গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় বাড়ছে দুর্ভোগ। জানা গেছে, ৩৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ দেড় বছরে শেষ করার কথা থাকলেও তা এখনও শেষ হয়নি। দুই বছরে এ প্রকল্পের পুরো কাজের শেষ হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। এছাড়াও উপজেলার কামদিয়া-ফাঁসিতলা জিসি সড়ক নির্মাণে ২১ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রকল্পের কাজের মেয়াদ ছিল এক বছর। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়িয়ে দেড় বছর করা হলেও এ কাজেরও অগ্রগতি ৪০ শতাংশের বেশি হয়নি।
জানা গেছে, উপজেলার করতোয়া নদী গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহর থেকে দরবস্ত, কাটাবাড়ী ও ফুলবাড়ী ইউনিয়নকে উপজেলা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করেছে। এ নদীর দুই পার্শ্বের হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষেই করতোয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। উল্লিখিত প্রকল্প দুটির নির্মাণ কাজের সময়সীমা বাড়ানোর পরেও কাজের মাত্র ৪০ শতাংশ শেষ হওয়ায় এলাকার অর্থনৈতিক, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশগত দিক থেকে চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মানুষ। এ নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কামদিয়া-ফাঁসিতলা জিসি সড়কের কাজে ৩ নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহার করার ফলে কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
প্রকল্প দুটির নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে জামালপুর সরদারপাড়ার মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিগত ২০২৩ সালের ২৮ মে উক্ত প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে তা ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও এ কাজের কোনো অগ্রগতি নেই বললেই চলে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মোকাব্বর হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কিছু ত্রুটি থাকলেও এর কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু যথা সময়ে কাজের বিল উত্তোলন করতে না পারার ফলে কাজ শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে অতি অল্প সময়ের মধ্যে এ সমস্যা কেটে উঠে কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হবে বলেও তিনি জানান।
অপ দিকে, সড়ক নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা আলী আজগর জানান, কাজ করার পরও সঠিক সময়ে কাজের বিল পেতে কিছুটা সময় লাগার ফলে কাজ করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুল হক আমার দেশকে বলেন, উপজেলার নির্মাণাধীন কাইয়াগঞ্জ সেতুর কাজ বিভিন্ন কারণে বেশ কিছুদিন বন্ধ ছিল- বর্তমানে এ সেতুর নির্মাণকাজ নতুন করে শুরু করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি জানান। এছাড়াও কামদিয়া-ফাঁসিতলা জিসি রোড নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শেষ করতে তাগাদা দেওয়ার ফলে, সেটির কাজও স্বল্পতম সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উক্ত প্রকল্পের কাজ দুটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হওয়ার ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, প্রকল্প দুটির কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ প্রদান করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

