আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

যশোরের ছয় আসন

বিএনপি বরাবরই শক্তিশালী, এবার জামায়াতও আশাবাদী

আহসান কবীর, যশোর

বিএনপি বরাবরই শক্তিশালী, এবার জামায়াতও আশাবাদী

যশোরে নির্বাচনের মাঠে ঐতিহ্যগতভাবে প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও আওয়ামী লীগ। তৃতীয় শক্তি হিসেবে দীর্ঘদিন অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

গুম, খুন ও সীমাহীন মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী আওয়ামী লীগ জুলাই বিপ্লবের পর দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গেছে। এ কারণে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুখোমুখি হতে চলেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। দৃশ্যত বড় দল বিএনপির আধিপত্য খর্ব করে আসন ছিনিয়ে নেওয়ার কৌশলে এগোচ্ছে জামায়াত।

বিজ্ঞাপন

যশোরের বেশিরভাগ আসনে বিএনপিতে রয়েছে অন্তর্কোন্দল। দলটির নেতৃস্থানীয়রা মনে করেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর সবাই মিলে মাঠে নামবেন।

এদিকে ৫ আগস্টের পর থেকেই কিছু নেতাকর্মীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে বিএনপির ভাবমূর্তি যথেষ্ট ক্ষুণ্ণ করেছে। যদিও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ব্যবস্থা নিয়ে আসছে বিএনপি। তা সত্ত্বেও ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ হবে না ধরে নিয়েই সে সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে জামায়াত। তবে কোনো কোনো আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের পরিচিতি কম, গণসংযোগ গণ্ডিবদ্ধ। বিএনপি এটিকে তাদের সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করছে।

প্রধান দুই দলের বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক অবস্থান থাকলেও তা কোনো আসনে জিতে আসার মতো নয়।

রাজনীতির নয়া বন্দোবস্তের আশা জাগিয়ে আবির্ভূত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাংগঠনিকভাবে গুছিয়ে ওঠার চেষ্টায় মরিয়া। আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকারী হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টিও বিলীন হওয়ার পথে। আর একসময়ের বাম প্রভাবিত এলাকাটিতে ভোটের মাঠে শক্তি দেখানোর মতো অবস্থায় নেই সমাজতন্ত্রীরা। সামগ্রিক বিবেচনায় যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনেই এবার বিএনপি-জামায়াত সরাসরি লড়াই হবে বলে মনে করছে জেলাবাসী।

যশোর-১ (শার্শা)

ভারত সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলা নিয়ে এ আসনটি গঠিত। গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতÑদুদলের জনসমর্থনই উল্লেখযোগ্য। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী ছিলেন মাওলানা আজীজুর রহমান। এবারও জামায়াত তাকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে।

এ আসনে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন দলটির সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি। এবারও তিনি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অগ্রগণ্য। এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন পেতে সক্রিয় আছেন শার্শা উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু, সভাপতি আবুল হাসান জহির ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন।

মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতাদের রয়েছে নিজস্ব অনুসারী গোষ্ঠী। প্রায়ই তারা পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে, ঝরছে রক্তও।

দলীয় এই কোন্দল নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে কি-না জানতে চাইলে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সব নেতাই একবাক্যে ‘না’ সূচক জবাব দিয়েছেন। মফিকুল হাসান তৃপ্তি বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাই তার জন্য মাঠে-ময়দানে কাজ করবে।

নুরুজ্জামান লিটন মনে করেন, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, তবে আদর্শিক বিরোধ নেই।

জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, নির্বাচন এগিয়ে এলে নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাবেন। তা না হলে দল বিকল্প চিন্তা করবে।

শার্শার বোয়ালিয়া গ্রামের ৩২ বছর বয়সি প্রকৌশলী মো. শাহজালাল এখনও কোনো নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। এই তরুণ পেশাজীবীর আকাঙ্ক্ষাÑসৎ, শিক্ষিত, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিকদের যেন প্রার্থী করা হয়।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা)

দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন অন্তত ৫ নেতা। তারা হলেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপি সভাপতি সাবিরা নাজমুল মুন্নি, যশোর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসহাক, যশোর চেম্বার সভাপতি মিজানুর রহমান খান, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম এবং ঝিকরগাছার সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদকে।

আসনটিতে ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের পক্ষে জামায়াতের মুহাদ্দিস আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদাৎ হুসাইন এমপি হন। তার মৃত্যুর পর অধ্যাপক আরশাদুল আলমকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সামনে আনা হয়। কিন্তু মাস তিনেক আগে প্রার্থিতা বদলে দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রার্থিতা নিয়ে দলের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে মত রয়েছে। আরশাদুল আলম প্রায় তিন বছর ধরে ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গণসংযোগে ছিলেন। কিন্তু যুক্তরাজ্য থেকে ‘আমদানি করা’ অপরিচিত প্রার্থীকে দিয়ে বৈতরণী পার হওয়া চ্যালেঞ্জিং। তবে কঠোর শৃঙ্খলা মেনে চলতে অভ্যস্ত নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে বাইরে মুখ খুলছেন না। স্বয়ং আরশাদুল আলমও বলছেন, দলের সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নিয়েছেন।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ পর্যন্ত দুজনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারে বলে দলীয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। সাবিরা নাজমুল মুন্নির স্বামী ফ্যাসিবাদী সরকারের গুম ও হত্যার শিকার নাজমুল ইসলাম। এই নারী বলছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে আর্থিক সততার ব্যাপারে তার সুনাম রয়েছে। দল নিশ্চয়ই তার পরিবারের ত্যাগের কথাটিও বিবেচনায় রাখবে।

মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ঝিকরগাছা-চৌগাছাবাসী ও নেতাকর্মীদের পাশে থাকায় নিশ্চয় দল মূল্যায়ন করবে।’

মিজানুর ও সাবিরার কথা, যাকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হোক না কেন, সবাই মিলে তার পক্ষে নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী স্থানীয়, নাকি উড়ে আসাÑ তা বিচার করবেন ভোটাররা।

জনগণের ভাগ্য বদল তথা আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেন, রক্ত চুষে খাবেন নাÑএমন প্রার্থী দেখতে চান চৌগাছার চাঁদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কলেজশিক্ষক মো. আবু জাফর।

যশোর-৩ (একটি ইউনিয়ন বাদে যশোর সদর)

জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটিতেই বিএনপির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। দলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অমিত বিএনপি স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে। দলীয় রাজনীতি শুরুর পরপরই এই তরুণ নেতা শুধু যশোর নয়, খুলনা বিভাগের রাজনীতিতে সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

তুমুল জনপ্রিয় এই তরুণ নেতার বিরুদ্ধে লড়তে উপযুক্ত প্রার্থী সংকটে রয়েছে জামায়াত। জেলার এই একটি আসনেই এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি। তারা এমএম কলেজের সাবেক ভিপি ও বর্তমানে গার্মেন্ট ব্যবসায়ী আব্দুল কাদেরকে প্রথমে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় নেয়। তবে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. শেখ মহিউদ্দিনও এই আসনে লড়তে পারেন বলে দলীয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। আব্দুল কাদের দীর্ঘদিন যশোরের বাইরে অবস্থান করেন। আর ডা. মহিউদ্দিন রাজনীতিতে সক্রিয় নন। এ দুজনের মধ্যে যাকেই প্রার্থী করা হোক না কেন, তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারবেন কি নাÑসেই দ্বিধায় রয়েছে জামায়াত।

যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় দলের রুকন ও কর্মী-সমর্থক অনেক বেড়েছে। ফলে যাকেই প্রার্থী করা হোক না কেন, ভালো ফল হবে বলে তারা আশাবাদী।

প্রার্থীকে নিয়ে প্রত্যাশার বিষয়ে যশোর শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, প্রার্থীর চরিত্র, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তাই তার রাজনৈতিক দলকেও দেশপ্রেমিক হতে হবে।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া, অভয়নগর ও সদরের একাংশ)

এ আসনে বিএনপিই সবচেয়ে বড় শক্তি। ২০০৮-এর বিপর্যয়কর ফলাফলের সময়ও এ আসনের বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী তালহা শাহরিয়ার (টিএস) আইয়ুব জেলার ছয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে ‘ক্লোজ ফাইটে’ ছিলেন। সেই আইয়ুব এবার দলের একাংশের বিদ্রোহের মুখে রয়েছেন। অভয়নগর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফারাজী মতিয়ার রহমান নিজে প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে নেমে দলের আইয়ুববিরোধী অংশকে এক মঞ্চে আনার চেষ্টা করছেন। তাদের তৎপরতা রাজনৈতিক ভব্যতার সীমা লঙ্ঘন করছে বলে বিরক্ত বিএনপি কর্মীরা টিএস আইয়ুবের পেছনেই জড়ো হচ্ছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘পলিটিক্যাল কালচার রক্ষায় ব্যর্থ কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, ভব্যতা লঙ্ঘনে অভিযুক্ত অভয়নগর ও বাঘারপাড়ার কয়েক নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। জেলা সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, অভিযুক্তরা ক্ষমা চেয়ে জবাবও দিয়েছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংকট সমাধান করে সবাই মিলে নির্বাচনি মাঠে নামা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলকে দলীয় প্রার্থী করেছে। তিনি ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করেছেন।

বাঘারপাড়ার ৪৩ বছর বয়সি মো. আব্দুর রহমান তুষার কোনো নির্বাচনে ভোট দেননি। এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার প্রত্যাশায় থাকা এই চাকরিজীবী বলেন, সৎ ও শিক্ষিত প্রার্থী তার পছন্দের শীর্ষে থাকবেন।

যশোর-৫ (মনিরামপুর)

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে। বিএনপির অন্তর্কোন্দলকে কাজে লাগাতে পারলে জামায়াতের ভালো করার সম্ভাবনা আছে। তবে অন্তর্কোন্দল মেটাতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন জেলা ও উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা। ইতোমধ্যে ‘চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী’ ইকবাল-মুছাকে এক মঞ্চে দেখাও গেছে। কোন্দল না মিটলে ইকবাল-মুছাকে বাদ দিয়ে জেলার কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার সুপারিশ করা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।

এ আসনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিন্দু ভোটার। ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা প্রশ্নে সাধারণ হিন্দু ভোটাররা বিএনপি প্রার্থীর পক্ষেই থাকবেন বলে দলটির দায়িত্বশীলদের ধারণা।

২০১৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া শহিদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন আসছে নির্বাচনেও সম্ভাব্য প্রার্থী। তার ‘চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী’ মোহাম্মদ মুছা ছাড়াও এবার দলীয় টিকিটের দাবিদার আসনটির সাবেক সংসদ সদস্য আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর ছেলে ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু এবং সাবেক ছাত্রনেতা ইফতেখার সেলিম অগ্নি।

আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী মনোনয়ন দিয়েছে আইনজীবী নেতা গাজী এনামুল হককে। অনেক আগে থেকেই তিনি নির্বাচনি মাঠ প্রস্তুতে সময় দিচ্ছেন।

এ ছাড়া ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের টিকিটে নির্বাচিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রয়াত নেতা মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাসের ছেলে মাওলানা আব্দুর রশিদ এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

তবে উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের বাসিন্দা গাড়িচালক আব্দুল্লাহ আল হাদি জাফর বলেন, ভদ্র, মার্জিত, এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা পালন করতে সক্ষম ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া উচিত।

যশোর-৬ (কেশবপুর)

আওয়ামী গডফাদার শাহীন চাকলাদার ও হাতুড়ি বাহিনীর প্রধান আজিজুল ইসলাম এই আসন থেকে পরপর এমপি হয়ে স্থানীয় মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলেন। এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সম্পর্কহীনÑএমন প্রার্থী খুঁজছে সাধারণ মানুষ। সে ক্ষেত্রে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ ও জামায়াতের অধ্যাপক মো. মুক্তার আলীর মধ্যে লড়াই জমে উঠবে বলে ভোটারদের ধারণা।

জামায়াত অধ্যাপক মুক্তারের নাম ঘোষণা করলেও বিএনপি এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। ২০১৮ সালের প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদের বাইরে দলের কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু আসনটিতে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।

আবুল হোসেন আজাদ বলেন, কেশবপুর বিএনপির সব নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারের সঙ্গে তার সম্পর্ক সরাসরি। দলীয় মনোনয়ন পেলে ফলাফল তার পক্ষেই আসবে বলে বিশ্বাস আজাদের।

জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মো. মুক্তার আলী দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে নিয়ে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। তিনিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

ব্যাংকার ও কবি খসরু পারভেজ জানান, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি সৎ ও আদর্শবান প্রার্থীকে দেখতে চান।

অন্যান্য দলের অবস্থান

এদিকে প্রধান দুদলের বাইরে যশোরের আসনগুলোতে নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের। দলটি এককভাবে নির্বাচনে গেলে যশোরের সবকটি আসনে প্রার্থী দেবে। দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন জানান, তারা প্রার্থী নির্বাচনের কাজ করছেন।

৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক দল এনসিপি এখনো যশোরে সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করাতে পারেনি। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল বলেন, জেলা কমিটি গঠনের পর দলের প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া এগোবে।

একসময়ের বাম প্রভাবিত যশোরের ভোটের ময়দানে সমাজতন্ত্রীদের অবস্থান ক্রমশ অপসৃয়মাণ। জানতে চাইলে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ থাকলে তারা অংশ নেবেন।

(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন চৌগাছা প্রতিনিধি রহিদুল ইসলাম খান, কেশবপুর প্রতিনিধি ওয়াজেদ খান ডবলু, ঝিকরগাছা প্রতিনিধি ইলিয়াস উদ্দীন, বেনাপোল প্রতিনিধি রোকনুজ্জামান রিপন এবং অভয়নগর প্রতিনিধি এসএম মুজিবর রহমান)

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন