কুমিল্লায় চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগ হয়নি ৬ প্রাথমিক শিক্ষকের

কুমিল্লায় চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগ হয়নি ৬ প্রাথমিক শিক্ষকের
ছবি: আমার দেশ

চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েও কুমিল্লায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাননি ছয় প্রার্থী। এর মধ্যে বাদ পড়া লাকসাম উপজেলার ওমর ফারুক একজন গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ।

কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বলছে, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে বাদ পড়া প্রার্থীদের দাবি, নিয়োগের সব শর্ত পূরণ করার পরও শেষ মুহূর্তে তাদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগে মোট ৫০৮ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৪৭৭ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয়জন নিয়োগ পাননি।

নিয়োগ না পাওয়া ছয়জন হলেন, জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার ওমর ফারুক, বুড়িচং উপজেলার সাইদুল ইসলাম, লাকসাম উপজেলার ওমর ফারুক, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার তাহমিনা আক্তার রিতা, মুরাদনগর উপজেলার আহসান হাবীব ও তিতাস উপজেলার মাইন উদ্দিন।

২০২৫ সালে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২১ জানুয়ারি মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্তভাবে প্রার্থীদের সুপারিশ করা হয়।

বাদ পড়া লাকসাম উপজেলার ওমর ফারুক একজন গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।

ওমর ফারুক বলেন, ‘আমি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাইনি। উপজেলার অন্যদের নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কাজ বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমি কোনো নেতা নই। আমার স্থায়ী ঠিকানা, স্বাস্থ্য সনদ ও ডোপ টেস্টের রিপোর্টও ঠিক আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি হার্ট অ্যাটাক করেছেন। আমার অসুস্থ মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান চাকরির আশায় অপেক্ষা করছে। বাবা-মা খুব উদ্বিগ্ন। সরকারের কাছে আমার আবেদন, বিষয়টি যাচাই করে আমাকে নিয়োগপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাদ পড়া আরেক প্রার্থী বলেন, ‘৪৭১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের ছয়জনকে দেওয়া হয়নি। কেন দেওয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে আমরা পরিষ্কারভাবে কিছু জানতে পারিনি।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনসুর আলী চৌধুরী ‘আমার দেশ’কে বলেন, ‘কুমিল্লা থেকে ৫০৮ জনকে সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৭৭ জন কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। আমরা ৪৭১ জনকে নিয়োগ দিয়েছি। বাকি ছয়জন বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনের কারণে বাতিল হয়েছে। কারও নামে মামলা থাকতে পারে, আরও বিভিন্ন কারণে বাদ হয়ে থাকতে পারেন।’

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন