মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েতে ড্রোনের আঘাতে নিহত সন্দ্বীপের প্রবাসী মো. জাহেদের লাশ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুণছে তার পরিবার। কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, লাশ পাঠানোর যাবতীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। আইনি জটিলতা এবং ফ্লাইট চলাচলের অনিশ্চয়তায় বিদেশের মাটিতেই আটকে আছে এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার লাশ।
প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক আতিকুল ইসলাম আমার দেশকে জানিয়েছেন, লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। কফিনটি প্রথমে ঢাকা বিমানবন্দরে নামবে এবং সেখান থেকে সরাসরি সন্দ্বীপে পৌঁছাবে। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে সরকারি আর্থিক অনুদান ও বীমার টাকা প্রদান করা হবে।
নিহত জাহেদের বড় ভাই বাবলু কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে আমার দেশকে জানান, দূতাবাস থেকে নিয়মিত তাদের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন দূতাবাস কর্মকর্তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাঠানোর সব চেষ্টা তারা করছেন।
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা জানান, লাশ দেশে কবে নাগাদ পৌঁছাবে সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে এবং উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কুয়েতে উট চড়ানোর সময় পার্শ্ববর্তী একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা হলে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন জাহেদ। অভাবের তাড়নায় প্রতিবন্ধী শিশু সন্তান জিসানকে রেখে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।
দীর্ঘ আড়াই বছরের প্রবাস জীবনে জাহেদের বড় আক্ষেপ ছিল অর্থাভাবে ছেলের আকিকা দিতে না পারা। স্বজনরা জানান, জাহেদের স্বপ্ন ছিল এবারের ঈদের পর বাড়ি ফিরে ছেলের আকিকা দেবেন। কিন্তু যুদ্ধের ভয়াবহতা সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। পরিবারটির এখন একটাই আকুতি- দ্রুত যেন সব আইনি জটিলতা শেষ করে জাহেদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

