অনলাইন গ্রোসারি শপ ‘চালডাল ডটকম’-এর কল সেন্টারের কর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। বকেয়া বেতনের দাবিতে গতকাল সোমবার দুপুরে তারা যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের মেইন গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিক্ষোভ করে। বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কল সেন্টারের প্রায় ৬০০ কর্মীর বেতন গত তিন মাস ধরে বকেয়া রয়েছে। বেতন চাইলেই ম্যানেজমেন্ট টালবাহানা শুরু করে। ইতোমধ্যে চালডাল যশোরে তাদের ওয়্যারহাউজ বন্ধ করে দিয়েছে জানিয়ে তারা এই পদক্ষেপকে অশনিসংকেত হিসেবে বিবেচনা করছে।
যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের দুটি ফ্লোর- ১২ ও ১৪ তলায় চালডালের বিশাল কল সেন্টারটি অবস্থিত। এখানে কর্মরত শারমিন আক্তারসহ বেশ কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত তিন মাস ধরে তারা কোনো বেতন পাচ্ছেন না। দুই একজনের বেতন আংশিক দেওয়া হলেও বেশিরভাগ কর্মী বেতনহীন।
ভুক্তভোগী কর্মীরা জানান, কাজ করেও বেতন পাচ্ছেন না তারা। ফলে বাসাভাড়া দিতে পারছেন না, ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। অথচ বেতন চাইলে উল্টো চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তবে, কর্মীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চালডালের উপপরিচালক আজিজুর রহমান জিকো। তিনি বলেন, তিন মাস নয়, দুই মাসের বেতন বন্ধ রয়েছে। আমরা ডিসেম্বর মাসের বেতন শোধ করে দিয়েছি।
তিনি বলেন, গত এক বছর ধরে আমাদের ফান্ড ক্রাইসিস চলছে। সে কারণে কর্মীদের বেতন সময়মতো দিতে সমস্যা হচ্ছে। তবু কোনো কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়নি। আস্তে আস্তে সবার বেতন শোধ করে দেওয়া হবে।
এর আগে গত রোববার রাতেও চালডালের কলসেন্টারে বিক্ষোভ করেন কর্মীরা। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, কর্মীদের বেতন ধীরে ধীরে পরিশোধ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সঙ্গতি না বাড়লে সংকটের সমাধান হবে না। যেসব কর্মী সাময়িক এই সংকট মানতে পারছেন না, তারা ইচ্ছা করলে বিকল্প ভাবতে পারেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

