আর্থিক সহায়তাসহ নিহতের স্ত্রীকে চাকরির আশ্বাস ডেপুটি স্পিকারের

সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচার দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ

সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচার দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে জেগে ওঠেছে সারা দেশের সাংবাদিক সমাজ। তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচারে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন ।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনার দুর্গাপুরে চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অপূর্ব নামের এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে দুর্গাপুর বাজারের পুরাতন সিনেমা হলের পাশ থেকে তাকে আটক করা হয়। দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামির নাম অপূর্ব (২২), তার বাবার নাম শমশের আলী। এর আগে সে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের চাঞ্চল্যকর এক পুলিশ হত্যা মামলার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া এক অন্যতম আসামি। পুলিশ সূত্রে আরো জানা যায়, মূলত আলিফকে হত্যা করতে গিয়ে হামলাকারীরা ভুলবশত আলিফের চেহারার সঙ্গে মিল থাকা এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। অপূর্ব পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিল। পুলিশের গোপন সোর্সের মাধ্যমে রাত ১২টার পর তার গতিবিধি ও অবস্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে ওত পেতে থাকা পুলিশের বিশেষ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের পেছনে পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি চক্র সরাসরি জড়িত ছিল। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিআইডি ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বিত টিম এ হত্যার সঙ্গে জড়িত। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে আমার দেশকে জানিয়েছেন একাধিক দায়িত্বশীলরা।

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, হত্যাকাণ্ডের শিকার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার পক্ষ থেকে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং নিহত সাংবাদিকের স্ত্রীর কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শনিবার বিকালে উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুঞ্জিয়া গ্রামে নিহত সাংবাদিকের শ্বশুরবাড়িতে যান স্থানীয় বিএনপি নেতারা। এ সময় নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমার হাতে ডেপুটি স্পিকারের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা ও সন্তানদের পোশাক তুলে দেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত বিএনপি সহসভাপতি এমএ জিন্নাহ, সহসভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ শহিদুল্লাহ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জামাল উদ্দিন মাস্টারসহ আরো অনেকে।

উপজেলা প্রতিনিধি, মদন (নেত্রকোনা) জানান, নেত্রকোণার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নেত্রকোণার মদন উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকরা। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার এবং ১৫ দিনের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করার আল্টিমেটাম দেন তাঁরা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা।

রোববার দুপুরে মদন উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের উদ্যোগে ক্লাব প্রাঙ্গণসংলগ্ন মদন-কেন্দুয়া সড়কে এ মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।

মদন উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি নূরুল হক রনুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক দিনকালের প্রতিনিধি মো. সাকের খানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ক্লাবের সহসভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি তোফাজ্জল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কালের কণ্ঠের আঞ্চলিক প্রতিনিধি ফয়েজ আহমেদ হৃদয়, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি নিজাম তালুকদার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি আলী আজগর পনির, অর্থ সম্পাদক ও প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি নূর মুহাম্মদ জরিপ এবং সম্মানিত সদস্য ও দৈনিক সংগ্রামের প্রতিনিধি জাকির হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য সাংবাদিক।

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে নূরুল হক রনু বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে হত্যার আগেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে মর্মে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল অপূর্ব নামের একজন আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আমরা সরকার ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সকল আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ১৫ দিনের মধ্যে বিচারকার্য নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।”

সাংবাদিক নেতারা বলেন, একজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড শুধু একজন সংবাদকর্মীর জীবন কেড়ে নেয় না, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।

বক্তারা অবিলম্বে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।

কর্মসূচি থেকে সাংবাদিক নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুলবাড়ীয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা মানববন্ধন করেছেন। গতকাল রোববার সকালে ফুলবাড়ীয়া প্রেস ক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, ফুলবাড়ীয়া প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি মো. আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হালিম, আল আমিন, হাফিজুল ইসলাম স্বপন, হেলাল উদ্দিন উজ্জল প্রমুখ।

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। শনিবার বেলা ১১টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ম. কিবরিয়া চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল, আবুল কালাম, তানভীর হায়াত খান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী। সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক সঞ্জয় সরকার।

ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ মাসুমের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহিম। সমাবেশে বক্তারা সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যার বিচার, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় মুক্তাগাছা প্রেস ক্লাবের সামনে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে মুক্তাগাছা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা অংশ নিয়ে সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মুক্তাগাছা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক ইমাম উদ্দিন মুক্তা, সদস্য সচিব ফেরদৌসি আলম, প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিক সরকার ও এম ইদ্রিস আলী প্রমুখ।

‎ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে ধোবাউড়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য দেন-উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান মানিক, যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, সাংবাদিক আবুল হাশেম, কবির উদ্দিন, শামসুল হক মৃধা, আজহারুল ইসলাম প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরে জনস্বার্থে কাজ করেন। একজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন