল হকের স্ত্রী মিনু আক্তারের সঙ্গে কথা হয়। তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা সাতজন। স্বামী দিনমজুরি করে সংসার চালান। সাম্প্রতিক বন্যায় সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।

মিনু আক্তার বলেন, আমাদের পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে বড় মেয়েটি কাথরিয়া স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট ছেলে মাদরাসায় পড়ে। অন্যরা এখনো ছোট। হঠাৎ বন্যায় আমাদের বাড়িটি ভেঙে যায়। কোনো জিনিসপত্র বের করার সুযোগ পাইনি। মেয়ে ও ছেলের বইপত্রও বের করা সম্ভব হয়নি। বইগুলো মাটিচাপা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। বইয়ের অভাবে কয়েকদিন ধরে তারা স্কুলে যেতে পারছে না।

মিনু আরো বলেন, আমার ও ভাসুরের দুই পরিবার মিলে এ বাড়িতে আরো ১২ জন বসবাস করতাম। বন্যার পর বর্তমানে আমরা এক দেবরের বাড়িতে কোনো রকমে দিনযাপন করছি। শুকনো খাবার পেলেও বড় ধরনের কোনো সহযোগিতা পাইনি।

ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার আগ্রহ থাকলেও বইপুস্তক নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মেয়ের লেখাপড়া নিয়ে শঙ্কিত মিনু। তিনি বলেন, অনেকে অনেক রকম সাহায্য করছে। কিন্তু কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে কেউ কি ভাববেন?

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা নিয়ে শিক্ষা অফিসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন