নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জাসমিন আহমেদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।
রোববার সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অভিভাবকরাও একাত্মতা প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বোর্ড নির্ধারিত ফির নিয়ম না মেনে বিভিন্ন শ্রেণিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তাদের অভিযোগ, ষষ্ঠ শ্রেণিতে বোর্ড ফি ২৩৩ টাকা এবং অষ্টম শ্রেণিতে ২৮২ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যথাক্রমেÑ ৩০০ ও ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি ৯৮ টাকা নির্ধারিত থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ২০০ টাকা। বার্ষিক ভোজ ও টিফিন বরাদ্দের অর্থ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত মানসম্মত টিফিন দেওয়া হয় না। বিস্কুট দিয়ে বার্গারের ভাউচার করা হয়। সাড়ে ৯ টাকা মূল্যের টিফিন ১৮ টাকা দেখিয়ে ভাউচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
তারা আরো অভিযোগ করে, পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা বলে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও দুই বছর পার হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের এখনো পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আবুল হায়াত বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষক জাসমিন আহমেদ তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করেন । তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

