দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার

আমার দেশ অনলাইন

দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামাবাদে আবারো একটি সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রাজধানী শহরজুড়ে ইতোমধ্যে ১০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকে আরো ১০ হাজার অতিরিক্ত ফোর্স যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শুক্রবার ইসলামাবাদ পুলিশের মহাপরিদর্শকের নির্দেশে শহরজুড়ে বিশেষ তল্লাশি ও কম্বিং অপারেশন শুরু হয়েছে। শহরের প্রবেশ ও বাহির পথে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং টহল ইউনিটের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনালগুলোয় চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দেশটির প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা এই ‘ঐতিহাসিক’ আয়োজনে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানাতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্যারা-মিলিটারি ফোর্স ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে পুরো শহরকে একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

যদিও পরবর্তী বৈঠকের সঠিক তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, পরমাণু ইস্যুতে একটি বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে তেহরান থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত কূটনীতিকরা নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

ইসলামাবাদ মনে করছে, এই সংলাপের মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। আর সেই লক্ষ্যেই বিশ্বনেতাদের জন্য এক নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে পাকিস্তান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যের পর এই প্রস্তুতি শুরু হয়। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহ শেষে ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে। এর আগে গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ওই বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধের পর চলতি মাসের শুরুতে হওয়া দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২১ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, কোনো চুক্তি সই হলে তিনি নিজে ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন।

বর্তমানে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরানে এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের নেতাদের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র : আল-জাজিরা, আরব নিউজ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন